প্রযুক্তি

এলওএল শব্দের অর্থ ও তার ঐতিহাসিক বিবর্তন

এলওএল শব্দের অর্থ ও তার ঐতিহাসিক বিবর্তন
এলওএল শব্দের অর্থ ও তার ঐতিহাসিক বিবর্তন
ডিজিটাল যোগাযোগের বহুল ব্যবহৃত শব্দ ‘এলওএল’-এর অর্থ ‘উচ্চস্বরে হাসা’ হলেও এর একটি পুরোনো অর্থ ছিল ‘বৃদ্ধা নারী’। এই শব্দের বিবর্তন ও ইতিহাসের বিস্তারিত তথ্য।

ডিজিটাল যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যদের পাঠানো বার্তার উত্তরে ‘এলওএল’ (LOL) শব্দটি বহুল ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে ইন্টারনেটে চ্যাটবক্স বা কমেন্টস বক্সে উচ্চস্বরে হাসির অর্থ বোঝাতে বিশ্বজুড়ে এই সংক্ষিপ্ত রূপটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তবে ইন্টারনেট–দুনিয়ায় আসার আগে এই শব্দের সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি অর্থ ছিল।

ডিজিটাল যুগের আগে এলওএল শব্দের অর্থ ছিল ‘বৃদ্ধা নারী’। ষাটের দশকে সান ফ্রান্সিসকো ক্রনিকল পত্রিকার কলামিস্ট হার্ব কেইন এই শব্দের প্রচলন করেন। সে সময়ে ইংরেজি তিনটি বর্ণ এল, ও, এল বড় অক্ষরে এলওএল আকারে লেখা হতো।

হার্ব কেইন তার ১৯৬০ সালের বই ‘অনলি ইন সান ফ্রান্সিসকো’তে এই সংক্ষিপ্ত রূপটি ব্যবহার করেন। সেখানে তিনি কোনো তরুণ বা যুবকের হাসি নয়, ইংরেজিতে ‘লিটল ওল্ড লেডি’ বা বয়স্ক নারীকে নির্দেশ করতেন। একটি মাথার টুপি ও ক্ষতিকর পাখির অবয়বকে তিনি প্রকৃত এলওএল বা বৃদ্ধা নারীর পোশাক হিসেবে বর্ণনা করেন।

১৯৬৪ সালের জনপ্রিয় গান ‘দ্য লিটল ওল্ড লেডি ফ্রম পাসাদেনা’তেও এমন চরিত্রের দেখা মেলে। সেই গানে এক বৃদ্ধা নারীর দ্রুত গাড়ি চালানোর রোমাঞ্চকর বিবরণ উঠে আসে। কলোরাডো বোলভার্ডের ত্রাস হিসেবে পরিচিত সেই নারীর আচরণ বেশ আগ্রাসী ছিল বলে গানে উল্লেখ করা হয়।

ইন্টারনেটে প্রথম ‘এলওএল’ ব্যবহারের ইতিহাস শুরু হয় আশির দশকে। ভিউলাইন নামের একটি ইন্টারনেট–পূর্ব সময়কার চ্যাট রুমে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সূচনা হয়। ক্যালগেরির ওয়েন পিয়ার্স দ্রুত ‘হাহা’ লেখার পরিবর্তে প্রথমবার ‘এলওএল’ টাইপ করেন।

সেই সময়ে চ্যাট রুমে আরও একটি সংক্ষিপ্ত রূপ ‘আরওএলএফ’ বা ‘রোলিং অন দ্য ফ্লোর লাফিং’ (বাংলায় হাসতে হাসতে গড়াগড়ি) এর জন্ম হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৮৯ সালে ফিডনেট নিউজলেটারের পাতায় আনুষ্ঠানিকভাবে ‘এলওএল’ স্থান পায়।

একই সঙ্গে ইংরেজি বর্ণমালা দিয়ে ‘বিআরবি’ বা ‘বি রাইট ব্যাক’ এবং ‘বিটিডব্লিউ’ বা ‘বাই দ্য ওয়ে’ শব্দগুলোও প্রচলিত হয়। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ২০১১ সালে ‘এলওএল’ শব্দটি অক্সফোর্ড ইংরেজি অভিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...