বিনোদন

বলিউড অভিনেতা মুশতাক খান আর নেই

বলিউড অভিনেতা মুশতাক খান আর নেই
বলিউড অভিনেতা মুশতাক খান আর নেই
বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা মুশতাক খান দীর্ঘ দিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে গতকাল বৃহস্পতিবার ৫৬ বছর বয়সে মুম্বাইয়ের নানাবতী হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা মুশতাক খান গতকাল বৃহস্পতিবার না ফেরার দেশে চলে গেছেন। দীর্ঘ দিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইয়ের পর মুম্বাইয়ের নানাবতী হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর।

গতকাল সন্ধ্যা ৭টার দিকে অভিনেতা মুশতাক খান মারা যান বলে তার ব্যবসায়িক অংশীদার শিবম জানিয়েছেন। ফেডারেশন অব ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজের (এফডব্লিউআইসিই) সভাপতি বি এন তিওয়ারি তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন। অভিনেতার ছেলে মহসিনও বাবার মৃত্যুর খবর সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

শিবম জানান, মুশতাকের ফুসফুসে ক্যানসার ধরা পড়েছিল এবং চিকিৎসার পর তিনি একসময় সুস্থও হয়ে উঠেছিলেন। তবে আট দিন আগে ক্যানসার আবার ফিরে আসে। অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, তখন ক্যানসার শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল।

মহসিন বলেন, পেটে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর ডাক্তাররা তার ক্যানসার শনাক্ত করেন। অল ইন্ডিয়ান সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন (এআইসিডব্লিউএ)-এর সভাপতি সুরেশ শ্যামলাল গুপ্ত জানান, পাঁচ বছর আগে মুশতাক খানের ক্যানসার ধরা পড়েছিল এবং তিনি সুস্থও হয়েছিলেন, কিন্তু দুই সপ্তাহ আগে রোগটি আবার ফিরে আসে। মহসিন আরও জানান, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগেও তিনি সালমান খানের দেহরক্ষী শেরার ছেলের অভিষেক ছবির শুটিং করছিলেন।

অভিনেতা মুশতাক খানের দাফন আজ শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) হওয়ার কথা রয়েছে।

চার দশকেরও বেশি সময় ধরে হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন মুশতাক খান। তিনি নায়ক হিসেবে নয়, বেশিরভাগ সিনেমাতেই পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করেছেন। তবে সাবলীল অভিনয় ও নিজস্ব কমিক টাইমিংয়ের মাধ্যমে বড় তারকাদের উপস্থিতির মাঝেও দর্শকের নজর কেড়েছেন তিনি।

১৯৮০ সালে ‘আলবার্ট পিন্টো কো গুসসা কিঁউ আতা হ্যায়’ সিনেমার মাধ্যমে মুশতাকের বড় পর্দায় অভিষেক হয়। এরপর তিনি ‘আশিকি’, ‘দিল হ্যায় কি মানতা নেহি’, ‘হাম হ্যায় রাহি প্যায়ার কে’, ‘রাজা’, ‘হেরা ফেরি’ এর মতো জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করেছেন।

তার অভিনীত অন্যান্য জনপ্রিয় ছবির মধ্যে রয়েছে ‘গদর: এক প্রেম কথা’, ‘জোড়ি নম্বর ১’, ‘মুঝসে শাদি করোগি’, ‘ওয়েলকাম’, ‘ওয়ান্টেড’ এবং ‘ও মাই গড!’।

চলচ্চিত্র নির্মাতা অশোক পণ্ডিত মুশতাক খানকে স্মরণ করে বলেন, "মুশতাক আর আমি খুব পুরোনো বন্ধু ছিলাম। আমরা একসঙ্গে থিয়েটার, নাটক এবং টিভি শো করেছি।" তিনি আরও বলেন, মুশতাক তাদের পরিবারেরই একজনের মতো ছিলেন এবং তার চলে যাওয়াটা অকল্পনীয়।

অশোক পণ্ডিত জানান, মুশতাক ছোট শহর থেকে মুম্বাইয়ে এসে থিয়েটার নিয়ে পড়াশোনা করেন এবং নিজের কাজের প্রতি অনুরাগী ছিলেন। তিনি বলেন, "এটা ইন্ডাস্ট্রির জন্য একটি ক্ষতি এবং আমার জন্য একটি ব্যক্তিগত ক্ষতি।"

তিনি আরও যোগ করেন, "আমরা দু’জন একসঙ্গেই বড় হয়েছি। ভাইয়ের মতো আমরা একসঙ্গে বেড়ে উঠেছি। টাকার অভাব থাকা সত্ত্বেও আমরা একসঙ্গে কঠিন সময় পার করেছি।" অশোক পণ্ডিত বলেন, তারা একজন প্রিয় বন্ধু, একজন ভাই এবং অভিনয়ের শিল্পে পারদর্শী একজন অভিনেতাকে হারিয়েছেন।

মুশতাক খানের সবচেয়ে স্মরণীয় অভিনয়গুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল আনিস বাজমীর ‘ওয়েলকাম’ (২০০৭) ছবিতে তার ভূমিকা। ২০০১ সালের ‘গদর: এক প্রেম কথা’ ছবিতে তিনি গুল খানের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। দুই দশকেরও বেশি সময় পর ২০২৩ সালে ‘গদর ২’ দিয়ে তিনি এই ফ্র্যাঞ্চাইজিতে ফিরে আসেন।

স্ত্রী, বাধাই দো, গদর ২ এবং স্ত্রী ২-এর মতো সাম্প্রতিক একাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। তার কাজ করা প্রকল্পগুলির মধ্যে ছিল ভ্যানভাস, বেবি জন, ধুম ধাম এবং জাত। টেলিভিশনের পাশাপাশি তিনি কুছ রং পেয়ার কে আইসে ভি এবং ভাবিজি ঘর পর হ্যায়-এর মতো শোতেও কাজ করেছেন।

কমেডি দৃশ্য থেকে শুরু করে গুরুতর চরিত্র—প্রতিটি ভূমিকাতেই তার সাবলীল অভিনয় সিনেমাকে এক নতুন মাত্রা দিত। বেশ কয়েকটি প্রজন্ম ধরে তিনি বলিপাড়ার অন্যতম নির্ভরযোগ্য ও পরিচিত মুখ ছিলেন।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...