শিক্ষাজাহাঙ্গীরনগরে দোকানের মালিকানা নিয়ে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, আহত ৯
জাহাঙ্গীরনগরে দোকানের মালিকানা নিয়ে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, আহত ৯
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দোকানের মালিকানা নিয়ে দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত নয়জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দোকানের মালিকানা নিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল এবং বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলসংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের সামনে থাকা ছয়টি দোকানের মালিকানা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। কাজী নজরুল ইসলাম হল নির্মাণের আগে দোকানগুলো বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের অধীনে পরিচালিত হতো। পরে নজরুল হল নির্মাণের পর হলটির শিক্ষার্থীরা নিজেদের হলের সামনে ও আশপাশের দোকানগুলোর মালিকানা দাবি করে। এ নিয়ে দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আব্দুস সাত্তার খান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু একপর্যায়ে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। কাজী নজরুল ইসলাম হলের শিক্ষার্থীরা প্রথমে এসে দোকানগুলোতে মার্কিং করে। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয় এবং দু-একজন শিক্ষার্থী আহত হন।
তিনি আরও বলেন, একপর্যায়ে কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট তার শিক্ষার্থীদের হলে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন নজরুল হলের শিক্ষার্থীরা আবার রবীন্দ্র চত্বরে ফিরে আসে। সেখানে একজন শিক্ষার্থী মাথায় গুরুতর আঘাত পান এবং তাকে মেডিক্যাল পাঠিয়ে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।
এরপর প্রক্টরসহ দুই হলের ওয়ার্ডেন, হাউস টিউটর, প্রক্টরিয়াল টিম ও নিরাপত্তাকর্মীরা ঘটনাস্থলে আসেন। দুই হলের শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ হলে ফেরানোর চেষ্টা করা হয় এবং উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করা হয়। দুই পক্ষই অন্য পক্ষের আগে যেতে রাজি ছিল না।
সহকারী প্রক্টর জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। দুই হলের শিক্ষার্থী ও হল প্রশাসনের সাথে আলোচনা করে সমঝোতার ভিত্তিতে একটি যৌক্তিক সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের উপ-প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা রিজওয়ানুর রহমান জানান, আজ বিকেল পৌনে ৫টা পর্যন্ত নয়জন আহত শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিতে এসেছেন। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সাভারের অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রেই চিকিৎসা নিয়েছেন।
আহত শিক্ষার্থীরা হলেন—পাবলিক হেলথ বিভাগের ৫৩ ব্যাচের আলী আরাফাত, অর্থনীতি বিভাগের ৫২ ব্যাচের আদনান আল মাহাদী, ভূগোল বিভাগের ৫২ ব্যাচের রেদোয়ান, জার্নালিজম বিভাগের ৫২ ব্যাচের এস এম শিমুল, আইন ও বিচার বিভাগের ৫৫ ব্যাচের কাজী রোকনুজ্জামান, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ৫২ ব্যাচের রোহান, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ৫৫ ব্যাচের স্বাধীন, অর্থনীতি বিভাগের ৫২ ব্যাচের রাবিদ এবং বিএমবি বিভাগের ৫৫ ব্যাচের আরাফাত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকেই দুই হলের প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের সাথে দফায় দফায় আলোচনা করা হয়েছে। কিন্তু কবি নজরুল ইসলাম হলের শিক্ষার্থীদের সাথে বসার আগেই দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। খবর পেয়ে প্রক্টরসহ প্রশাসনের পুরো টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে দুই পক্ষ নিজ নিজ হলে অবস্থান করছে। দুই হলের প্রতিনিধিদের নিয়ে প্রশাসনের সাথে বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা চলছে।
মতামত (0)