চট্টগ্রামের কাতালগঞ্জে হিজড়া খাল প্রশস্তকরণ প্রকল্পের জন্য দুটি দশতলা ভবন ভাঙা হচ্ছে। প্রায় একই আয়তন ও নির্মাণকাল কাছাকাছি হলেও ভবন দুটির ক্ষতিপূরণ মূল্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য দেখা দিয়েছে। একটি ভবনের তুলনায় অন্যটির ক্ষতিপূরণ প্রায় দ্বিগুণ নির্ধারণ করা হয়েছে।
কনকচাঁপা নামের একটি পুরোনো ভবনের স্থাপনা মূল্য ধরা হয়েছে ১৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এর মোট নির্মিত আয়তন ৫৪ হাজার ২৭৫ বর্গফুট এবং এটি ২০১০ সালে নির্মিত হয়। অন্যদিকে, পাশের নতুন ও তুলনামূলক বড় বাদশা নূরী ভবনটির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।
বাদশা নূরী ভবনটি ২০১৩ সালে নির্মিত হয় এবং এর মোট আয়তন ৫৮ হাজার ২০০ বর্গফুট। এই দুটি ভবনই চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের অংশ হিসেবে অপসারণ করা হচ্ছে। গণপূর্ত বিভাগের চট্টগ্রাম কার্যালয় এই ভবন দুটির স্থাপনার ক্ষতিপূরণ মূল্য নির্ধারণ করেছে।
জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) এই অসামঞ্জস্যের বিষয়টি নজরে এনেছে। সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. বেলায়েত হোসেন সম্প্রতি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিবকে এ বিষয়ে একটি চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে দুটি ভবনের মূল্য পুনর্মূল্যায়নের জন্য গণপূর্ত বিভাগকে অনুরোধ করা হয়েছে।
তবে, পুনর্মূল্যায়নের অনুরোধে এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া মেলেনি বলে সিডিএ জানিয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক আহমদ মঈনুদ্দিন বলেছেন, কাতালগঞ্জ আবাসিক এলাকার দুটি ভবনের মূল্য নির্ধারণে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিষয়টি নজরে আসার পর গণপূর্ত বিভাগ ও মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।
পরিচালক আহমদ মঈনুদ্দিন আরও জানান, বর্তমান নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দিতে গেলে প্রকল্পের বাজেটে ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলীরা তাদের মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে দাবি করেছেন যে, তাদের কাছে দেওয়া নকশার ভিত্তিতেই তারা স্থাপনার মূল্য নির্ধারণ করেছেন।



মতামত (0)