রাজনীতি

জামায়াতে যোগ দিলেন ৬৫০ জন, তালিকায় বিএনপি নেতা ও সাবেক বিচারপতি

জামায়াতে যোগ দিলেন ৬৫০ জন, তালিকায় বিএনপি নেতা ও সাবেক বিচারপতি
জামায়াতে যোগ দিলেন ৬৫০ জন, তালিকায় বিএনপি নেতা ও সাবেক বিচারপতি
বিএনপিসহ বিভিন্ন দল, সাবেক বিচারপতি, ব্যবসায়ী ও কওমি আলেমসহ ৬৫০ জন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর কাকরাইলে এক অনুষ্ঠানে তাদের বরণ করে নেওয়া হয়।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সাবেক বিচারপতি, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং কওমি আলেমসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ৬৫০ জন সদস্য যোগদান করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার ১ সেপ্টেম্বর বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে এই যোগদান অনুষ্ঠান হয়। মাসব্যাপী গণসংযোগ উপলক্ষে জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা এই দাওয়াতি সমাবেশের আয়োজন করে।

সমাবেশের প্রধান অতিথি বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান যোগদানকারীদের ফুল ও ইসলামিক বই উপহার দিয়ে বরণ করে নেন। যোগদানকারীদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকার বংশাল থানা বিএনপির ২ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াকুব সরকার। তিনি বিএনপি থেকে সম্প্রতি জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেওয়া ইসহাক সরকারের বড় ভাই।

আরও যোগদান করেছেন সাবেক বিচারপতি সৈয়দ শাহিদুর রহমান এবং সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এস এম খালেকুজ্জামান। সাবেক সেনা কর্মকর্তা কর্নেল ফারুক হোসাইন ও বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক এসপি ওবায়দুল হকও এই দলে যোগ দিয়েছেন। জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার ও জাতিসংঘের সাবেক কর্মকর্তা সেলিম আহমেদও নতুন সদস্যদের তালিকায় রয়েছেন।

বাংলাদেশ নূরানী শিক্ষা বোর্ডের মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন এবং গেন্ডারিয়া লাল খাঁ সিটি মসজিদের সেক্রেটারি নেয়ামত উল্লাহও জামায়াতে যোগ দেন। ব্যবসায়ী আবুল আয়েশ খান, ফিরোজ আলম খান, সিনহা এ খালিদ, হাজি শাহ আলম, আবদুর রাজ্জাক সোহাগ ও হুমায়ন কবিরও যোগদানকারীদের মধ্যে আছেন। রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে বংশাল থানার ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল নেতা মুশফিকুর রহমান, ৭৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা হাজি আলতাব হোসেন এবং ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জাবেদ ওমর রয়েছেন।

৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সমাজসেবক মোছলেহ উদ্দিন আহমেদও এই দলে যোগ দিয়েছেন। কওমি আলেমদের মধ্যে মুফতি আবুল কালাম আজাদ, মাওলানা এনামুল হক আজাদী, মাওলানা আব্দুর রহমান আল হাবিবী, মাওলানা জসিম উদ্দিন (রসুলপুরি) এবং মাওলানা হাসান জামিল প্রমুখও জামায়াতের সদস্য হয়েছেন।

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান সমাবেশে বলেন, তিনি সমাজের মানুষের কোনো অকল্যাণ চিন্তা করেন না এবং সব সময় মানুষের ক্ষতি থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। তিনি অন্ততপক্ষে কিছুটা হলেও মানুষের উপকার করতে পারেন কি না সেই চেষ্টা করেন বলে জানান। তাকে নিয়ে কী করা হয় তা তিনি দেখেন না এবং এতে আত্মতৃপ্তি পান বলে উল্লেখ করেন।

যাঁরা সমালোচনা করেন, তাঁদের জন্য দোয়া করবেন জানিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, এমন ভাষায় কথা বলা উচিত নয় যা নিজের ব্যাপারে বলা হলে কলিজা টুকরা টুকরা হয়ে যায়। তিনি তলোয়ারের খোঁচার দাগ একসময় মিলিয়ে গেলেও মুখের খোঁচার দাগ কখনো যায় না বলে মন্তব্য করেন।

শফিকুর রহমান কওমি মাদ্রাসার বিষয়ে বলেন, ‘আমরা কওমিকে আলাদা করে দেখি না। আমরা তাদের দ্বীনি খেদমতকে ছোট মনে করি না। তাদের জন্য অন্তর থেকে দোয়া করি। আল্লাহ যেন তাদের খেদমতে আরও বেশি বারাকা দান করেন।’ জামায়াতের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘চলার পথে বাধা আসবে, সমালোচনা আসবে, গালিগালাজ আসবে, জীবন দেওয়ার প্রয়োজন হবে। বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ চলে যাবে। যাবে, কারণ এটা আমার নয়, আপনার নয়, এটা আল্লাহর দান। আমাদের কাছে আমানত। সেই আমানত দেওয়ার জন্য আল্লাহকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল। ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসেন সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন। আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির হেলাল উদ্দিন, সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য আবদুল মান্নান এবং ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...