রাজনীতি

জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামানকে ৫ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ

জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামানকে ৫ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ
জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামানকে ৫ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ
বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে গ্রেপ্তার জামায়াত নেতা মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে চেয়ে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। গতকাল তার বিরুদ্ধে মামলা হয়।

বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে হুমকি ও নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে মারধরের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার জামায়াত নেতা মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ। আজ রিমান্ড চেয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বিমানবন্দর থানার ওসি কামরুল হাসান তালুকদার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ওসি কামরুল হাসান তালুকদার বলেন, "তাকে কোর্টে পাঠিয়ে দিয়েছি, আমরা তার পাঁচ দিনের রিমান্ড চাইব।" বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নিরাপত্তা কর্মকর্তা শাহরিয়ার আলম সজিব গতকাল ভোরে আখতারুজ্জামান রঞ্জনের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলাটি করেন।

গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে ডিবি পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে বিমানবন্দর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপ কমিশনার রেজাউল করিম রেজা জানান। গ্রেপ্তারের আগ মুহূর্তে গতকাল সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে আখতারুজ্জামান রঞ্জন ফেইসবুকে এক ভিডিও বার্তায় তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানান।

আখতারুজ্জামান রঞ্জন ওই ভিডিও বার্তায় বলেন, "আমাকে এই মুহূর্তে ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাচ্ছে। আমি শুধু জানিয়ে গেলাম আপনাদের। দোয়া করবেন, আমি যেন জনগণের জন্য, দেশের মানুষের জন্য বিশেষ করে প্রবাসীদের জন্য যদি শহীদ হতে পারি… আল্লাহ যেন আমার সেই দাবি কবুল করেন। জনগণের অধিকারের সংগ্রামে আমি আছি, থাকব। যতোদিন বেঁচে আছি, ততদিন জনগণের পাশেই থাকব… জনগণের জন্য এ জীবন ত্যাগ করব।"

বৃহস্পতিবার সকালে মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে আসা ওমরাহ যাত্রীদের জমজমের পানি সরবরাহে বিলম্ব নিয়ে আখতারুজ্জামানের উচ্চ-বাচ্যের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে জামায়াত নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামানকে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে উদ্দেশ্য করে কথা বলতে দেখা যায়। তিনি বলেন, "ঘাড় ধরে বের করে দেব, ঘাড় ধরে বের করে দেব। আপনারা কাজ করেন না, কিছু করেন না, তদবির করে পোস্ট নেন। মাইর খাইতে চান?"

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশের বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটে জামায়াতের ৩৪ জন প্রতিনিধি সপরিবারে মদিনা থেকে শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেসময় বিমানবন্দরে আগমনী যাত্রীর বাড়তি চাপ থাকায় ট্রলি সংগ্রহের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। কয়েকজন প্রটোকল সহকারী লাইনের নিয়ম ভেঙে ট্রলি সংগ্রহের চেষ্টা করেন।

সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি পরে লাগেজ আসতে বিলম্ব হওয়া এবং জমজমের পানি না আসায় ‘উত্তেজিত’ হয়ে পড়েন এবং ‘অশোভন আচরণ’ করেন। এর মধ্যে বেলা পৌনে ১১টার দিকে ঢাকা-৫ আসনের এমপি মোহাম্মদ কামাল হোসেন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদকে ঘটনাস্থলে ডেকে পাঠান। নির্বাহী পরিচালক সেখানে এসে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলছিলেন।

এসময় আখতারুজ্জামান আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে তার দিকে এগিয়ে এসে ‘অত্যন্ত রূঢ়, অশালীন ও অকথ্য ভাষায়’ গালিগালাজ করতে থাকেন। এজাহারে বলা হয়, তখন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক ‘অত্যন্ত শান্তভাবে’ অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ ও ট্রলি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বোঝানোর চেষ্টা করেন। তবে আখতারুজ্জামান আরও উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘আমি কিন্তু পিটাবো ধইরা’, ‘গেইট আউট ফ্রম হিয়ার’, ‘ঘাড় ধরে বের করে দিব’, ‘কাজ জানেন না, তদবির করে পোস্টিং এ আসবেন’, ‘মাইর খাইতে চান?’।

কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামানের আচরণ ‘অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও মারমুখী’ ছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় ঢাকা-৫ আসনের এমপি কামাল হোসেন নির্বাহী পরিচালককে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিয়ে যান। পরে আখতারুজ্জামান ফের উত্তেজিত হয়ে উপস্থিত ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে হুমকি দেন, "আপনাদের সবাইকে বিমানবন্দরে বেঁধে পিটানো এবং সোশাল মিডিয়ায় দেওয়া দরকার, যাতে তারেক রহমান এটি দেখেন, তখন আপনারা সোজা হবেন। আপনাদের ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেব।"

এসময় তিনি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত সম্পর্কে ‘অত্যন্ত অশালীন ও অবমাননাকর’ মন্তব্য করেন বলে এজাহারে বলা হয়। আখতারুজ্জামান বলেন, “হি ইজ এ বাস্টার্ড। বিমানবন্দরের জন্য কিছুই করছে না।” তখন আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা কয়েকজন প্রটোকল সহকারী ঘটনার ভিডিও ধারণ করে তা ‘সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল’ করার ‘হুমকি’ দেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় তখন দায়িত্বরত নিরাপত্তা সুপারভাইজার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বিমানবন্দরের কেপিআই এলাকায় ভিডিও ধারণ না করতে সংশ্লিষ্টদের নিষেধ করেন। তখন অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামান অতর্কিতে ওয়ারেন্ট অফিসার কামাল উদ্দিনের কাছে গিয়ে তাকে ‘অকথ্য ভাষায়’ গালিগালাজ করেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর আগামী ১০ নভেম্বরের মধ্যে মামলার প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...