প্রযুক্তিছোট কাগজ সম্পাদকের বোন শম্পা করিমের প্রয়াণ
ছোট কাগজ সম্পাদকের বোন শম্পা করিমের প্রয়াণ
ছোট কাগজ সম্পাদক হাবিব ওয়াহিদ শিবলীর ছোট বোন শম্পা করিমের আকস্মিক প্রয়াণ ঘটেছে। কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন শম্পা, নেপালে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
ছোট কাগজ সম্পাদক হাবিব ওয়াহিদ, যিনি শিবলী নামেই পরিচিত, তার ছোট বোন শম্পা করিম গত ২৯ আগস্ট মারা গেছেন। তার মৃত্যুর মাত্র দুদিন পর, ৩১ আগস্ট ছিল হাবিব ওয়াহিদ শিবলীর জন্মদিন। শম্পা করিম দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন।
চিকিৎসার জন্য তার নেপাল যাওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। নেপালে যাওয়ার আগে শম্পা তার সাংসারিক গোছগাছ এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যক্তিগত প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। এই সময়েই হঠাৎ করে তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত আঘাত লাগে।
কয়েকদিনের চিকিৎসায় তার শারীরিক অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছিল। সবাই যখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিল, তখনই অপ্রত্যাশিতভাবে শম্পার হৃৎপিণ্ড থেমে যায়। বর্তমানে তিনি কাঠের চৌকো ফ্রেমে বন্দী।
হাবিব ওয়াহিদ শিবলী বেদনাভেজা কণ্ঠে জানিয়েছেন, 'অনিন্দ্য' নামটি তার বোন শম্পারই দেওয়া। চার দশকেরও বেশি সময় আগে শম্পা এই নামটি দিয়েছিলেন। সেই থেকে সুখে-দুঃখে শম্পা সবসময় 'অনিন্দ্য'র সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন।
অনেক প্রতিষ্ঠিত লেখকের হাতেখড়ি হয়েছিল 'অনিন্দ্য'-তে। শম্পা প্রায়ই তাদের খোঁজখবর নিতেন এবং তাদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে আগ্রহ দেখাতেন। তার একটি গোপন ইচ্ছা ছিল, সুস্থ হয়ে ফিরলে 'অনিন্দ্য'র পুরনো ও বর্তমান সকল লেখককে একসঙ্গে জড়ো করে ছবি তোলা এবং আড্ডা দেওয়া।
কিন্তু সব স্বপ্ন অধরা রেখে শম্পা অনন্তলোকে হারিয়ে গেছেন। শিবলীর যন্ত্রণার প্রকাশ ঘটে তার বক্তব্যে। তিনি বলেছেন, "অনিন্দ্যর সবচেয়ে বড় শুভাকাঙ্ক্ষী ছিল আমার বোন শম্পা। ও নেই, আর অনিন্দ্য বের করে কী হবে!"
শিবলী আরও উল্লেখ করেছেন যে, সবাইকে একসঙ্গে জড়ো করার স্বপ্ন শম্পা অধরাই রেখে গেছেন। তার মনে হয়েছে, শম্পার আমন্ত্রণে যদি পুরনো দিনের লেখকরা সেভাবে সাড়া না দিতেন, তবে শম্পা হয়তো কষ্ট পেতেন এবং তার বিশ্বাসের ঘরে নাড়া খেতো। এই ভাবনা থেকে শিবলী বলেন, "শম্পার মুখ রক্ষা হলো।"
এই কথাগুলো একমুঠো দীর্ঘশ্বাসের সঙ্গে বেরিয়ে এসেছে হাবিব ওয়াহিদ শিবলীর মুখ থেকে। তার মস্তিষ্কে তখন শম্পার চিকিৎসা, নেপাল ভ্রমণ, নিজের জন্মদিন এবং 'অনিন্দ্য'—সব মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল। নস্টালজিয়া তাকে নানাভাবে আঁকড়ে ধরেছিল।
মতামত (0)