রাজনীতি

জিন্নাহর ছবির প্রতিবাদে ডাকসু সংগ্রহশালায় গোলাম আযমের অপমানের ছবি টানাল ছাত্র ফেডারেশন

জিন্নাহর ছবির প্রতিবাদে ডাকসু সংগ্রহশালায় গোলাম আযমের অপমানের ছবি টানাল ছাত্র ফেডারেশন
জিন্নাহর ছবির প্রতিবাদে ডাকসু সংগ্রহশালায় গোলাম আযমের অপমানের ছবি টানাল ছাত্র ফেডারেশন
ডাকসু সংগ্রহশালায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের প্রতিবাদে আজ ছাত্র ফেডারেশনের নেতা-কর্মীরা গোলাম আযমকে জুতাপেটা করার একটি ছবি সংগ্রহশালায় টানিয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ঐতিহাসিক সংগ্রহশালায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের প্রতিবাদে আজ গোলাম আযমকে জুতাপেটা করার একটি ছবি সংগ্রহশালায় টানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফেডারেশনের নেতা-কর্মীরা। আজ বেলা ৩টায় ছাত্র ফেডারেশনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক অর্ক বড়ুয়ার নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী ছবিটি টানান। যে স্থানে জিন্নাহর ছবি লাগানো হয়েছিল, তার ওপরেই ১৯৮১ সালে বায়তুল মোকাররমে গোলাম আযমকে জুতাপেটা করার ছবিটি লাগানো হয়েছে।

ডাকসু সংগ্রহশালা গতকাল সংস্কার শেষে চালু করা হয়েছিল। সেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একক বা গৌরবোজ্জ্বল ছবি রাখা হয়নি। নতুন করে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি যুক্ত করা হয়।

সংগ্রহশালায় যুক্ত করা ছবিগুলোর মধ্যে একটি ছিল ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জিন্নাহর একটি অনুষ্ঠানের। সেই অনুষ্ঠানে তিনি ঘোষণা করেছিলেন, ‘কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’। এছাড়াও, ১৯৪০ সালের মার্চ মাসে লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক সম্মেলনের একটি দলগত ছবি স্থান পায়, যেখানে জিন্নাহ উপস্থিত ছিলেন। অপর ছবিটি ১৯৭০ সালের নির্বাচন নিয়ে জিন্নাহর ছবি-সংবলিত একটি পত্রিকার প্রতিবেদনের পেপার কাটিং।

বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক অর্ক বড়ূয়া তাদের এই পদক্ষেপের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, ‘ডাকসু কারও বাপের না। ইতিহাসকে একপক্ষীয়ভাবে উপস্থাপন কেউ মেনে নেবে না।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘আর গোলাম আযমেরা ৭১–এ যা করেছেন, তার ফলে ৮০ তে তাঁকে মানুষ জুতাপেটা করেছে। আমরা এ দেশের আপামর মানুষের সেই ইতিহাস সংরক্ষণ করেছি।’

অর্ক বড়ূয়া ডাকসু (মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বিষয়ক আন্দোলন) এর গতকালের একটি মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘গতকাল জুমা বলেছিল, তার ইচ্ছা করেছে তাই জিন্নাহর ছবি লাগিয়েছে। ঠিক তেমনই আমাদের ইচ্ছা করেছে গোলাম আযমের ছবি লাগাতে তাই লাগিয়েছি।’

ডাকসু সংগ্রহশালায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি রাখায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী শাহরিয়ার মুসতাক ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আর কত সময় হলে বাংলা ভাষা এবং বাংলাদেশ এর প্রতি ভালোবাসা জন্মাবে এই ডাকসুর? রাষ্ট্রভাষা বাংলার বিরোধিতাকারীর ছবি স্থান পায় ডাকসুর সংগ্রহশালায়!’ সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের শিক্ষার্থী ইমদাদুল হক লিখেছেন, ‘এক সময়ের ডাকসু স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য সংগ্রাম করেছিল, আর এখন দেশ বিরোধী অপশক্তিকে রক্ষার সংগ্রাম করে!!’

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ডাকসু সংগ্রহশালায় ১৯৪৮ সালের মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর বিতর্কিত ছবি প্রদর্শনের প্রতিবাদ জানিয়েছে। আজ ছাত্রদলের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়। সংগঠনটি অভিযোগ করে, ভাষা ও স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিকভাবে ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন করা হয়েছে।

ছাত্রদল অবিলম্বে ছবিটি অপসারণ এবং ডাকসুকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর আদর্শ প্রচারের স্থান হিসেবে ব্যবহার বন্ধের দাবি জানিয়েছে।

একইদিনে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ডাকসু সংগ্রহশালায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি সংযোজন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি অপসারণের প্রতিবাদ জানিয়েছে। সংগঠনের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সংগ্রহশালা থেকে সরিয়ে দেওয়া ইতিহাস বিকৃতির শামিল। দ্রুত জিন্নাহর ছবি অপসারণ ও শেখ মুজিবের ছবি পুনর্বহাল না হলে শিক্ষার্থীরা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলেও তারা উল্লেখ করেছে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...