প্রবাসী

জলবায়ু পদক্ষেপে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের ঐক্যবদ্ধ অঙ্গীকার: হাইকমিশনার

জলবায়ু পদক্ষেপে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের ঐক্যবদ্ধ অঙ্গীকার: হাইকমিশনার
জলবায়ু পদক্ষেপে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের ঐক্যবদ্ধ অঙ্গীকার: হাইকমিশনার
মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম বলেছেন, পরিবেশগত স্থিতিশীলতা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে।

মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম বলেছেন, পরিবেশগত স্থিতিশীলতা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পৃথিবীকে রক্ষায় বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ ঐক্যবদ্ধ। আজ রবিবার ইউনিসেফ মালদ্বীপ আয়োজিত ‘ইয়ুথ ট্র্যাক টু সিওপি ৩১’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। এই কর্মসূচিতে তরুণ অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহ, সৃজনশীলতা ও অঙ্গীকারের প্রশংসা করেন হাইকমিশনার।

হাইকমিশনার ড. ইসলাম আরো টেকসই, সহনশীল ও পরিবেশবান্ধব ভবিষ্যৎ নির্মাণে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। তিনি বাংলাদেশ সরকারের জলবায়ু কার্যক্রমের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়নে মালদ্বীপের সাথে সহযোগিতা আরো জোরদারের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

এই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালদ্বীপের জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ ও জ্বালানি মন্ত্রী আলী শরীফ। তরুণদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে জলবায়ু কার্যক্রমকে আরো অর্থবহ ও কার্যকর করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ ও ধারণা নিয়ে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা, নেতৃত্ব ও সক্রিয় অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করা হয়।

হাইকমিশনার ড. নাজমুল ইসলাম উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ উভয়ই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট বিভিন্ন ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, পরিবেশগত অবক্ষয় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান অভিঘাত উভয় দেশের উন্নয়ন ও জনগণের জীবনের ওপর প্রত্যক্ষ প্রভাব ফেলছে। এই অভিন্ন চ্যালেঞ্জগুলো দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, জলবায়ু অভিযোজন, পরিবেশ সংরক্ষণ, সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয়, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক পর্যায়ে জলবায়ু কার্যক্রমে বাংলাদেশ সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথাও তিনি তুলে ধরেন। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ নিজস্ব জলবায়ু-সহনশীল উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে।

একই সাথে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ তুলে ধরে আসছে। হাইকমিশনার জানান, বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ তাদের অভিন্ন জলবায়ু অভিজ্ঞতাকে বাস্তবভিত্তিক দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতায় রূপ দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে জলবায়ু অভিযোজন এবং পরিবেশ সংরক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

এছাড়াও বৃক্ষরোপণ, উপকূলীয় ও সামুদ্রিক প্রতিবেশ সংরক্ষণ, ব্লু ইকোনমি এবং জলবায়ু-সহনশীল উন্নয়ন সহযোগিতার অন্যতম ক্ষেত্র। তরুণদের নেতৃত্বাধীন পরিবেশবান্ধব উদ্যোগও এই সহযোগিতার আওতায় আসতে পারে। তিনি একই সাথে আন্তর্জাতিক সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী এবং অন্য জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশের অংশগ্রহণে ত্রিপক্ষীয় ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা আরো জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এই ধরনের অংশীদারিত্বের মাধ্যমে জ্ঞান, প্রযুক্তি, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় সম্ভব। এটি জলবায়ু সহনশীলতা, জলবায়ু অর্থায়ন, পরিবেশগত স্থায়িত্ব ও জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে আরো শক্তিশালী করবে। হাইকমিশনার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি অভিঘাতে তরুণরা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন।

তরুণরা উদ্ভাবন, সচেতনতা সৃষ্টি ও ইতিবাচক পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। বাংলাদেশ হাইকমিশন ‘ইয়ুথ ট্র্যাক টু সিওপি ৩১’ কর্মসূচি আয়োজন করায় ইউনিসেফ মালদ্বীপকে আন্তরিকভাবে প্রশংসা ও ধন্যবাদ জানায়। এই কর্মসূচির মাধ্যমে তরুণরা নিজেদের মতামত ও ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি বৈশ্বিক জলবায়ু এজেন্ডায় অবদান রাখার একটি অর্থবহ প্ল্যাটফর্ম পেয়েছে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...