জাতীয়জাতিসংঘ অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হচ্ছে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
জাতিসংঘ অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হচ্ছে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের কোনো সম্ভাবনা নেই। অধিবেশন শেষে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হবে।
চলতি মাসের ৮ তারিখ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরু হচ্ছে। এই অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের অধিবেশন থেকে ফিরে এলেই তার ভারত সফরের দিনক্ষণ ঠিক করা হবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির আজ শনিবার সিলেটে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (ইমজা) কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন। গতকাল শুক্রবার সাংবাদিকদের হেনস্থার শিকার হওয়ার প্রেক্ষাপটে তিনি এই সৌজন্য সাক্ষাতে আসেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের দিন-তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে এ বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চলছে। তিনি জানান, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করেই ভারতের সঙ্গে একটি ভালো সম্পর্ক বজায় রাখা হবে এবং এই লক্ষ্য অর্জনে দুই দেশের পারস্পরিক শ্রদ্ধা থাকা জরুরি। ভারতের নীতি-নির্ধারকেরা বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের প্রত্যাশার বিষয়টি বুঝতে শুরু করেছে বলেও প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার বার্তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে যাবেন। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি জানান, এরইমধ্যে তিনি ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে দুবার বৈঠক করেছেন।
বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ করছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, বর্তমান সরকারের প্রথম দিন থেকেই বৈশ্বিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখার নীতিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকার বেইজিং, ওয়াশিংটন, রিয়াদ ও মস্কোর সঙ্গে কৌশলগতভাবে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিচ্ছে। গত ছয় মাসে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বর্তমান সরকারের দৃশ্যমানতা এবং কৌশলগত গুরুত্ব সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
তিনি বলেন, এই সাফল্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অংশীদারত্ব ও কৌশলগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এছাড়া ভুটান, বাহরাইন ও শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলোর সঙ্গেও বাংলাদেশ তার পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে কাজ করছে। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের সফল ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশ বিশেষজ্ঞ।
সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বিমানখাতে সুবিধা সীমিত হলেও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের অত্যন্ত কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। রুট বা আকাশপথ হারানোর কারণে বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। তাই ব্যবসায়িক যৌক্তিকতা বিবেচনা করে বাংলাদেশকে একটি ‘এভিয়েশন হাব’ বা বিমান চলাচলের অন্যতম প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, একটি দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নীতি এবং পররাষ্ট্রনীতি পরস্পর বিচ্ছিন্ন হতে পারে না। বৈশ্বিক অঙ্গনে অবদান রাখতে হলে এই দুই নীতিকে অবশ্যই সমন্বিত এবং একে অন্যের পরিপূরক হতে হবে। মক্কা চুক্তি নিয়েও আলাপ-আলোচনা চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই চুক্তিতে যুক্ত হওয়া বাংলাদেশের জন্য অস্বাভাবিক নয়।
মতামত (0)