সারাদেশবিমানমন্ত্রীর অভিযোগ: বিদ্যুৎ প্লান্ট হলেও ছিল না পরিচালনার পরিকল্পনা
বিমানমন্ত্রীর অভিযোগ: বিদ্যুৎ প্লান্ট হলেও ছিল না পরিচালনার পরিকল্পনা
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, পূর্ববর্তী সরকার শুধু বিদ্যুৎ প্লান্ট তৈরি করেছে, কিন্তু পরিচালনার কোনো পরিকল্পনা করেনি। তিনি বিদ্যুৎ ঘাটতি ও অন্যান্য সমস্যা নিয়েও কথা বলেন।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত সম্প্রতি বিদ্যুৎ খাত নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, পূর্ববর্তী সরকার বিদ্যুতের নামে কেবল উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণে মনোযোগ দিয়েছে। তবে এসব বিদ্যুৎ প্লান্ট কীভাবে কার্যকরভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়নি। মন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই বিদ্যুৎ খাত কীভাবে পরিচালিত হবে, যদি বর্তমান সময়েই কোনো সুষ্ঠু পরিকল্পনা না থাকে।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় একটি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথাগুলো বলেন। জনসভাটি দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি যৌথভাবে আয়োজন করে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে। দেওয়ানগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ ছিল এই জনসভার স্থান।
মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, দেশে বিদ্যুতের ঘাটতির পেছনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিষ্ক্রিয়তাও দায়ী। তিনি জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিদ্যুৎ নিয়ে একটিও কার্যকর কাজ করেনি। বিশেষ করে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গ্যাস তৈরিতে ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ মেশিন নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।
সেই নষ্ট মেশিনটি মেরামত করার জন্য কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে মন্ত্রী অভিযোগ করেন। এই মেরামতের অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে, যার ফলস্বরূপ বিদ্যুৎ সরবরাহে বর্তমান ঘাটতি তৈরি হয়েছে। তিনি এই পরিস্থিতিকে দেশের বিদ্যুৎ খাতের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরেন।
এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেছেন। তিনি বলেন, একটি নতুন দেশ গড়ে তুলতে এবং একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র নির্মাণ করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। তিনি জনগণের কাছে এই প্রক্রিয়ায় ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান এবং জানান যে সরকার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করছে।
দেশের বিদ্যমান অন্যান্য সমস্যা নিয়েও মন্ত্রী আলোকপাত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশে সারের সংকট রয়েছে এবং এই সমস্যা সমাধানে সরকার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। প্রতিটি ইউনিয়নে সারের সুব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি ঘোষণা করেন।
মন্ত্রী আরও জানান, চলতি মাস থেকেই সারের ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে। একই সাথে, টিসিবির ডিলারও দেওয়া হবে। এই উদ্যোগগুলোর লক্ষ্য হলো, পূর্বেকার কোনো গোষ্ঠী বা ফ্যাসিবাদী শক্তি যেন দেশের সাধারণ মানুষ বা বাজারের ওপর কোনো ধরনের অন্যায্য প্রভাব বিস্তার করতে না পারে।
এই জনসভায় সভাপতিত্ব করেন দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি শ্যামল চন্দ। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন। এছাড়াও, জেলা পরিষদের প্রশাসন বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ সাদসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন এবং তাদের বক্তব্য প্রদান করেন।
মতামত (0)