প্রযুক্তি

বিশ্বের বৃহত্তম ব্যাটারিচালিত উড়োজাহাজ এক্স১-এর সফল উড্ডয়ন

বিশ্বের বৃহত্তম ব্যাটারিচালিত উড়োজাহাজ এক্স১-এর সফল উড্ডয়ন
বিশ্বের বৃহত্তম ব্যাটারিচালিত উড়োজাহাজ এক্স১-এর সফল উড্ডয়ন
সুইডেনে প্রতিষ্ঠিত হার্ট অ্যারোস্পেসের তৈরি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্যাটারিচালিত উড়োজাহাজ এক্স১ প্রথমবারের মতো আকাশে উড়েছে। এটি নিউইয়র্কে ২৭ মিনিট ব্যাটারির শক্তিতে উড়াল দেয়।

ব্যাটারির শক্তিতে চলা বিশ্বের সবচেয়ে বড় উড়োজাহাজ প্রথমবারের মতো আকাশে উড়েছে। সুইডেনে প্রতিষ্ঠিত হার্ট অ্যারোস্পেসের তৈরি এক্স১ নামের এই উড়োজাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন সম্পন্ন করেছে। কোনো জ্বালানি ছাড়াই উড়োজাহাজটি শুধু ব্যাটারির শক্তিতে ২৭ মিনিট আকাশে ছিল।

এক্স১ যাত্রী পরিবহনের জন্য তৈরি করা হয়নি। এর মূল উদ্দেশ্য হলো হার্ট অ্যারোস্পেসের ভবিষ্যৎ হাইব্রিড আঞ্চলিক উড়োজাহাজ তৈরির প্রযুক্তি ও ধারণা পরীক্ষা করা। পরীক্ষামূলক এই উড্ডয়ন বৈদ্যুতিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখিয়েছে। এটি প্রমাণ করেছে, ছোট আকারের বাণিজ্যিক উড়োজাহাজের কাছাকাছি আকারের বিমানে ব্যাটারিচালিত উড্ডয়নের ব্যবস্থা ব্যবহার করা সম্ভব।

তবে ব্যাটারির ওজন ও শক্তি ধারণক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে পুরোপুরি বৈদ্যুতিক যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ এখনো বাণিজ্যিকভাবে বাস্তবসম্মত হয়ে ওঠেনি। এক্স১ উড়োজাহাজটির ডানার বিস্তার ১০৬ ফুট এবং দৈর্ঘ্য ৭৬ ফুট। এর ওজন ২৫ হাজার পাউন্ডের বেশি, যা প্রায় একটি খালি স্কুলবাসের ওজনের সমান।

উড়োজাহাজটিতে ৩০টি আসনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নিউইয়র্কের একটি আঞ্চলিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পর এটি সর্বোচ্চ প্রায় ১ হাজার ১০০ ফুট উচ্চতায় উঠেছিল। পুরো উড্ডয়নেই উড়োজাহাজটির শক্তির উৎস ছিল ব্যাটারি। পরীক্ষামূলক ফ্লাইটে উড়োজাহাজটিতে ছিলেন শুধু একজন পাইলট।

হার্ট অ্যারোস্পেসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যান্ডার্স ফর্সলুন্ড বলেছেন, এই উড্ডয়নের মাধ্যমে বাণিজ্যিক উড়োজাহাজের আকারের কাছাকাছি একটি বিমানে বৈদ্যুতিক উড্ডয়নের ব্যবস্থার সক্ষমতা প্রদর্শন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এক্স১–কে কখনো যাত্রী পরিবহনে ব্যবহার করা হবে না। এটি মূলত একটি উড়ন্ত পরীক্ষাগার।

ব্যাটারি, বৈদ্যুতিক মোটর ও উড্ডয়নের ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি পরীক্ষা করে সেখান থেকে পাওয়া তথ্য ভবিষ্যতের বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ তৈরিতে কাজে লাগানো হবে। হার্ট অ্যারোস্পেসের প্রধান বাণিজ্যিক প্রকল্প হলো ইএস–৩০। এটি ৩০ আসনের একটি হাইব্রিড আঞ্চলিক উড়োজাহাজ।

প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩১ সালের দিকে উড়োজাহাজটি বাণিজ্যিকভাবে যাত্রী পরিবহন শুরু করতে পারে। ইউনাইটেড এয়ারলাইনস, এয়ার কানাডা ও জেএসএক্সসহ কয়েকটি বিমান সংস্থা ইএস–৩০–এর বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। হাইব্রিড উড়োজাহাজ তৈরির পেছনে শুধু কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য নেই, জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কমানোর সম্ভাবনাও বিমান সংস্থাগুলোর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

হার্ট অ্যারোস্পেসের হিসাব অনুযায়ী, একই আকারের প্রচলিত আঞ্চলিক উড়োজাহাজের তুলনায় ইএস–৩০ পরিচালনার খরচ সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কম হতে পারে। হার্ট অ্যারোস্পেস আরও দাবি করেছে, এক্স১–এর একটি পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে বিদ্যুতের খরচ হয়েছে প্রায় পাঁচ ডলার। তবে এই হিসাব উড়োজাহাজটির প্রকৃত পরিচালন ব্যয় বোঝাবে না।

এর মধ্যে পাইলট ও অন্যান্য কর্মীর খরচ, বিমানবন্দর ফি, রক্ষণাবেক্ষণ, বিমা ও দীর্ঘ মেয়াদে ব্যাটারির সক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো খরচ ধরা হয়নি। ফলে হাইব্রিড–ইলেকট্রিক উড়োজাহাজ ব্যবহার করলে বিমান সংস্থাগুলো বাস্তবে কতটা অর্থ সাশ্রয় করতে পারবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। একইভাবে পরিচালন ব্যয় কমার সুফল যাত্রীদের টিকিটের দাম কমানোর ক্ষেত্রে কতটা কাজে আসবে, সেটিও ভবিষ্যতের বিষয়।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...