স্বাস্থ্যদেশে প্রায় ৫৯ হাজার চিকিৎসকের ঘাটতি: সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
দেশে প্রায় ৫৯ হাজার চিকিৎসকের ঘাটতি: সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সংসদে জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী দেশে প্রায় ৫৮ হাজারের বেশি চিকিৎসকের ঘাটতি রয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন আজ সংসদে জানিয়েছেন যে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী দেশে প্রায় ৫৮ হাজারের বেশি চিকিৎসকের ঘাটতি রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্ধারিত ন্যূনতম অনুপাত পূরণে এই সংখ্যক চিকিৎসকের অভাব দেখা যাচ্ছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে বর্তমানে ৩০ হাজার ৩১১ জন চিকিৎসক কর্মরত আছেন বলেও মন্ত্রী উল্লেখ করেন।
আজ সোমবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে বিএনপির সংসদ সদস্য মো. জাহান্দার আলী মিহারের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই তথ্য উপস্থাপন করেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে বেলা ৩টার দিকে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালে সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত একটি গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি এক হাজার মানুষের বিপরীতে শূন্য দশমিক ৫০ জন চিকিৎসকের ন্যূনতম মান পূরণ করতে দেশে প্রায় ৮৮ হাজার ৯০৯ জন চিকিৎসক প্রয়োজন। এই গবেষণাটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে পরিচালিত হয়েছে। দেশের জনসংখ্যার তুলনায় এই প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসকের অভাব বিদ্যমান।
সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের জন্য মোট ৪১ হাজার ৮০৬টি পদ অনুমোদিত রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে ৩০ হাজার ৩১১টি পদে চিকিৎসক কর্মরত আছেন। ফলে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় চিকিৎসকের ১১ হাজার ৪৯৫টি পদ এখনো শূন্য রয়েছে বলে মন্ত্রী জানান।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশের জনসংখ্যার তুলনায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসকের সংখ্যা নির্ধারণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় স্বাস্থ্যকর্মী-সংক্রান্ত বিভিন্ন মানদণ্ড বিবেচনা করা হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দেশে চিকিৎসকের মোট সংখ্যা এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় কর্মরত চিকিৎসকের সংখ্যা এক নয়।
সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর শূন্য পদ পূরণ এবং চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়াতে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন নিয়োগ কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। ৪৪তম ও ৪৮তম বিশেষ বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান।
পাশাপাশি ৪৫তম, ৪৬তম, ৪৭তম ও ৫০তম বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী সার্জন নিয়োগের প্রক্রিয়াও বর্তমানে চলমান রয়েছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়াগুলো দেশের চিকিৎসক সংকট নিরসনে সহায়ক হবে বলে সরকার মনে করছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর শূন্য পদগুলো ধাপে ধাপে পূরণে চলমান নিয়োগ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন পদ সৃষ্টি করে জনগণের জন্য সহজলভ্য, মানসম্মত ও জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মতামত (0)