রাজনীতি

বিরোধী জোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ শুরু, সরকারকে কড়া বার্তা দেওয়ার লক্ষ্য

বিরোধী জোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ শুরু, সরকারকে কড়া বার্তা দেওয়ার লক্ষ্য
বিরোধী জোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ শুরু, সরকারকে কড়া বার্তা দেওয়ার লক্ষ্য
১১ দলীয় জোট আজ শনিবার ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ শুরু করেছে। তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ সংকট ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে সরকারকে কড়া বার্তা দিতে চায় জোটটি।

১১ দলীয় জোট আজ শনিবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ শুরু করেছে। সরকারবিরোধী এই কর্মসূচি থেকে ক্ষমতাসীনদের প্রতি কড়া বার্তা দিতে চায় জোটটি। তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সার সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং জনদুর্ভোগ বৃদ্ধির প্রতিবাদে এই লংমার্চ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এটি সরকারের ব্যর্থতা এবং গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নে উদ্যোগ না নেওয়ার প্রতিবাদ।

লংমার্চের মাধ্যমে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি রোধের দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিও এর অন্তর্ভুক্ত। জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় সংসদের রাজনৈতিক বিরোধী শিবির থেকে বলা হয়েছে, কর্মসূচির প্রস্তুতিসভাগুলোতে জনগণের ব্যাপক সাড়া ও অংশগ্রহণ প্রমাণ করেছে যে এসব দাবি কেবল কোনো রাজনৈতিক দলের নয়। এগুলো জনগণের ন্যায্য দাবি। সংসদে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে জনগণের এসব সমস্যা সমাধানের দাবি বার বার জানানো হলেও সরকার তা আমলে নেয়নি।

বরং গায়ের জোরে জনগণের অধিকার ও মানবাধিকারের পরিপন্থী বিভিন্ন আইন ও সিদ্ধান্ত একতরফাভাবে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সরকারের এই একগুঁয়েমির কারণে সংসদে সোচ্চার ভূমিকা রেখেও সমাধান না হওয়ায় বিরোধী দল রাজপথে আন্দোলনে যেতে বাধ্য হয়েছে।

এই লংমার্চকে কেন্দ্র করে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রাস্তার বিভিন্ন স্থানে সাজ সাজ রব দেখা গেছে। ঢাকায় শাপলা চত্বর থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত রাস্তায় রাস্তায় লোকে লোকারণ্য হবে এমন প্রস্তুতিই নেওয়া হয়েছে।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ শনিবার সকাল ৭টায় ঢাকার শাপলা চত্বরে জনসভা শেষে চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চ শুরু হয়েছে। পথে বিভিন্ন স্থানে পথসভা ও জনগণের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা ও অভিবাদন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে একটি বিশাল সমাবেশের মাধ্যমে এই লংমার্চ কর্মসূচি শেষ হবে।

জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লংমার্চে প্রায় দেড় হাজার গাড়ি যুক্ত হবে। পথসভাগুলো সংক্ষিপ্ত রাখা হবে, যাতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কম হয়।

লংমার্চে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান এমপি, এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চীপ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমীর মাওলানা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানও কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এডভোকেট একেএম আনোয়ারুল ইসলাম চান এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীর আবু জাফর কাসেমীসহ অন্যান্য শীর্ষ নেতৃবৃন্দও এই লংমার্চে উপস্থিত আছেন।

লংমার্চ শুরুর আগের দিন গতকাল শুক্রবার জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “সরকার উৎখাতের জন্য লংমার্চ করা হচ্ছে না।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, এটি একটি শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি।

মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারের প্রতি লংমার্চে বাধা না দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিরোধীদলের বৃহৎ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি সফল করতে প্রশাসনিক সহযোগিতা দিয়ে সরকার যেন জনগণের আস্থা ধরে রাখে।

তিনি আরও মন্তব্য করেন, বিরোধীদলের কর্মসূচিতে সরকারি দল, তাদের সহযোগী সংগঠন বা প্রশাসনের কোনো অংশ প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি করলে সরকার আরও জনআস্থা হারাবে। এর ফলে জনরোষের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। তবে সরকার সে পথে হাঁটবে না বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, ক্ষমতাসীন দল ও সরকারের অধীনে প্রশাসন, আমলাসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সংস্থা পরিচালিত হচ্ছে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।

তিনি উল্লেখ করেন, সরকার গঠনের ছয় মাস পার হলেও গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বরং গণরায় বাস্তবায়নের প্রশ্ন থেকে সরকার মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

এই লংমার্চের পর জোটের পক্ষ থেকে আরও কিছু কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। চলতি সেপ্টেম্বর ও আগামী অক্টোবরে চার বিভাগ অভিমুখে লংমার্চ এবং ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশের মাধ্যমে সরকারের কাছে নিজেদের রাজনৈতিক বক্তব্য ও দাবিগুলো তুলে ধরতে চায় তারা। জাতীয় সংসদের পাশাপাশি রাজপথেও সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে চায় এই জোট।

আজকের লংমার্চের পর ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর, ১০ অক্টোবর খুলনা এবং ২৪ অক্টোবর সিলেট অভিমুখে লংমার্চ করবে ১১ দল। সবশেষে ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করার ঘোষণা রয়েছে। ঢাকার মহাসমাবেশের মাধ্যমে সরকারের কাছে একটি বড় রাজনৈতিক বার্তা দিতে চান তারা। এর পরের কর্মসূচি পরিস্থিতি এবং সরকারের পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...