জাতীয়

ডাকসু বিতর্কে শিক্ষক হেনস্তা ও জিন্নাহর ছবি ছেঁড়া

ডাকসু বিতর্কে শিক্ষক হেনস্তা ও জিন্নাহর ছবি ছেঁড়া
ডাকসু বিতর্কে শিক্ষক হেনস্তা ও জিন্নাহর ছবি ছেঁড়া
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু সংগ্রহশালায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছেঁড়া হয়েছে। শিক্ষক হেনস্তা ও বিতর্কিত শিক্ষক মূল্যায়ন ওয়েবসাইট চালু করেছে ডাকসু।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু সংগ্রহশালায় গত সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে শিক্ষার্থী আবু তৈয়ব হাবিলদার মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি ছিঁড়ে ফেলেন। বর্তমান ছাত্র সংসদ নেতৃবৃন্দ ডাকসুর ঐতিহ্যবাহী নির্দলীয় চরিত্র বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ডাকসু সদস্যরা পুলিশের ভূমিকা পালন করেছেন, কখনোবা নিজেদের রাজনৈতিক চিন্তাধারা প্রচারে ডাকসুকে ব্যবহার করেছেন।

ডাকসু নেতৃবৃন্দ শিক্ষকদের সঙ্গে হঠকারী ব্যবহারও করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেছেন, শিক্ষকদের সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার একটি বিশাল সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। শিক্ষকদের শিক্ষাদান মূল্যায়নের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে।

শিক্ষক মূল্যায়নের এই প্রক্রিয়া অবশ্যই উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে এবং শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয়ের গোপনীয়তা বজায় রেখে সম্পন্ন হতে হবে। গত ১০ সেপ্টেম্বর বর্তমান ডাকসু একটি ওয়েবসাইট চালু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মূল্যায়ন করছে তাদের নিজস্ব প্রশ্নমালায়। এই উদ্যোগকে অনেকে শিক্ষক হেনস্তার অংশ হিসেবে দেখছেন।

কেউ কেউ এটিকে শিক্ষকদের রাজনৈতিক মতাদর্শের জন্য কোণঠাসা করার উদ্যোগ হিসেবেও বর্ণনা করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং শিক্ষকেরা এই উদ্যোগকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনকানুনবিরোধী বলে উচ্চ স্বরে প্রকাশ করেছেন। অতীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হেনস্তার ঘটনা খুব একটা শোনা যায়নি।

তবে এবার ডাকসু নেতাদের হাতে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীনকে হেনস্তার ঘটনা আলোচিত হয়েছে। যদিও এই শিক্ষকের নামে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সময়ে নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছিল, কিন্তু এভাবে হেনস্তার বিষয়টি কাম্য ছিল না। বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা নির্বাচিত হওয়ায় ডাকসুর নির্দলীয় মনোভাব ধরে রাখা সম্ভব হয়েছিল।

তবে এবার কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব প্রায় পুরোটা শিবির–সমর্থিত প্যানেল থেকে নির্বাচিত হওয়ায় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদর্শিক প্রভাব খাটাতে গিয়ে তারা নানাভাবে বিতর্ক তৈরি করেছে। এবারের ডাকসুর সবচেয়ে বিতর্কিত কার্যক্রম হলো সংগ্রহশালায় মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে আলোকিত করে রাখা এবং শেখ মুজিবুর রহমানকে বিকৃতভাবে উপস্থাপনা করা।

ডাকসু সংগ্রহশালায় শেখ মুজিবের বড় ছেলে শেখ কামালের বিয়ের ছবিও যুক্ত করা হয়েছে। একজন সাংবাদিক সংগ্রহশালার সমন্বয়কারীকে প্রশ্ন করেছিলেন, শেখ মুজিবের ৭ মার্চ বা স্বাধীনতা আন্দোলনের কোনো ছবি কেন রাখা হয়নি। সমন্বয়কারী এর উত্তরে বলেছিলেন, "ইচ্ছে হয়নি, তাই।"

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...