সারাদেশ

ইউপি নির্বাচনে সারাদেশে একক প্রার্থী দেবে এনসিপি: সারজিস আলম

ইউপি নির্বাচনে সারাদেশে একক প্রার্থী দেবে এনসিপি: সারজিস আলম
ইউপি নির্বাচনে সারাদেশে একক প্রার্থী দেবে এনসিপি: সারজিস আলম
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একক প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বরগুনায় এ তথ্য জানান।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একক প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তারা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে বরগুনা পৌর শহরের হোটেল বে অব বেঙ্গলে একটি কর্মসূচির পর সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সারজিস আলম এসব কথা বলেন। এনসিপির জেলা শাখার আয়োজনে এই সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

সারজিস আলম জানান, এনসিপি বাংলাদেশের ৪ হাজার ৬০০ ইউনিয়নে এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার জন্য কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, তারা ইতোমধ্যে উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের জন্য প্রার্থী ঘোষণা করেছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, এনসিপি সমর্থিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পদপ্রার্থী শীঘ্রই ঘোষণা করা হবে। তবে এই ঘোষণা কেন্দ্রীয়ভাবে হবে নাকি জেলার পক্ষ থেকে হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সারজিস আলম আশা প্রকাশ করেন, আগামী স্থানীয় নির্বাচনে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে এনসিপির প্রার্থী এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে এবং জয়লাভ করবে।

বিএনপি সরকারের ছয় মাস অতিক্রান্ত হয়েছে উল্লেখ করে সারজিস আলম বলেন, এখন আর তাদের "শিশু সরকার" বলার সুযোগ নেই। তিনি প্রশ্ন তোলেন, পাঁচ বছরের মেয়াদের মধ্যে ছয় মাস পরেও যদি সরকার নিজেকে শিশু সরকার বলে, তাহলে তারা কখন যুবক হবে বা উপযুক্ত হবে। তিনি মনে করেন, এই মুহূর্তে চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করা এবং বিদ্যমান সংকট কাটিয়ে ওঠা জরুরি।

এনসিপি নেতা আরও বলেন, বিএনপি যদি তাদের সমস্যাগুলো স্বীকার করে এবং একসঙ্গে কাজ করার প্রয়োজন মনে করে, তাহলে এনসিপি তাদের সহযোগিতা করতে সবসময় প্রস্তুত। তবে তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি চাঁদাবাজি, প্রশাসনে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দলীয়করণের মতো সমস্যাগুলো স্বীকার করতে রাজি নয়। এই অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সারজিস আলম আরও বলেন, সারাদেশে যারা শুধু দলের প্রতীক দেখে ভোট দিয়েছেন বা শুভাকাঙ্ক্ষী, কিন্তু কোনো অপরাধ করেননি, তারা চাইলে বিএনপি, জামায়াত বা এনসিপিসহ অন্যান্য দলে যেতে পারেন। তবে যারা অপরাধী, তাদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে বলে তিনি জোর দেন। তিনি বিএনপিকে আহ্বান জানান, তারা যেন অপরাধীদের প্রশ্নে কোনো ছাড় না দেয়।

তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি বিএনপি ভোটের জন্য বা প্রার্থী জেতানোর জন্য ছাড় দেয় বা অভ্যন্তরীণ সমঝোতা করে, তাহলে ভবিষ্যতে এটি তাদের জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, "আজ হয়তো ভোটের জন্য কিংবা প্রার্থী হিসেবে জেতার জন্য ছাড় দিচ্ছি, অভ্যন্তরীণ সমঝোতা করছে, কিন্তু আগামীতে যদি তারা শক্তিশালী হয় তাহলে তাদের জন্যই হিতে বিপরীত হবে। কিন্তু আমরা তাদের শক্তিশালী হতে দেব না।"

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে এনসিপির এই নেতা বলেন, তারা আর "কথার ফুলঝুরি" চান না, বরং কাজ দেখতে চান। তিনি শুধু প্রেজেন্টেশন না দেখে বাস্তবে কাজ দেখতে চান। তিনি বলেন, বিভিন্ন বিষয়ে তারা দেখতে চান যে সরকার সেগুলোকে কাজে পরিণত করেছে। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে একজন মানুষের সালাম জানানোর ঘটনা উল্লেখ করে তিনি প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা সবসময় ঠিক রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা অপরিহার্য বলে তিনি মনে করেন।

শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ টেনে সারজিস আলম বলেন, "শেখ হাসিনা এক হাজার ৪০০ মানুষকে খুন করে একটি স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে ভয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। শেখ হাসিনা বাংলাদেশে আর কোনোদিন ফিরে আসবেন না। শেখ হাসিনার মৃত্যু এই দেশে হবে না, কবরও এই দেশে হবে না।"

দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাদের পরামর্শ দিতে বলেছিলেন। এনসিপির সংসদ সদস্যরা লিখিতভাবে পরামর্শ পাঠিয়েছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সংসদেও আলোচনা করেছেন। তবে তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি দল কেবল লোক দেখানোর জন্য পরামর্শ নেয়, কিন্তু পরে তা কাজে লাগায় না বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় তাদের ডাকে না। তিনি মনে করেন, এটা শুধু মানুষকে দেখানোর জন্য করা হচ্ছে এবং যা করার তা নিজের দু-চারজন আস্থাভাজন ব্যক্তিদের নিয়ে করা হচ্ছে। সংকট মোকাবিলায় সরকারের সদিচ্ছা থাকলে তারা যেকোনো সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও তিনি জানান।

তিনি প্রত্যাশা করেন, গত ছয় মাসে তেল, গ্যাস, বিদ্যুতের সংকট এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি থেকে উত্তরণে বিএনপি শুধু "কথার ফুলঝুরি" না ছড়িয়ে কাজ করবে। তিনি বলেন, যদি সরকার বিরোধী দলকে সঙ্গে চায়, বিরোধী দল থাকবে। যদি কাজ না করে শুধু "কে কোথা থেকে কি নিতে পারবে, কতটুকু অংশ পাবে ও কতটুকু ভাগ পাবে" এই চিন্তা হয়, তাহলে বিরোধী দলকে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে হবে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...