সারাদেশ

ক্রসফায়ারে নিহত জাসাস নেতার স্ত্রীর ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি

ক্রসফায়ারে নিহত জাসাস নেতার স্ত্রীর ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি
ক্রসফায়ারে নিহত জাসাস নেতার স্ত্রীর ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি
ক্রসফায়ারে নিহত জাসাস নেতা কবির মোল্লার স্ত্রী আকলিমা বেগম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি জানান, ২০১৫ সালে গ্রামের বাড়িতে স্বামীর লাশ দেখতে পান, বুকে ছিল দুটি গুলি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জাসাস নেতা কবির মোল্লার স্ত্রী আকলিমা বেগম জবানবন্দি দিয়েছেন। গতকাল (রবিবার) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ তিনি এই জবানবন্দি দেন। তিনি বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা জাতীয়তাবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)-এর সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লার স্ত্রী।

ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে ক্রসফায়ার দেওয়ার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার ১৪তম সাক্ষী হিসেবে আকলিমা বেগম তার বক্তব্য উপস্থাপন করেন। প্রায় এক দশক আগে এই ঘটনা ঘটেছিল।

আকলিমা বেগম জবানবন্দিতে জানান, ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তিনি তাদের গ্রামের বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে তিনি তার স্বামীর লাশ উঠানে দেখতে পান। তার স্বামীর বুকে দুটি গুলি ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও জানান, আত্মীয়স্বজন তাকে স্বামীর লাশ দেখতে নিষেধ করেছিলেন। তবে তিনি লাশ দেখেছিলেন এবং দ্রুত লাশ দাফন করে চলে যাওয়ার জন্য তাদের বলা হয়েছিল।

জবানবন্দিতে আকলিমা বেগম বলেন, ২০১৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তিনি সাভার ও আশুলিয়ায় তার স্বামীর খোঁজ করেন। সেদিন তিনি স্বামীর কোনো সন্ধান পাননি।

পরদিন, ২১ ফেব্রুয়ারি, তিনি টেলিভিশনের হেডলাইনে দেখেন যে টিপু হাওলাদার ও কবির মোল্লাকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়েছে। এরপর তিনি সন্তান ও দেবরকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে যান।

২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং একই উপজেলার জাসাসের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লাকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়েছিল। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই মামলাটি চলছে।

আকলিমা বেগম তার জবানবন্দিতে বলেন, আগৈলঝাড়া থানার লোকেরা তার স্বামীকে হত্যা করেননি। তিনি অভিযোগ করেন, পাশের থানার দুজন পুলিশ সদস্য এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।

এই মামলায় মোট চারজন আসামি রয়েছেন। তাদের মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এবং বরিশালের সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ বর্তমানে পলাতক আছেন।

মামলার অপর দুই আসামি হলেন বরিশালের উজিরপুর থানার সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন। তারা দুজন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...