শিক্ষা

এসএসসি পুনর্নিরীক্ষণে ব্যাপক ফল পরিবর্তন: মূল্যায়ন পদ্ধতির মান নিয়ে প্রশ্ন

এসএসসি পুনর্নিরীক্ষণে ব্যাপক ফল পরিবর্তন: মূল্যায়ন পদ্ধতির মান নিয়ে প্রশ্ন
এসএসসি পুনর্নিরীক্ষণে ব্যাপক ফল পরিবর্তন: মূল্যায়ন পদ্ধতির মান নিয়ে প্রশ্ন
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পুনর্নিরীক্ষণে ২৭ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থীর ফল এবং ৫৬ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থীর নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। ৪ হাজার ৫৮৫ জন ফেল থেকে পাস করেছে এবং ৩ হাজার ৭৯ জন নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে।

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণে রেকর্ড সংখ্যক পরীক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে। এবারের পুনর্নিরীক্ষণে ২৭ হাজার ৮৩৬ জনের ফল বা গ্রেড পরিবর্তিত হয়েছে। ৫৬ হাজার ২৫৯ জনের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে।

প্রথম দফায় ফেল করা ৪ হাজার ৫৮৫ জন পরীক্ষার্থী এখন পাস করেছে। এই সংখ্যা গতবারের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি। এছাড়া, নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৭৯ জন পরীক্ষার্থী।

পুনর্নিরীক্ষণের পর ফলাফলে এই ব্যাপক পরিবর্তন পাবলিক পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নব্যবস্থার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এর মাধ্যমে প্রথম দফায় উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় পরীক্ষকদের দেওয়া নম্বরের নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, এবার ফল পরিবর্তনের সংখ্যা বেশি হওয়ার একটি কারণ হলো পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়ন একসঙ্গে করা হয়েছে। আগে পুনর্নিরীক্ষণেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পরীক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হতো। এবার পুনর্নিরীক্ষণের পাশাপাশি পুনর্মূল্যায়ন হওয়ায় পরিবর্তনের সংখ্যা বেশি হয়েছে।

অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান আরও বলেন, পুনর্মূল্যায়নে এত বেশি পরিবর্তন হওয়া উচিত নয়। ব্যক্তিবিশেষে মূল্যায়নে কিছু পার্থক্য হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, এবার পুনর্মূল্যায়নের কাজ করতে শিক্ষকেরা অমানুষিক পরিশ্রম করেছেন এবং টানা ১১ দিন কাজ করেই এটি শেষ করা সম্ভব হয়েছে।

বিধি অনুযায়ী, প্রথম দফায় মূল্যায়নের সময় যেসব উত্তরপত্রে ‘অনুচিত’ নম্বর পাওয়া গেছে, সেই পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবারই প্রথম শিক্ষা বোর্ডের নিয়মে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ যুক্ত হয়েছে। এর আগে শুধু প্রাপ্ত নম্বরের যোগ-বিয়োগে কোনো ভুল হয়েছে কি না, তা দেখা হতো, যা পুনর্নিরীক্ষণ নামে পরিচিত ছিল।

গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। দীর্ঘদিন তুলনামূলক উচ্চ পাসের হার থাকার পর দুই বছর ধরে এসএসসির ফল কিছুটা নিম্নমুখী। এবার শুধু ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ, যা ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে গড় পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। ফলের এই নিম্নমুখী প্রবণতার মধ্যেই পুনর্নিরীক্ষণের পর হাজার হাজার পরীক্ষার্থীর গ্রেড ও ফল পরিবর্তন হওয়া বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। প্রথম ফল প্রকাশের সময় যে পরীক্ষার্থীকে অকৃতকার্য বলা হয়েছিল, পুনর্মূল্যায়নের পর তাঁরই পাস করার ঘটনা মূল্যায়নের নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো করেছে।

ফল প্রকাশের পর গত ১১ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত পুনর্নিরীক্ষণের জন্য অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হয়। শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ২৯ হাজারের বেশি।

১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন ৪ লাখ ২ হাজার ৫২ পরীক্ষার্থী উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছিল। তাদের আবেদনের আওতায় ছিল ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৮টি স্ক্রিপ্ট (পত্র)।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের জ্যেষ্ঠ সিস্টেম অ্যানালিস্ট মনজুরুল কবীর জানান, গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে ২৭ হাজার ৮৩৬ জনের এবং নম্বর পরিবর্তন হয়েছে ৫৬ হাজার ২৫৯ জনের। ফেল থেকে পাস করেছে ৪ হাজার ৫৮৫ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৭৯ জন।

এত দিন পুনর্নিরীক্ষণে মূলত নম্বর গণনার ভুল সংশোধন করা হতো। শুধু ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে ৭২৩ জন, ২০২৩ সালে ৩ হাজার ৮৫ জন, ২০২৪ সালে ২ হাজার ৭২৩ জন এবং ২০২৫ সালে ২ হাজার ৯৪৬ জনের ফল পরিবর্তন হয়েছিল।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...