রাজনীতি

ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চে সরকার পতনের হুঁশিয়ারি

ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চে সরকার পতনের হুঁশিয়ারি
ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চে সরকার পতনের হুঁশিয়ারি
১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম লংমার্চে ছয় দফা দাবি না মানলে সরকার পতনের একদফা আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

গতকাল শনিবার ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসনসহ ছয় দফা দাবিতে এই কর্মসূচি শুরু হয়। রাজধানীর শাপলা চত্বরে সকাল ৭টায় উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

পথসভাগুলোতে বক্তারা জানান, তারা এখনই সরকার পতনের দাবি করছেন না। তবে দাবি না মানলে সরকার পতনের একদফা আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা উল্লেখ করেন, নতুন ফ্যাসিবাদ বিদায় করতে সাড়ে ১৫ বছর লাগবে না।

লংমার্চটি চিটাগাং রোড, কুমিল্লার পদুয়া, চৌদ্দগ্রাম, ফেনীর মহিপাল, মীরের সরাইসহ বিভিন্ন স্থানে পথসভার মাধ্যমে এগিয়ে যায়। এসব পথসভা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ বৃষ্টি ও রোদ উপেক্ষা করে প্রিয় নেতাদের একনজর দেখার জন্য অপেক্ষা করে।

লংমার্চের গাড়ি বহরকে স্বাগত জানাতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে বিপুল সংখ্যক মানুষ জাতীয় পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে রাস্তার দু’পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ছিল। সমাবেশে উপস্থিত জনতা “গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে, নইলে গদি ছেড়ে দে” স্লোগান দেয়।

রাত ৯টার দিকে চট্টগ্রাম লালদিঘী ময়দানে বিশাল সমাবেশের মাধ্যমে লংমার্চ কর্মসূচি শেষ হয়। লালদিঘী মাঠ রাতে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ ছিল। সমাবেশগুলো থেকে জনগণের সমস্যা সমাধানের জন্য বক্তব্য দেওয়া হয়।

শাপলা চত্বরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেন, জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি করলে জনগণও কাউকে ছাড় দেবে না। তিনি আরও বলেন, জনগণের অধিকার আদায়ে সংসদ এবং রাজপথে সমান্তরালভাবে আন্দোলন চলতে থাকবে। তিনি উল্লেখ করেন, তারা কোনো দল, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জন্য নয়, বরং জনগণের জন্য রাজপথে নেমেছেন।

ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেন, ১৮ কোটি মানুষের প্রতিটি অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন সংসদে এবং রাজপথে চলবে। তিনি ছয় দফার সাথে সপ্তম দফা হিসেবে ‘কোনো চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজের অস্বিস্ত বাংলাদেশে আমরা বরদাস্ত করবো না’ বলে ঘোষণা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, চাঁদাবাজদের জ্বালায় জনগণ অতিষ্ঠ এবং দুর্নীতিবাজদের হাতে জনগণের অধিকার লুন্ঠিত।

তিনি গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি না থাকা সত্ত্বেও বিলের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া সিফাত নামের এক তরুণের প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সিফাতের মুখের ভাষা নয়, বরং যে বিষয়ে সে প্রতিবাদ করেছে, সেই বিষয়ে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ প্রয়োজনে সিফাত হয়ে গর্জন করবে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ভালো ভালোই সিফাতকে ছেড়ে দিতে হবে, অন্যথায় এক নুর হোসেন, এক ইয়াসমিন, এক ডা. মিলন অনেকের গদিকে উলট-পালট করে দিয়েছিল।

আমীরে জামায়াত বলেন, মানুষের অধিকার আদায়ে তারা অঙ্গীকারবদ্ধ এবং এই কর্মসূচি সেই অঙ্গীকার পূরণের জন্য শুরু হয়েছে। তিনি জানান, তাদের কর্মসূচির কৌশল ইতোমধ্যে কাজ করতে শুরু করেছে এবং বিভিন্ন জায়গায় এর ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

১১ দলীয় ঐক্য ঘোষণা করেছে, এই লংমার্চই শেষ নয়। সরকার তাদের দাবি না মানলে ঢাকা থেকে বিভাগীয় শহরগুলোতে লংমার্চ করা হবে। সবশেষে সারা দেশ থেকে ঢাকা অভিমুখে লংমার্চ করে মহা সমাবেশের মাধ্যমে সরকারকে দাবি মানতে বাধ্য করা হবে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...