রাজনীতিবর্তমান সরকার ও পূর্ববর্তী ফ্যাসিবাদী সরকারের মধ্যে পার্থক্য নেই: অধ্যাপক মুজিবুর রহমান
বর্তমান সরকার ও পূর্ববর্তী ফ্যাসিবাদী সরকারের মধ্যে পার্থক্য নেই: অধ্যাপক মুজিবুর রহমান
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, বিগত সরকার যা করেছে বর্তমান সরকারও তাই করছে। তিনি জুলাই শহীদদের শাহাদাতের মর্যাদা কামনায় আয়োজিত দোয়ার মাহফিলে এই মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের পূর্ব চত্বরে জুলাই শহীদদের শাহাদাতের মর্যাদা এবং আহতদের সুস্থতা কামনায় এক দোয়ার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। গতকাল শুক্রবার এই মাহফিলে দলের নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, বিগত সরকার যা করেছে বর্তমান সরকারও সেই একই কাজ করছে।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগ সরকার বিভিন্ন ধরনের কোটা চালু করেছিল। একইভাবে বর্তমান সরকার ‘বিএনপি কোটা’ প্রবর্তন করেছে বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, সরকার সর্বত্র নির্লজ্জভাবে দলীয়করণ করছে।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, রাষ্ট্রীয়, সাংবিধানিক, ব্যাংক-বিমা, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মসজিদ এবং মন্দিরসহ সর্বত্র দলীয় লোকজনকে দিয়ে দখল করে সেগুলোকে দলীয় প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়া হচ্ছে। এই ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে জুলাই বিপ্লব অর্জিত হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। জুলাইয়ের সূচনা হয়েছে সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথা বাতিলের দাবিতে।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, সরকারের একজন মন্ত্রী স্বীকার করেছেন যে, জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সময়েও কোনো পরিবর্তন আসেনি; সবকিছু আগের মতোই চলছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন কিছুই পরিবর্তন হয়নি এবং কেন সবকিছু আগের মতোই চলছে। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, সরকার জুলাইয়ের চেতনা ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের পথে না হেঁটে ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে।
তিনি আরও বলেন, গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে সবকিছুর পরিবর্তন হবে। আগের মতো কিছুই চলবে না এবং জাতি নতুন বাংলাদেশ দেখতে পাবে। জাতিকে নতুন বাংলাদেশ উপহার দেওয়া সরকারের দায়িত্ব বলে তিনি মন্তব্য করেন। সরকার যদি এই দায়িত্ব পালনে বিরোধীদলের সহযোগিতা চায়, তাহলে জামায়াতে ইসলামী সেই সহযোগিতা করবে বলে তিনি জানান।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপির সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বাংলাদেশের মুক্তির সংগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। তিনি বলেন, দীর্ঘ পথ চলার মধ্য দিয়ে আমরা আজকের এই জায়গায় এসেছি।
ড. আযাদ আরও বলেন, ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ কলোনিজম থেকে মুক্তি পাওয়া গেছে। সেই স্বাধীনতার মধ্য দিয়ে মুসলিম জাতিসত্তার বিকাশ হয়েছে। ১৯৭১ সালের মুক্তি সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়। নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জাতি স্বৈরশাসকের হাত থেকে মুক্ত হয়ে সংসদীয় গণতান্ত্রিক পথচলা শুরু করেছে। এতো দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় অনেক পরিবর্তন এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, কোনো পরিবর্তনই জাতির ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে পারেনি। যার কারণে জুলাই আন্দোলনে জাতি নতুন করে স্বপ্ন দেখেছিল যে তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এতো রক্ত ও জীবন দেওয়ার পরও কেন রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য আবারও দাবি উত্থাপন করতে এবং রাজপথে নামতে হলো। তিনি জিজ্ঞাসা করেন, এতো রক্ত ও জীবন দেওয়া কি ব্যর্থ হয়ে যাবে।
ড. আযাদ বলেন, এই রক্তের দায় পরিশোধ করতে হলে এবং দায় থেকে মুক্ত হতে হলে শহীদরা যেজন্য জীবন দিয়েছেন, তাদের সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত করতে হবে। শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে বলে তিনি জোর দেন।
কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, চব্বিশের জুলাই ও আগস্টে যেই ঐতিহাসিক ঘটনা সংঘটিত হয়েছে, তা অনেকেই ভুলে যাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, কী কারণে এতো মানুষ জীবন দিয়েছে এবং কেন আন্দোলনে যোগ দিয়েছে, সেটি ভুলে গেলে শহীদদের সাথে বেঈমানি করা হবে।
ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, শহীদদের কাছে জাতি দায়বদ্ধ। শহীদদের আকাঙ্ক্ষার নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ নিজেদেরকেই করতে হবে। আর নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হলে গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি তার বক্তব্যে বলেন, শহীদরা ন্যায়, ইনসাফ ও বৈষম্যহীন মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য জীবন দিয়েছেন। কিন্তু জুলাই বিপ্লব পরবর্তী নতুন সরকার জুলাইয়ের চেতনা ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের পরিবর্তে সেই পুরোনো ফ্যাসিবাদের সংস্কৃতির দিকে দেশকে নিয়ে যেতে চাইছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
মতামত (0)