রাজনীতিঢাকেশ্বরী মন্দিরে জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা বিনিময়, বিচারব্যবস্থা নিয়ে নাহিদের মন্তব্য
ঢাকেশ্বরী মন্দিরে জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা বিনিময়, বিচারব্যবস্থা নিয়ে নাহিদের মন্তব্য
জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জন্মাষ্টমী উপলক্ষে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং বিচারব্যবস্থা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে কথা বলেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম আজ শুক্রবার পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ঢাকেশ্বরী মন্দিরে যান। শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। সকালে এনসিপির নেতাদের নিয়ে তিনি মন্দিরে উপস্থিত হন।
নাহিদ ইসলাম এ সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে আশীর্বাদ চান। তিনি বলেন, ঢাকেশ্বরী মন্দিরকে তারা "আমাদের একটা বাড়ি" মনে করেন। যেকোনো উৎসব-পার্বণে এবং যেকোনো প্রয়োজনে ক্ষুদ্র সক্ষমতা থেকে তাদের পাশে থাকার কথা তিনি উল্লেখ করেন।
এনসিপির পক্ষ থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানানো হয়। নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রত্যেকটা সম্প্রদায়ের সঙ্গেই তাদের আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। প্রত্যেকটা সম্প্রদায়ের অধিকার, তাদের ধর্মীয় চর্চা-আচার সুরক্ষিত রাখা তাদের দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, এই দায়িত্ব তারা সরকারে অথবা বিরোধী দলে উভয় অবস্থানে থেকেই পালন করেন। রাজনৈতিক দায়িত্বের বাইরেও এটি একটি সামাজিক বন্ধন বলে তিনি উল্লেখ করেন। ছোটবেলায় জন্মাষ্টমী বা দুর্গাপূজায় সনাতন ধর্মাবলম্বী বন্ধুদের বাসায় যাওয়ার স্মৃতিও তিনি স্মরণ করেন।
এনসিপির আহ্বায়ক প্রতিটি মানুষের মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন। তিনি দেশের বিচারব্যবস্থাকে "সংকটাপন্ন" বলে মন্তব্য করেন। সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর অতীতে বিভিন্ন সময়ে হামলা ও সম্পদ লুটপাট হলেও বিচার নিশ্চিত না হওয়ার কথা তিনি উল্লেখ করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে তারা বিচারব্যবস্থা শক্তিশালী, নিরপেক্ষ ও রাজনীতিমুক্ত করার ওপর জোর দিয়েছিলেন। সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনাগুলো বা যেকোনো সাধারণ নাগরিক যাতে আদালতে সুষ্ঠু বিচার পায়, সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। গণতন্ত্র নিশ্চিত করা এবং দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী করা তাদের লক্ষ্য ছিল।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মন্তব্য করেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি গণতন্ত্রের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী হলে এ দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিও সুরক্ষিত হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুরক্ষা প্রত্যেকের দায়িত্ব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে এই সম্প্রীতি সুরক্ষিত থাকলে এর প্রভাব পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় পড়বে। দক্ষিণ এশিয়ায় নানা ধরনের সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রভাব বাংলাদেশেও এসে পড়ে বলে তিনি জানান। নাহিদ ইসলাম বলেন, অন্য দেশে যা কিছুই ঘটুক না কেন, সব ধর্মমত একসঙ্গে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, এখানে কোনো বৈষম্য থাকবে না এবং মানবিক মর্যাদা থাকবে। সব ধর্মীয় জনগোষ্ঠী তাদের ধর্মীয় আচার নির্বিঘ্নে পালন করবে বলে তিনি বার্তা দেন। তিনি অতীতেও এসেছেন এবং ভবিষ্যতেও আসবেন বলে জানান।
মতামত (0)