শিক্ষা

মক্কা চুক্তি নিয়ে পররাষ্ট্রনীতির স্বাধীনতা বিবেচনার আহ্বান ড. দিলারা চৌধুরীর

মক্কা চুক্তি নিয়ে পররাষ্ট্রনীতির স্বাধীনতা বিবেচনার আহ্বান ড. দিলারা চৌধুরীর
মক্কা চুক্তি নিয়ে পররাষ্ট্রনীতির স্বাধীনতা বিবেচনার আহ্বান ড. দিলারা চৌধুরীর
অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী সম্ভাব্য মক্কা প্যাক্টে অংশগ্রহণের আগে জাতীয় স্বার্থ, ঝুঁকি ও পররাষ্ট্রনীতির স্বাধীনতা বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী বাংলাদেশের সম্ভাব্য ‘মক্কা চুক্তি’ বা মক্কা প্যাক্টে অংশগ্রহণের বিষয়ে জাতীয় স্বার্থ, সম্ভাব্য লাভ-ক্ষতি, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত ঝুঁকি এবং পররাষ্ট্রনীতির স্বাধীনতা বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। আজ বুধবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের ইলেকশন ল্যাবের উদ্যোগে আয়োজিত এক ওয়েবিনারে তিনি এসব কথা বলেন। ‘বাংলাদেশ ও মক্কা চুক্তি : সম্ভাবনা, কৌশলগত পছন্দ এবং দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এই ওয়েবিনারে অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী তার বক্তব্য তুলে ধরেন।

অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, গণমাধ্যমে মক্কা চুক্তি নিয়ে অতিরিক্ত ‘হাইপ’ তৈরি করা হয়েছে। অথচ বাংলাদেশ এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পায়নি এবং চুক্তির পূর্ণাঙ্গ কাঠামো ও নীতিগত বিষয়গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি। তাই আগাম কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিয়ে বিষয়টি আরও গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে কোনো সামরিক জোটে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। দেশের নিজস্ব অর্থনৈতিক ভিত্তি ও জাতীয় ঐকমত্য শক্তিশালী না হলে কোনো বহিরাগত শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কৌশলগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে বিভিন্ন দেশের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার দীর্ঘদিনের চর্চার কথাও তিনি তুলে ধরেন।

বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণের বিষয়ে তিনি কিছু ধাপের কথা উল্লেখ করেন। প্রথমে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ আসতে হবে এবং এরপর বিষয়টি সংসদে দলমত নির্বিশেষে আলোচনা করা উচিত। একই সাথে জনগণের মতামত বিবেচনা করে চুক্তিতে যোগ দিলে বাংলাদেশের কতটা লাভ হবে এবং এর বিনিময়ে কী ধরনের ব্যয় বা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, তা মূল্যায়ন করতে হবে। এর ফলে বাংলাদেশের স্বাধীনভাবে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনায় কোনো সীমাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে কি না, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

ওয়েবিনারে বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সভাপতি রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবীর, সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো: মনিরুজ্জামান এবং পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো: নজরুল ইসলাম বক্তব্য দেন। রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবীর মক্কা প্যাক্টের সম্ভাব্য কৌশলগত গুরুত্ব এবং জাতীয় স্বার্থের বিষয়টি তুলে ধরেন। অধ্যাপক ড. মো: মনিরুজ্জামান সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং তাদের সম্ভাব্য সহযোগিতার আঞ্চলিক প্রভাব বিশ্লেষণ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো: নজরুল ইসলাম। ইলেকশন ল্যাবের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো: সাহাবুল হক ওয়েবিনারের সঞ্চালনা করেন। বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইলেকশন ল্যাবের অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. জায়েদ শারমিন স্বাগত বক্তব্য রাখেন।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...