রাজনীতিমালয়েশিয়ায় প্রবাসীদের সমস্যা নিয়ে হাইকমিশনে অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের আলোচনা
মালয়েশিয়ায় প্রবাসীদের সমস্যা নিয়ে হাইকমিশনে অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের আলোচনা
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি প্রবাসীদের পাসপোর্ট জটিলতা, শ্রমিক নিয়োগ ও অবৈধ অভিবাসনসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি। তিনি প্রবাসীদের ভালো-মন্দ দেখার দায়িত্ব হাইকমিশনের বলে উল্লেখ করেন।
মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে গত বুধবার বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি। মালয়েশিয়া সফররত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, প্রবাসীদের ভালো-মন্দ দেখার দায়িত্ব বাংলাদেশ হাইকমিশনের। মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট জটিলতা, শ্রমিক নিয়োগ, অবৈধ অভিবাসন এবং দক্ষ জনশক্তির চাহিদা নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়। আটক বাংলাদেশিদের আইনি সহযোগিতা নিশ্চিত করা এবং দক্ষ জনশক্তির কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি নিয়েও আলোচনা করা হয়। হাইকমিশনে পৌঁছালে কাউন্সেলর (রাজনৈতিক) ও হেড অব চ্যান্সারি প্রণব কুমার ভট্টাচার্যসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা অধ্যাপক মুজিবুর রহমানকে স্বাগত জানান।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট-সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। তিনি হাইকমিশনের কার্যক্রম এবং প্রবাসীদের সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা বা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে কি না, সে বিষয়েও কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চান।
হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী এ সময় মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি জানান, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় আনুমানিক ১৫ লাখ বাংলাদেশি অভিবাসী রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হাইকমিশনার আরও জানান, মালয়েশিয়ায় মোট ৩৭টি কারাগার রয়েছে, যেখানে বিভিন্ন দেশের আটক ব্যক্তিদের রাখা হয়। এছাড়া অবৈধ অভিবাসীদের জন্য দেশটিতে ১৭টি ডিটেনশন ক্যাম্প রয়েছে। বর্তমানে কারাগার ও ডিটেনশন ক্যাম্পে প্রায় ১ হাজার ৯০০ বাংলাদেশি আটক রয়েছেন।
এ সময় আটক বাংলাদেশিদের প্রয়োজনীয় আইনি সহযোগিতা নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রসঙ্গে হাইকমিশনার বলেন, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। তিনি আরও জানান, প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশন কাজ করে যাচ্ছে।
আলোচনায় বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট) নিয়েও কথা হয়। হাইকমিশনার জানান, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ফ্রি ট্রেড-সংক্রান্ত একটি চুক্তি বা সমঝোতা কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি ভালো উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
শ্রমবাজার প্রসঙ্গে হাইকমিশনার বলেন, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগের বিষয়টি সরাসরি আলোচনার পরিবর্তে অধিকাংশ ক্ষেত্রে রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বেশি আলোচনা হয়, যা দুঃখজনক। তিনি জানান, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় দক্ষ কর্মীর চাহিদা রয়েছে এবং বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি নেওয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট সুযোগ আছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, মালয়েশিয়ায় প্রায় ২ হাজার ৫০০ রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি রয়েছে।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি নারী শ্রমিকদের অবস্থা এবং তাদের আত্মসম্মান রক্ষার বিষয়েও জানতে চান। জবাবে হাইকমিশনার জানান, নারীদের জন্য দক্ষ ও অদক্ষ উভয় ধরনের কর্মসংস্থানের ভিসা বর্তমানে সীমিত অথবা অনেক ক্ষেত্রে সুযোগ নেই।
বাংলাদেশি শ্রমিক মালয়েশিয়ায় নেওয়ার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক রয়েছে, যার বর্তমান সময়সীমা আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত। ভবিষ্যতে কীভাবে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা যায়, সে বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি মালয়েশিয়া-সংক্রান্ত নির্ভুল ও বাস্তবভিত্তিক তথ্য বাংলাদেশ সরকার ও বিরোধী দলের কাছে সরবরাহের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি দালালচক্রের দৌরাত্ম্য কমানো, শ্রমিক নিয়োগে আর্থিক অনিয়ম ও প্রতারণা বন্ধ করা এবং বাংলাদেশি শ্রমিকদের মালয়েশিয়ায় আসার ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সেবা নিশ্চিত করতে হাইকমিশনকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তাদের সমস্যা ও দুর্ভোগ নিরসনে হাইকমিশনকে আরও আন্তরিক ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
আলোচনায় হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী, ডেপুটি হাইকমিশনার মোসাম্মাদ শাহানারা মনিকা এবং হেড অব চ্যান্সারি প্রণব কুমার ভট্টাচার্য উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মালয়েশিয়া শাখার সেক্রেটারি জেনারেল ড. খাইরুল ইসলাম, ড. ইউসুফ আলী এবং সাইফুদ্দিন ইয়াহহিয়াসহ সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মতামত (0)