প্রযুক্তিএক্সওয়াইজেড ক্লাউডের এআই প্রশিক্ষণ ও সুরক্ষিত ডেটা অবকাঠামো উদ্যোগ
এক্সওয়াইজেড ক্লাউডের এআই প্রশিক্ষণ ও সুরক্ষিত ডেটা অবকাঠামো উদ্যোগ
এক্সওয়াইজেড ক্লাউড বাংলাদেশ এআই প্রশিক্ষণ এবং নিরাপদ ক্লাউড ডেটা ব্যবস্থাপনাকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে এআই ল্যাব, অ্যাপ্লায়েড এআই অ্যাকসেলারেটর ও এক্সওয়াইজেড ড্রাইভস।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে কর্মীদের এআই ব্যবহারে দক্ষ করার পাশাপাশি সংবেদনশীল তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রশ্নটি গুরুত্ব পাচ্ছে। এই দুটি বিষয়কে একই কাঠামোর মধ্যে আনার উদ্যোগ নিয়েছে এক্সওয়াইজেড ক্লাউড বাংলাদেশ লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি এআই প্রশিক্ষণ, হাতে-কলমে অনুশীলন এবং নিরাপদ ক্লাউডভিত্তিক ডেটা ব্যবস্থাপনাকে সমন্বিত করতে তিনটি উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
এই উদ্যোগগুলো হলো ‘এক্সওয়াইজেড ক্লাউড এআই ল্যাব’, ‘অ্যাপ্লায়েড এআই অ্যাকসেলারেটর’ এবং ‘এক্সওয়াইজেড ড্রাইভস’। প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৪ ও ৫ সেপ্টেম্বর পেশাজীবীদের জন্য দুই দিনব্যাপী ‘অ্যাপ্লায়েড এআই অ্যাকসেলারেটর ফর প্রফেশনালস’ প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হবে। প্রশিক্ষণের পর অংশগ্রহণকারীদের জন্য ৬০ দিনের নির্দেশিত অনুশীলন এবং এআই ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।
পেশাগত কাজে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে শুধু ভালো প্রম্পট তৈরি করাকে যথেষ্ট মনে করছে না প্রতিষ্ঠানটি। বরং একটি কাজের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নির্দিষ্ট কর্মপ্রবাহ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রস্তাবিত কর্মপ্রবাহটি ছয়টি ধাপে বিভক্ত: ব্রিফ, প্রেক্ষাপট, সীমাবদ্ধতা, খসড়া, যাচাই এবং উন্নয়ন।
এই পদ্ধতিতে প্রথমে কাজের উদ্দেশ্য ও প্রত্যাশিত ফল নির্ধারণ করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রেক্ষাপট যুক্ত করা, সীমাবদ্ধতা ঠিক করা, প্রাথমিক ফল তৈরি, তথ্য যাচাই এবং সবশেষে ফলাফল উন্নত করার নির্দেশনা দেওয়া হবে। বিপণন, মানবসম্পদ, সাংবাদিকতা, আর্থিক বিশ্লেষণ, শিক্ষা, করপোরেট যোগাযোগ ও প্রশাসনিক কাজের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের অনুশীলন করানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রশিক্ষণে বাস্তব কর্মক্ষেত্রভিত্তিক বিভিন্ন ঘটনা ও সমস্যা নিয়ে অনুশীলনের সুযোগ রাখার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এক্সওয়াইজেড ক্লাউডের এই উদ্যোগের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পরও শেখার সুযোগ চালু রাখা। দুই দিনের সরাসরি প্রশিক্ষণের পর অংশগ্রহণকারীরা ৬০ দিন ধরে নির্দেশিত অনুশীলন, কাজ সংরক্ষণ এবং অভ্যন্তরীণ এআই ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য শুধু বিভিন্ন এআই টুলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া নয়, বরং অংশগ্রহণকারীরা যেন নিজেদের কর্মক্ষেত্রের বাস্তব সমস্যায় এআই প্রয়োগ করতে পারেন, সেই দক্ষতা তৈরি করা।
পেশাগত প্রশিক্ষণে এক্সওয়াইজেড ক্লাউড বাংলাদেশের কার্যক্রম কয়েক বছর আগে শুরু হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৩ সাল থেকে গেমপ্লিফাই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কমিউনিটি অনুষ্ঠান, কুইজ, সম্মেলন ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। পরবর্তী সময়ে কার্যক্রম পেশাগত প্রশিক্ষণেও বিস্তৃত হয়।
ক্রীড়া সাংবাদিকতা বিষয়ক একটি কর্মশালায় পাঁচ শতাধিক ব্যক্তি নিবন্ধন করেন এবং ১৭০ জন সরাসরি অংশ নেন। এ ছাড়া এআই, তথ্য যাচাই, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন নিয়েও প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হয়েছে। একটি দুই দিনব্যাপী কর্মসূচিতে ৬০ জন সংবাদকর্মী অংশ নিয়েছিলেন। চলতি বছরের মে মাসে ঢাকায় কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠনের সদস্যদের জন্য সাত ব্যাচে সাত দিনব্যাপী প্রশিক্ষণও পরিচালনা করা হয়।
দেশের একটি বড় অনলাইন সংবাদমাধ্যমের ৫০ জনের বেশি কর্মীর জন্য হাতে-কলমে এআই প্রশিক্ষণ আয়োজন করে এক্সওয়াইজেড ক্লাউড বাংলাদেশ ও গেমপ্লিফাই। এআই ব্যবহারের বিস্তারের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ডেটা নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। গোপন নথি, গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য, আর্থিক রেকর্ড, আইনগত দলিল বা অপ্রকাশিত কনটেন্ট এআই ব্যবস্থায় ব্যবহার করার ক্ষেত্রে তথ্য কোথায় যাচ্ছে, কে তা ব্যবহার করতে পারছে এবং তৈরি হওয়া ফলাফল কোথায় সংরক্ষিত হচ্ছে—এসব প্রশ্ন সামনে আসে।
এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এক্সওয়াইজেড ক্লাউড বাংলাদেশ তাদের ‘এক্সওয়াইজেড ড্রাইভস’ উদ্যোগকে এআই ল্যাবের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এক্সওয়াইজেড ড্রাইভস ব্যবহারকারী-নিয়ন্ত্রিত এনক্রিপ্টেড স্টোরেজ, অনুমোদন ব্যবস্থা এবং গোপনীয়তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া ডেটা ব্যবস্থাপনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি ক্লাউড অবকাঠামো। প্রতিষ্ঠানটি এর মূল প্রযুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে পেটেন্ট আবেদন প্রক্রিয়াধীন এনক্রিপ্টেড স্টোরেজ প্রযুক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এক্সওয়াইজেড ড্রাইভসের পরিকল্পনায় আলাদা ‘ভল্ট’ বা নিরাপত্তা সীমানার ধারণা রয়েছে। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট দল, প্রকল্প, গ্রাহক বা সংবেদনশীল কাজের তথ্যকে আলাদা নিরাপত্তা ও অনুমোদন কাঠামোর মধ্যে রাখার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এক ভল্ট থেকে অন্য ভল্টে তথ্য স্থানান্তরের বিষয়টিও এই পরিকল্পনার অংশ।
মতামত (0)