সারাদেশঝালকাঠিতে গাবখান নদীর ভাঙনে অর্ধশত পরিবার ও মসজিদ ঝুঁকিতে
ঝালকাঠিতে গাবখান নদীর ভাঙনে অর্ধশত পরিবার ও মসজিদ ঝুঁকিতে
ঝালকাঠি পৌর শহরের কেফাইতনগরে গাবখান নদীর তীব্র ভাঙনে অর্ধশতাধিক পরিবার ও একটি মসজিদ হুমকির মুখে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা ও স্থায়ী বাঁধের দাবিতে স্থানীয়রা মানববন্ধন করেছেন।
ঝালকাঠি পৌর শহরের কেফাইতনগর এলাকায় গাবখান নদীর তীব্র ভাঙনে অর্ধশতাধিক পরিবার এবং একটি মসজিদ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। নদীভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ ও একটি স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবিতে আজ শুক্রবার মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আজ জুমার নামাজ শেষে পৌর শহরের গাবখান ব্রিজের উত্তর পাশে কেফাইতনগর এলাকায় এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। নদীতীরবর্তী ভুক্তভোগী পরিবারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মানববন্ধনে অংশ নেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে গাবখান নদীর তীর ভাঙছে। বর্তমানে নদীর তীর থেকে পার্শ্ববর্তী নগর খাল পর্যন্ত প্রায় ৩০০ মিটার এলাকা ভাঙনের কবলে রয়েছে। এতে নদীতীরবর্তী অর্ধশতাধিক পরিবার এবং মৌলভী বাড়ি জামে মসজিদ মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। প্রতিদিনই নদীর পাড় ভেঙে বসতভিটার দিকে এগিয়ে আসছে পানি।
তারা আরও জানান, যদি দ্রুত ভাঙন ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তাহলে অল্প সময়ের মধ্যেই বসতবাড়ি, মসজিদসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এর ফলে বহু পরিবার তাদের বসতভিটা হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হতে পারে এবং স্থানীয় ধর্মীয় ও সামাজিক স্থাপনাগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মানববন্ধনে ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সভাপতি ও ঝালকাঠি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট মো. আককাস সিকদার বক্তব্য দেন। পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান তাপুও সেখানে তার বক্তব্য তুলে ধরেন। এছাড়া সদর উপজেলা জামায়াতে ইসলামির সেক্রেটারি মাওলানা হাফেজ মো. কাওছার এবং সাবেক কাউন্সিলর মো. শাহ আলম খান ফারসু বক্তব্য রাখেন। মৌলভী বাড়ি জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মাসউদুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য তাদের দুর্দশার কথা তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেছেন, গাবখান নদীর ভাঙন দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর জন্য একটি বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন ভাঙনের পরিধি বাড়লেও স্থায়ীভাবে তা প্রতিরোধে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তারা জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনকবলিত এলাকায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি একটি স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।
এ সময় স্থানীয়রা গাবখান নদীর ভাঙন রোধে দ্রুত উদ্যোগ নিতে ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দারের সহযোগিতা কামনা করেন। স্থানীয়দের দাবি, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে গাবখান নদীর ভাঙনে কেফাইতনগর এলাকার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। জনবসতি ও মসজিদ রক্ষায় দ্রুত নদীভাঙন প্রতিরোধের কাজ শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
মতামত (0)