প্রযুক্তিযুক্তরাষ্ট্রে সিডি বিক্রিতে ৪৫ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি
যুক্তরাষ্ট্রে সিডি বিক্রিতে ৪৫ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি
যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সিডির বিক্রি ৪৫ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে, যা ডিজিটাল ক্লান্তি থেকে মুক্তি পেতে নতুন প্রজন্মের পুরোনো প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহের ফল।
যুক্তরাষ্ট্রে কম্প্যাক্ট ডিস্কের (সিডি) বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। একসময় গান শোনার প্রধান মাধ্যম হিসেবে পরিচিত এই প্রযুক্তি পণ্যটির এমন প্রত্যাবর্তন সবাইকে চমকে দিয়েছে। বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশটিতে সিডি বিক্রি বেড়েছে ৪৫ দশমিক ৭ শতাংশ।
প্রযুক্তির সহজলভ্যতা এবং অনলাইন স্ট্রিমিং সেবার জনপ্রিয়তার কারণে সিডির ব্যবহার দ্রুত কমে গিয়েছিল। স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের ব্যাপক প্রচলন এই পরিবর্তন এনেছিল, ফলে সিডি তার বাজার হারাতে শুরু করে। তবে সম্প্রতি স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার ও ডিজিটাল ক্লান্তি থেকে মুক্তি পেতে নতুন প্রজন্মের তরুণ-তরুণীদের মধ্যে পুরোনো প্রযুক্তির প্রতি নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রেকর্ডিং ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকার (আরআইএএ) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে সিডির বিক্রির এই চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশটিতে ১ কোটি ৭৫ লাখ সিডি বিক্রি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এই বিক্রির পরিমাণ ছিল প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ।
এর মানে এক বছরের ব্যবধানে সিডি বিক্রি প্রায় ৫৫ লাখ ইউনিট বেড়েছে, যা একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। এই পরিসংখ্যান সিডির বাজারে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।
বিক্রির পাশাপাশি সিডি থেকে আয়ের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সিডি বিক্রি থেকে আয় হয়েছে ১৭ কোটি ১১ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে এই আয় ছিল প্রায় ১০ কোটি ৭৯ লাখ ডলার।
এর ফলে এক বছরের ব্যবধানে আয় বেড়েছে প্রায় ৫৮ দশমিক ৬ শতাংশ। সিডির বাজারে এই ঘুরে দাঁড়ানোর ঘটনা বিশেষভাবে চমকপ্রদ, কারণ গত বছরও এর বিক্রি কমে গিয়েছিল।
আরআইএ-এর হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ৩ কোটি ৩৩ লাখ সিডি বিক্রি হয়েছিল। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ২ কোটি ৯৫ লাখে। অর্থাৎ, এক বছরে সিডি বিক্রি প্রায় ১১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে গিয়েছিল।
সিডির পাশাপাশি পুরোনো প্রযুক্তিপণ্যের প্রতি নতুন প্রজন্মের আগ্রহ দ্রুত বাড়ছে। ফিচার ফোন, ডিজিটাল ক্যামেরা, টাইপরাইটার এবং ল্যান্ডলাইন ফোনের মতো প্রযুক্তিপণ্য ব্যবহার করছেন অনেকে। পুরোনো দিনের সংগীতের মাধ্যম হিসেবে সিডি ও ভিনাইল রেকর্ডের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
এই প্রবণতায় জেন-জি প্রজন্মের ভূমিকা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। স্মার্টফোন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার থেকে কিছুটা দূরে থাকতে তারা অপেক্ষাকৃত সরল প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে।
স্মার্টফোনে প্রতিনিয়ত আসা নোটিফিকেশন, ব্যবহারকারীকে দীর্ঘ সময় ধরে রাখার জন্য তৈরি বিভিন্ন অ্যাপ, এবং ব্যক্তির আগ্রহ অনুযায়ী কনটেন্ট দেখানো অ্যালগরিদম থেকে দূরে থাকার সুযোগ এসব পুরোনো প্রযুক্তিতে রয়েছে। এর ফলে প্রযুক্তির সুবিধা ব্যবহারের পাশাপাশি ডিজিটাল জীবনের কিছুটা নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে চাইছেন তরুণদের অনেকে।
পুরোনো প্রযুক্তিপণ্য সংগ্রহে আগ্রহী তরুণদের অনেকেই পুরোনো পণ্যের দোকানে ভিড় করছেন। ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও এসব পণ্যের চাহিদা রয়েছে। রেট্রোস্পেক্টের মতো বিশেষায়িত ওয়েবসাইটগুলোতেও এই ধরনের পণ্যের বিক্রি বেড়েছে।
মতামত (0)