স্বাস্থ্য

দৈনিক পানির চাহিদা ও অতিরিক্ত পানি পানের ঝুঁকি

দৈনিক পানির চাহিদা ও অতিরিক্ত পানি পানের ঝুঁকি
দৈনিক পানির চাহিদা ও অতিরিক্ত পানি পানের ঝুঁকি
বয়স, ওজন, আবহাওয়া ও শারীরিক পরিশ্রমভেদে পানির চাহিদা ভিন্ন হয়। অতিরিক্ত পানি পান করলে শরীরে সোডিয়াম কমে যাওয়া, কিডনির ওপর চাপ বাড়া, শরীর ফুলে যাওয়া, মাথাব্যথা ও দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।

শারীরিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া, হজম শক্তি বৃদ্ধি, পুষ্টি উপাদান পরিবহন এবং কিডনির স্বাভাবিক কার্যক্রমে পানির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকে মনে করেন, প্রতিদিন আট গ্লাস পানি পান করাই যথেষ্ট। তবে বাস্তবে পানির চাহিদা এত সরল নয়। বয়স, শরীরের ওজন, আবহাওয়া, শারীরিক পরিশ্রমের মাত্রা এবং বিভিন্ন রোগের কারণে শরীরে পানির প্রয়োজনীয়তা ভিন্ন হতে পারে।

পানি কম পান করা যেমন শরীরের জন্য ক্ষতিকর, তেমনি অতিরিক্ত পানি পান করাও বিপজ্জনক হতে পারে। শিশুদের শরীরে পানির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে এবং তাদের দ্রুত পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। তাই শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত তরল ও পানির যোগান নিশ্চিত করা জরুরি।

কিশোর-কিশোরীদের শারীরিক বৃদ্ধি দ্রুত হয় এবং তাদের খেলাধুলা ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড বেশি থাকে। এ কারণে তাদের পানির চাহিদাও বৃদ্ধি পায়। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে দৈনন্দিন কাজ, আবহাওয়া এবং কায়িক শ্রমের ওপর নির্ভর করে পর্যাপ্ত পানি পান করা উচিত। বিশেষ করে গরমের সময়ে অথবা যখন শরীর থেকে বেশি ঘাম নির্গত হয়, তখন পানির প্রয়োজন আরও বেড়ে যায়।

প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য পানি পানের একটি বহুল ব্যবহৃত সূত্র রয়েছে। এই সূত্র অনুযায়ী, একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি প্রতিদিন কতটুকু পানি পান করবেন, তা তাঁর শরীরের ওজনের ওপর নির্ভরশীল। প্রতি কেজি ওজনের জন্য ৩০ থেকে ৩৫ মিলিলিটার পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়। উদাহরণস্বরূপ, একজন ৬০ কেজি ওজনের ব্যক্তিকে প্রতিদিন ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ১০০ মিলিলিটার পানি পান করতে হবে। এটিকে লিটারে রূপান্তর করলে পরিমাণ দাঁড়ায় ১.৮ লিটার থেকে ২.১ লিটার।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তৃষ্ণা অনুভবের ক্ষমতা কমে যেতে পারে। এর ফলে অনেক সময় বয়স্করা কম পানি পান করেন, যা সহজে পানিশূন্যতার ঝুঁকি তৈরি করে। গর্ভবতী নারীদের জন্য অতিরিক্ত ৩০০ মিলিলিটার পানি প্রয়োজন হয়। দুগ্ধদানকারী মায়েদের দৈনিক ৭০০ থেকে ১০০০ মিলিলিটার অতিরিক্ত পানি পান করা দরকার।

জ্বর হলে শরীরের তাপমাত্রা প্রতি ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে পানির চাহিদা ১০ থেকে ১২ শতাংশ বেড়ে যায়। ডায়রিয়া বা বমি হলে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়, তাই এ সময় অতিরিক্ত পানি বা ওরস্যালাইন গ্রহণ করা আবশ্যক। কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে পানির পরিমাণ নির্ধারণের জন্য একজন চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

অতিরিক্ত পানি পান করলে শরীরে বেশ কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর ফলে শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা কমে যেতে পারে। কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং শরীর ফুলে যেতে পারে। এছাড়া, অতিরিক্ত পানি পানের কারণে মাথাব্যথা ও দুর্বলতাও দেখা দিতে পারে।

সুস্থ থাকতে হলে পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পানি কম খাওয়া যেমন শরীরের জন্য ক্ষতিকর, তেমনি প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি পান করাও বিপজ্জনক হতে পারে। সবার পানির চাহিদা এক নয়; নিজের বয়স, শারীরিক অবস্থা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক পরিমাণে পানি পান করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...