জাতীয়চট্টগ্রামে অনুমোদনহীন হাসপাতাল ভবনে সিডিএর অভিযান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স প্রক্রিয়ায় প্রশ্ন
চট্টগ্রামে অনুমোদনহীন হাসপাতাল ভবনে সিডিএর অভিযান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স প্রক্রিয়ায় প্রশ্ন
চট্টগ্রামে সিডিএর অভিযানে একাধিক বেসরকারি হাসপাতালে নকশাবহির্ভূত স্থাপনা ও অনুমোদনহীন ভবন ব্যবহারের চিত্র উঠে এসেছে। সিডিএ চেয়ারম্যান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
চট্টগ্রাম নগরের আবাসিক এলাকায় অনুমোদিত নকশা না মেনে গড়ে ওঠা বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। গত সোমবার সংস্থাটি নগরের কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে নকশাবহির্ভূত স্থাপনা ও ভবন ব্যবহারের বিভিন্ন অনিয়ম খুঁজে পায়।
এই অভিযানে নগরের ট্রিটমেন্ট হাসপাতাল, ল্যানসেট হাসপাতাল, শেভরন বেলভিউ এবং একুশে হাসপাতাল পরিদর্শন করা হয়। সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন। এ সময় সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল আজম এবং স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট হামীমুন তানজীনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানকালে শেভরন হাসপাতালের ভবনে অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় পাওয়ার কথা জানায় সিডিএ। কর্মকর্তারা জানান, অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ভবনটির গ্রাউন্ড ও প্রথম তলায় গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা থাকার কথা ছিল। তবে সেখানে অন্যান্য স্থাপনা ও অভ্যর্থনা কক্ষ নির্মাণ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নকশাবহির্ভূত স্থাপনা সরিয়ে নিতে তিন মাসের সময় দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নকশা ও অনুমোদনসংক্রান্ত ত্রুটি সংশোধনের জন্য অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সতর্ক করেছে সিডিএ।
অন্যদিকে, ট্রিটমেন্ট হাসপাতালে অভিযানকালে মালিকপক্ষ বা দায়িত্বশীল কোনো প্রতিনিধিকে পাওয়া যায়নি। পরে প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষকে অনুমোদিত নকশাসহ সিডিএ কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ভবন ব্যবহারের বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন জানান, অনুমোদিত নকশা ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই বছরের পর বছর ধরে কিছু বাণিজ্যিক চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স বা অনুমোদন কীভাবে দেওয়া ও নবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান। সিডিএ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেসব হাসপাতাল ও ক্লিনিক ভবনের নকশা এবং অনুমোদনসংক্রান্ত ত্রুটি সংশোধন করবে না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠান সিলগালা করার পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের একটি সরকারি ফ্যাসিলিটি রেজিস্ট্রি রয়েছে। নতুন বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের আবেদনের সঙ্গে বিভিন্ন নথি জমা দেওয়ার বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অতীতেও বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে।
সিডিএর বর্তমান অভিযানের পর মূল প্রশ্ন উঠেছে—ভবনের অনুমোদিত নকশা, ব্যবহার ও স্থাপনা-সংক্রান্ত বিষয়গুলো যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় কতটা কার্যকর। কোনো প্রতিষ্ঠান নকশাবহির্ভূতভাবে পরিচালিত হলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স প্রদান বা নবায়নের প্রক্রিয়ায় সেটি কীভাবে বিবেচিত হয়, সেই প্রশ্নও উঠেছে। এই অভিযানের পর বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় ও জবাবদিহি আরও জোরদার হওয়ার দাবি উঠেছে।
মতামত (0)