জাতীয়

তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবস ও বিএনপির ৪৮ বছরের পথচলা

তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবস ও বিএনপির ৪৮ বছরের পথচলা
তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবস ও বিএনপির ৪৮ বছরের পথচলা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস পালিত হয়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি বর্তমানে ক্ষমতায় রয়েছে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস গত শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) পালিত হয়েছে। তৎকালীন ১/১১ এর সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে ২০০৭ সালের ৭ মার্চ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভোররাতে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের বাসা থেকে তাকে কারান্তরীণ করা হয়েছিল।

বিনা বিচারে প্রায় ১৮ মাস কারাবন্দী থাকতে হয় তাকে। টানা ৫৫৪ দিন কারাবন্দী থাকার সময় রিমান্ডের নামে তার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। এই নিষ্ঠুর নির্যাতনে তার মেরুদণ্ড ভেঙে গিয়েছিল। মুমূর্ষু অবস্থায় তারেক রহমানকে রাজধানীর তৎকালীন পিজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তিনি জামিনে মুক্তি পান। এরপর থেকেই বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা এই দিনটিকে তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা সকল মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় জামিন পাওয়ার পর ২০০৮ সালে উচ্চ আদালতের নির্দেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেওয়া হয়েছিল তাকে। তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও একমাত্র কন্যা জাইমা রহমান তার সঙ্গে ছিলেন।

দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন। এরপর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেয়। নির্বাচনে জনগণের রায় নিয়ে সরকার গঠনের পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৪৮ বছর পেরিয়ে গেছে। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এই দলটি বাংলাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক শক্তি, যার কর্মকাণ্ড দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছে।

দলটির মূল রাজনৈতিক আদর্শ হলো গণতন্ত্র, জাতীয় স্বার্থে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি, ইসলামিক মূল্যবোধ এবং অর্থনৈতিক উদারীকরণ। বিএনপি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের শাসনক্ষমতায় ছিল, যার মধ্যে ১৯৯১–১৯৯৬ এবং ২০০১–২০০৬ সালের মেয়াদ উল্লেখযোগ্য। দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হিসেবে আছেন তারেক রহমান।

বিএনপির জন্ম হয়েছিল একটি বিশেষ রাজনৈতিক বাস্তবতায়। দেশ তখন অস্থির ছিল, রাষ্ট্র নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল এবং অর্থনীতি বিপর্যস্ত ছিল। এই বাস্তবতায় জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন।

দলটির শুরু থেকেই একটি বৈশিষ্ট্য ছিল, এটি ছিল বড় পরিসরের একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম। বিভিন্ন রাজনৈতিক মতের মানুষ এখানে জায়গা পেয়েছিলেন এবং প্রতিষ্ঠাকালীন নেতৃত্বে তরুণদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল। জিয়ার রাজনীতির কেন্দ্রে ছিল বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ, বহুদলীয় রাজনীতি, জাতীয় ঐক্যের কথা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আত্মনির্ভরতার ধারণা। ১৯ দফা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এই চিন্তাগুলোকে একটি রাজনৈতিক কাঠামো দেওয়া হয়েছিল।

জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর বিএনপি কঠিন সংকটে পড়ে। প্রতিষ্ঠাতা না থাকায় দলটি নেতৃত্বের সংকটে পড়েছিল। এরপর রাজনীতিতে আসেন খালেদা জিয়া এবং এরশাদবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে ওঠেন। এখানেই বিএনপির চরিত্রে বড় পরিবর্তন ঘটে।

জিয়ার বিএনপি ছিল রাষ্ট্রক্ষমতার অভিজ্ঞতা থেকে তৈরি একটি দল। খালেদা জিয়ার বিএনপি হয়ে উঠল আন্দোলনের দল এবং রাজপথের দল। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে বিএনপি দীর্ঘ সময় রাজপথে ছিল এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সাথে আন্দোলন করেছে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হয়।

খালেদা জিয়ার সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক অর্জন ছিল বিএনপিকে একটি গণভিত্তিক রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করা। জিয়া বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, আর খালেদা সেটিকে জনগণের ঘরে ঘরে নিয়ে গিয়েছিলেন। এটি বিএনপির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রূপান্তরগুলোর একটি।

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান বিএনপিকে আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তা, নতুন প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা এবং প্রতিষ্ঠানভিত্তিক গণতন্ত্র যোগ করতে হবে। দলটির রাজনৈতিক দর্শনেরও একটি নতুন ব্যাখ্যা প্রয়োজন বলে মনে করা হয়।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...