সারাদেশ

মনপুরায় আড়াই কেজি ওজনের ‘রাজা ইলিশ’ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি

মনপুরায় আড়াই কেজি ওজনের ‘রাজা ইলিশ’ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি
মনপুরায় আড়াই কেজি ওজনের ‘রাজা ইলিশ’ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি
আজ মঙ্গলবার ভোলার মনপুরা রামনেওয়াজ মৎস্যঘাটে আড়াই কেজি ওজনের একটি ‘রাজা ইলিশ’ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা চলতি মৌসুমে জেলেদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে।

আজ মঙ্গলবার ভোলার মেঘনা নদীতে আড়াই কেজি ওজনের একটি ‘রাজা ইলিশ’ ধরা পড়েছে। মনপুরা উপজেলার রামনেওয়াজ মৎস্যঘাটে মাছটি প্রথমে নিলামে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। পরে ঘাটে বসেই ঢাকার এক ক্রেতার কাছে মুঠোফোনে ২০ হাজার টাকায় মাছটি বিক্রি করা হয়েছে।

জেলে এমরান মাঝি (৪৩) সকালে মেঘনা নদীতে জাল তোলার সময় অন্যান্য ইলিশের সঙ্গে বড় আকৃতির এই মাছটি পান। তিনি মাছটি মনপুরা ইউনিয়নের রামনেওয়াজ মৎস্যঘাটে নিয়ে আসেন। ফরহাদ হাওলাদারের আড়তে নিলামে তোলা হলে ব্যবসায়ী শাওন হাওলাদার সর্বোচ্চ দর দিয়ে মাছটি কিনে নেন।

মৎস্য ব্যবসায়ী মো. মাইনউদ্দিন জানান, শাওন হাওলাদার ১৫ হাজার টাকায় মাছটি কেনার পর ঢাকার কয়েকজন ব্যবসায়ী দরদামে অংশ নেন। পরে ঢাকার একজন ক্রেতা মুঠোফোনে যোগাযোগ করে মাছটি ২০ হাজার টাকায় কিনে নেন। ব্যবসায়ী শাওন হাওলাদার বলেন, তিনি নিলাম থেকে মাছটি ১৫ হাজার টাকায় কিনেছেন এবং ব্যক্তিগতভাবে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। তিনি ক্রেতার পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি।

উপকূলীয় অঞ্চলের জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীদের কাছে বড় আকারের এমন ইলিশ ‘রাজা ইলিশ’ নামে পরিচিত। স্থানীয় জেলে ও আড়তদারেরা এটিকে চলতি মৌসুমের অন্যতম বড় ইলিশ হিসেবে বিবেচনা করছেন। চলতি মৌসুমে নদীতে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ইলিশ না মিললেও এমন বড় মাছ ধরা পড়ায় জেলে ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

এর আগে গত শুক্রবার ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা তালতলি মৎস্যঘাটেও আড়াই কেজি ওজনের আরেকটি ‘রাজা ইলিশ’ ধরা পড়ে। জেলে মিরাজ মাঝি সাগর মোহনা থেকে মাছটি নিয়ে এসেছিলেন। সেই মাছটি নিলামে ১২ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি হলেও পরদিন ঢাকার আড়তে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছিল। ইলিশা তালতলি মৎস্যঘাটের আড়তদার নাগর হাজারি জানান, চলতি মৌসুমে এত বড় ইলিশ খুব কমই দেখা গেছে।

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হুসাইন জানান, মৌসুমের শেষ দিকে বড় ইলিশ ধরা পড়া একটি ইতিবাচক লক্ষণ। আড়াই কেজি ওজনের একটি ইলিশের বয়স আনুমানিক দুই থেকে আড়াই বছর হতে পারে। সামনে ডিম ছাড়ার মৌসুম হওয়ায় বড় ইলিশ নদীমুখী হচ্ছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আরও বলেন, মেঘনা নদীতে এখনো কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ইলিশ মিলছে না। ফলে জীবিকার তাগিদে অনেক জেলে গভীর সাগর মোহনায় মাছ ধরতে যাচ্ছেন। সেখানে মাছের সম্ভাবনা থাকলেও বৈরী আবহাওয়া, দুর্ঘটনার ঝুঁকি ও উচ্চ ব্যয়ের কারণে প্রতিটি যাত্রাই অনিশ্চয়তায় ভরা। জেলেরা জীবিকার প্রয়োজনে নদী ও সাগরের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...