স্বাস্থ্য

বিগত সরকারের গাফিলতিতে হামে বহু শিশুর প্রাণহানি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বিগত সরকারের গাফিলতিতে হামে বহু শিশুর প্রাণহানি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
বিগত সরকারের গাফিলতিতে হামে বহু শিশুর প্রাণহানি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, পূর্ববর্তী সরকারের ৪ বছরের গাফিলতিতে হামের টিকাদান কর্মসূচিতে বহু শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে; বর্তমান সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ এবং অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে হামের টিকাদান কর্মসূচিতে দীর্ঘ চার বছর ধরে গাফিলতি ও বিলম্বের কারণে বহু শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে দেশব্যাপী বিশাল পরিসরে টিকাদান কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে। মন্ত্রী গতকাল শনিবার রাজধানীর বনানীর কড়াইল টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে দ্বিতীয় ধাপে হামের টিকা ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ রাখা এবং ওপেন টেন্ডার সিস্টেমের অজুহাতে বিদেশ থেকে ভ্যাকসিন আমদানিতে পূর্ববর্তী সরকারের দীর্ঘসূত্রতা ও গাফিলতির খেসারত জাতিকে দিতে হয়েছে। এর নির্মম পরিণতিতে অনেক মায়ের বুক খালি হয়েছে। তিনি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে জানান, প্রায় এক কোটি ৮৫ লাখ শিশুর মধ্যে এক হাজারের মতো শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। প্রতিটি শিশুর মৃত্যু সরকারের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও লজ্জাজনক বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই গত ৫ এপ্রিল থেকে তিন পর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে। সর্বশেষ গত ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী এই কর্মসূচি জোরদার করা হয়। এর আওতায় এ পর্যন্ত প্রায় এক কোটি ৮৫ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পেইন থেকে বাদ পড়া আরও ৩৪ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন আরও জানান, ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের জন্য বিশেষ এই টিকাদান কর্মসূচি আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনের জন্য ১০ লাখ টিকা সংরক্ষিত আছে এবং স্বাভাবিক টিকাদান কর্মসূচির সঙ্গে এই টিকা প্রদান অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব ড. আ.ন. ম. বজলুর রশীদ, স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান, ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উপপ্রতিনিধি ডা. রাজেশ নারওয়াল উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...