জাতীয়

ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশুর সংকটাপন্ন অবস্থা, ভর্তি নিয়ে ভোগান্তি

ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশুর সংকটাপন্ন অবস্থা, ভর্তি নিয়ে ভোগান্তি
ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশুর সংকটাপন্ন অবস্থা, ভর্তি নিয়ে ভোগান্তি
পাঁচ বছর বয়সী ডেঙ্গু আক্রান্ত আলিফাকে সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করাতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হন তার বাবা। চিকিৎসকেরা প্রথমে অন্য হাসপাতালে নিতে বললেও, পরে সারা দিনের অনুরোধে ভর্তি নেওয়া হয়।

পাঁচ বছর বয়সী আলিফা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শিশুটি গত ২৮ আগস্ট থেকে রাজধানীর একটি শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে ভর্তি রয়েছে। গত রোববার তার প্লাটিলেট (অণুচক্রিকা) ২৮ হাজারে নেমে এসেছিল, যার ফলে সে বারবার নিস্তেজ হয়ে পড়ছিল এবং কথাও বলছিল না।

আলিফার বাবা মোহাম্মদ আনোয়ার জানান, তার মেয়ের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় প্রথমে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ভর্তি নিতে চায়নি। চিকিৎসকেরা শিশুটিকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেছিলেন। মোহাম্মদ আনোয়ার বলেন, “সেদিন বাইরে এত রোদ আর ওর (আলিফা) এমন অবস্থা ছিল, মনে হচ্ছিল ওকে বাইরে বের করলেই মারা যাবে।”

সারা দিন অনুরোধ করার পর গত রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে আলিফাকে ভর্তি করা হয়। আলিফার জ্বর এসেছিল প্রায় ১০ দিন আগে। গত ২৮ আগস্ট চিকিৎসক দেখানোর সময় তার প্লাটিলেট ছিল ৬০ হাজার। পরদিন তা কমে ৩৫ হাজারে দাঁড়ায়।

গত রোববার (৩০ আগস্ট) প্লাটিলেট ২৮ হাজারে নামলে শিশুটি নিস্তেজ হয়ে পড়ে, কথা বলা বন্ধ করে দেয় এবং তার রক্তচাপও কমে যায়। গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) তাকে রক্ত দিতে হয়েছে। শিশুটির বাবা জানান, তার মেয়ে এমনিতে অনেক দুরন্ত ও কথা বলে, কিন্তু এখন সে কথাও বলছে না বা নড়াচড়াও করছে না, শুধু তাকিয়ে থাকে।

আলিফা এমনিতেই কম খায়, ডেঙ্গু হওয়ার পর থেকে কিছুই খাচ্ছে না। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত তার বাবা জানান, ভর্তির পর প্রথম চার দিন প্রতিদিন বেডের জন্য ১ হাজার ২০০ টাকা দিতে হয়েছে। বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রথম দিনেই প্রায় ৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, এর সঙ্গে ওষুধ ও খাবারের খরচও ছিল।

গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) আলিফাকে বিনা মূল্যের বেডে স্থানান্তর করা হয়েছে। হাসপাতালটির বিশেষায়িত ডেঙ্গু কর্নারে শিক্ষানবিশ চিকিৎসক মিরাজুল মোহাইমিনা বলেন, “আমাদের এখানে আগে শুধু কয়েকটি বেডে ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশু ভর্তি ছিল। এখন প্রতিদিনই ডেঙ্গুর রোগী বাড়ছে।”

এই হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশুদের অনেকেই প্লাটিলেট কমে যাওয়া, জ্বর, শরীর দুর্বল এবং কারো কারো রক্তচাপ কমার মতো সমস্যায় ভুগছে। মিরপুর, মহাখালী, খিলগাঁও, আদাবর, শ্যামলী ও নবীনগর থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশুদের এই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

চার বছর বয়সী মৌ গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) স্কুল থেকে ফিরে মাকে গা ও চোখ ব্যথার কথা জানায়। পরীক্ষায় তার ডেঙ্গু শনাক্ত হয় এবং গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতেই তাকে এই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মৌ-এর মা তাসলিমা বলেন, “কয়েক দিন ধরে ও খুব জেদ করে, খাবার খেতে চায় না, খেলেও বমি করে।”

১১ মাস বয়সী ইয়াসিনের চার দিন আগে অনেক জ্বর আসে। গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) শিশুটির ডেঙ্গু শনাক্ত হয় এবং পরদিন গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ইয়াসিনের মা মমতাজ বেগম জানান, শিশুটি কী কষ্ট পাচ্ছে তা বলতে পারছে না, শুধু সারা দিন কান্না করছে এবং আগের চেয়ে অনেক দুর্বল হয়ে গেছে, গায়েও র‍্যাশ উঠছে।

ঢাকার বাইরে থেকেও ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশুদের ঢাকার হাসপাতালগুলোতে পাঠানো হচ্ছে। নীলফামারী থেকে চার বছর বয়সী জিসানকে ডেঙ্গু নিয়ে আসা হয়েছে, এবং চাঁদপুরের পাঁচ বছর বয়সী জাহিনও ডেঙ্গু নিয়ে এই হাসপাতালে ভর্তি আছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু নিয়ে আরও ৫১২ জন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৪০ জনই ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যার মধ্যে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন এলাকাও রয়েছে। চলতি বছর সারা দেশে ৪০ হাজারের বেশি মানুষের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগেই প্রায় ১৬ হাজার রোগী শনাক্ত হয়েছে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...