জাতীয়জামালপুরে জুস খাইয়ে অটোরিকশা ছিনতাই, পিবিআইয়ের হাতে ৩ জন
জামালপুরে জুস খাইয়ে অটোরিকশা ছিনতাই, পিবিআইয়ের হাতে ৩ জন
জামালপুরে অটোরিকশা চালককে চেতনানাশক মেশানো জুস পান করিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশার খণ্ডিত অংশ।
জামালপুরে এক অটোরিকশা চালককে চেতনানাশক মেশানো জুস পান করিয়ে অচেতন করে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এই সময়ে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশার বিভিন্ন খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।
গত ২৬ আগস্ট জামালপুর সদর থানার বেলটিয়া এলাকা থেকে লাঙ্গলজোড়াগামী পাকা সড়কের মিয়ারপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তি অটোরিকশাচালক মো. আলমগীর হোসেনকে (৩৮) চেতনানাশক দ্রব্য পান করিয়ে অচেতন করে তার অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে জামালপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে মো. আলমগীর হোসেন জামালপুর সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। তিনি মোছা. রুমা বেগমসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন। পিবিআই জামালপুর জেলা স্ব-উদ্যোগে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে এবং এসআই (নিঃ) মো. জাহাঙ্গীর আলম এর তদন্ত করছেন।
তদন্তকালে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। গত ২ সেপ্টেম্বর এজাহারনামীয় আসামি মোছা. রুমা বেগমকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত মো. আমিনুল ইসলামকে (৩৭) গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ছিনতাই হওয়া অটোরিকশার ক্রেতা মো. লাল মিয়াকে (৪৮) তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। এই সময়ে তার বসতঘর থেকে ভুক্তভোগী আলমগীর হোসেনের ছিনতাই হওয়া অটোরিকশার বিভিন্ন খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়।
তদন্তে জানা যায়, ভুক্তভোগী আলমগীর হোসেনের সঙ্গে আসামি রুমা বেগমের পূর্বপরিচয় ছিল। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে রুমা অটোরিকশা রিজার্ভ নেওয়ার কথা বলে আলমগীরকে মেলান্দহের হাজরাবাড়ী এলাকায় ডেকে নেন। সেখানে আমিনুল ইসলাম ও পলাতক আসামি মো. আবদুর রহিমের সহযোগিতায় কৌশলে চেতনানাশক দ্রব্য মেশানো ফ্রুটো জুস পান করিয়ে আলমগীরকে অচেতন করা হয়।
আসামিরা এরপর আলমগীরকে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে আমিনুল ইসলাম অটোরিকশাটি মো. লাল মিয়ার কাছে ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। তদন্তে আরও উঠে আসে যে, লাল মিয়া অটোরিকশাটি বিভিন্ন অংশে খণ্ডিত করে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজের বসতঘরে সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন।
গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য আরও কেউ জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই মামলার তদন্ত কাজ অব্যাহত রয়েছে।
মতামত (0)