রাজনীতিজনগণের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার ঘোষণা জামায়াত আমিরের
জনগণের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার ঘোষণা জামায়াত আমিরের
গত শনিবার জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথে থাকবেন। ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।
গত শনিবার জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথে থাকবেন। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার জনগণের সঙ্গে ভাওতাবাজি ও প্রতারণা করছে এবং ওয়াদা দিয়ে তা লঙ্ঘন করছে। জনগণ তাদের ক্ষমা করবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন। গত শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুমিল্লা নগরীর পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় এই পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে নারায়ণগঞ্জের শিমরাইলেও একটি পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে এই রাস্তায় যারা রক্ত ঢেলেছিলেন, তাদের দাবি পূরণ হয়নি। সেই দাবি পূরণ করার জন্য তারা রাস্তায় নেমেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দাবি পূরণ করে ঘরে ফিরবেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নের দাবি তুলে জামায়াত আমির আরও বলেন, তারা গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করার জন্য রাস্তায় নেমেছেন। জনগণের ঘরে গ্যাস ও বিদ্যুৎ ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থার জন্যও তারা আন্দোলন করছেন। তিনি প্রশ্ন করেন, জনগণ কি ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ও গ্যাস পান এবং চাঁদাবাজি হয় কি না।
দেশ মাদকে ছেয়ে গেছে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, ১১ দল জনগণের পাশে আছে এবং জনগণের ঐক্যবদ্ধ এই প্রয়াস আল্লাহ কবুল করবেন। তিনি একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
পথসভায় জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বক্তব্য দেন। তিনি লংমার্চের ছয় দফা দাবি বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায় কার্যকর করার আহ্বান জানান।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের এসব মৌলিক দাবি পূরণ না হলে সরকার গদিতে থাকতে পারবে না। তিনি গণভোটের রায় বাস্তবায়নেরও দাবি জানান।
লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের দেওয়া রায় কার্যকর করতে হবে। এই রায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাস্তবায়িত না হলে সরকারকে ব্যর্থ করে দেওয়ার কথা বলেন তিনি। জনগণের উদ্দেশে তিনি শক্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বেইমান ও মুনাফিকদের কাতারে না দাঁড়াতে বলেন।
খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন এবং দেশকে সঠিক গন্তব্যে এগিয়ে নিতে সামনে আরও কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। তিনি মন্তব্য করেন, লংমার্চের মধ্য দিয়ে চলমান আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হচ্ছে। ১৯৭০ সালের গণরায়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেই রায় নিয়ে তামাশা করার অপরাধে মুক্তিযুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছিল।
জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ছয় দফা দাবিতে গত শনিবার সকালে রাজধানী থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ শুরু হয়। নারায়ণগঞ্জের শিমরাইলসহ বিভিন্ন স্থানে পথসভা শেষে লংমার্চটি কুমিল্লায় পৌঁছে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে পথসভা করে। পথসভা শেষে লংমার্চটি চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করে।
কুমিল্লায় অনুষ্ঠিত পথসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও কুমিল্লা মহানগরী আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ সভাপতিত্ব করেন। সভা পরিচালনা করেন কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি মো. মাহবুবর রহমান। এতে সহকারী সেক্রেটারি কামারুজ্জামান সোহেল ও কাউন্সিলর মোশাররফ হোসাইনও দায়িত্ব পালন করেন।
বাংলাদেশ লেবার পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব খন্দকার মিরাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব আলী হোসেন আকন্দ, আমার বাংলাদেশ পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট যোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য মো. আবদুস সাত্তার, কুমিল্লা জেলা দক্ষিণ জামায়াতের আমির মোহাম্মদ শাহজাহান অ্যাডভোকেট, কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবদুল মতিন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মজিবুর রহমান ভূঁইয়া এবং চাঁদপুর জেলা জামায়াতের আমির মো. বিল্লাল হোসাইন পথসভায় উপস্থিত ছিলেন।
মতামত (0)