পরিচালক নীতেশ তিওয়ারির ‘রামায়ণ’ সিনেমা নিয়ে ফের বিতর্ক দেখা দিয়েছে। অভিনেতা মুকেশ খন্না রামের যুদ্ধের দৃশ্য ও তার চরিত্রায়ণের পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন।
বলিউডের পরিচালক নীতেশ তিওয়ারির ‘রামায়ণ’ সিনেমাটি নিয়ে আবারও সমালোচনা করেছেন অভিনেতা, পরিচালক ও প্রযোজক মুকেশ খন্না। প্রবীণ এই অভিনেতা এবার সিনেমার রামের যুদ্ধের দৃশ্য উপস্থাপন নিয়ে তার আপত্তি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রামকে ‘মর্যাদা পুরুষোত্তম’ হিসাবে দেখানোর বদলে অনেকটাই প্রচলিত ‘অ্যাকশন হিরো’র আদলে পর্দায় তুলে ধরা হচ্ছে।
একটি সাক্ষাৎকারে মুকেশ সিনেমার টিজার নিয়ে কথা বলেছেন। সেখানে তিনি একটি বিশেষ দৃশ্যের উল্লেখ করেন, যেখানে রামকে একটি গাছে উঠে তির ছুড়তে দেখা যায়। মুকেশের মতে, রামায়ণ পড়ে এবং বছরের পর বছর ধরে রামলীলা দেখে রামের যে একটি নির্দিষ্ট ছবি তার মনে গেঁথে আছে, এই দৃশ্য তার সাথে মেলে না।
মুকেশ খন্না তার বক্তব্যে বলেন, "শ্রীরাম ধনুর্ধর ছিলেন, এটি ঠিক। তিনি ভগবানের অবতার।" তবে তিনি প্রশ্ন তোলেন, "যেভাবে যুদ্ধের দৃশ্য দেখানো হয়েছে, শ্রীরাম গাছের উপরে উঠে তির ছুড়ছেন, এমনটা তো কখনও দেখিনি।" তিনি আরও যোগ করেন, "এত রামায়ণ পড়েছি, রামলীলা দেখেছি। শ্রীরামকে সালমন খান, অমিতাভ বচ্চন, রজনীকান্ত বানিয়ে দেওয়া হয়েছে।"
মুকেশের কথায়, "শ্রীরামকে যদি মর্যাদা পুরুষোত্তমের বদলে কেবল যোদ্ধা হিসাবে দেখানো হয়, তা হলে আমার আপত্তি আছে।" তিনি যুক্তি দেন, "যদি এভাবেই যুদ্ধ করতেন, তা হলে বানরসেনার সাহায্যই বা কেন প্রয়োজন হয়েছিল?" এই ধরনের চিত্রায়ণ রামের ঐতিহ্যবাহী চরিত্র থেকে বিচ্যুত বলে তিনি মনে করেন।
এই সিনেমার টিজার গেল এপ্রিলে প্রকাশ পেয়েছে। পরিচালক নীতেশ তিওয়ারির বহুদিনের পরিকল্পনার ফসল এই ‘রামায়ণ’ চলচ্চিত্রটি। টিজার প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি জানিয়েছিলেন, এই পর্যায়ে পৌঁছাতে তার সাত বছর সময় লেগেছে।
তিওয়ারি আরও বলেন, তার এই যাত্রা খুবই অনিশ্চিত ও একাকী ছিল। তবে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া দেখে তার মনে হচ্ছে, এই দীর্ঘ অপেক্ষা সার্থক হয়েছে। এর আগে লস অ্যাঞ্জেলসে আয়োজিত একটি বিশেষ প্রদর্শনীতে অভিনেতা রাণবীর কাপুর তার অনুভূতি ব্যক্ত করেন। রাণবীর বলেছিলেন, "আমি ‘রাম’কে প্রতিনিধিত্ব করতে আসিনি, বরং তার কাছ থেকে শেখার জন্য এসেছি।" তিনি আরও যোগ করেন যে, রামের সরলতা ও পবিত্রতা তাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। পরিচালকের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘রামের যাত্রা ভীষণ মানবিক’ এবং তারা সেই মানবিক দিকটিই সিনেমায় তুলে ধরতে চেয়েছেন।
এই সিনেমায় বলিউড ও দক্ষিণের জনপ্রিয় তারকাদের একটি বড় সমাবেশ ঘটেছে। রাণবীর কাপুরকে ‘রাম’ চরিত্রে, সাই পল্লবীকে ‘সীতা’ চরিত্রে, সানি দেওলকে ‘হনুমান’ চরিত্রে, যশকে ‘রাবণ’ চরিত্রে এবং রবি দুবেকে ‘লক্ষ্মণ’ চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যাবে।
প্রায় ৪ হাজার কোটি রুপি বাজেটের এই সিনেমাটি ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম ব্যয়বহুল প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অযোধ্যা ও লঙ্কার বিশাল সেট নির্মাণের জন্য ব্যাপক কাজ করা হয়েছে। এছাড়াও, উন্নত প্রযুক্তি ও আধুনিক দৃশ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়েছে এই চলচ্চিত্র নির্মাণে।
মতামত (0)