প্রযুক্তিজন টার্নাসের নেতৃত্বে ২ হাজার ডলারের ফোল্ডেবল আইফোন উন্মোচন
জন টার্নাসের নেতৃত্বে ২ হাজার ডলারের ফোল্ডেবল আইফোন উন্মোচন
অ্যাপলের নতুন সিইও জন টার্নাস আগামীকাল বুধবার ২ হাজার ডলারের ফোল্ডেবল আইফোন উন্মোচন করবেন, যা তার জন্য একটি বড় পরীক্ষা।
জন টার্নাস আগামীকাল বুধবার একটি নতুন পণ্য উন্মোচন করবেন। নতুন নকশার এই আইফোনটি নিয়ে অ্যাপলের হার্ডওয়্যার বিভাগে অন্তত আট বছর ধরে কাজ চলছে। এত দিন এ বিভাগের নেতৃত্ব দিয়েছেন টার্নাস নিজেই। এখন সিইও হিসেবে পণ্যটির আনুষ্ঠানিক উন্মোচনের দায়িত্বও তার ওপর।
টিম কুকের দীর্ঘ অধ্যায়ের পর অ্যাপলের হাল ধরেছেন জন টার্নাস। এরই মধ্যে নতুন সিইও হিসেবে তার সামনে বড় এক পরীক্ষা হাজির হয়েছে। এই পরীক্ষার কেন্দ্রে রয়েছে বহুল আলোচিত ফোল্ডেবল আইফোন।
প্রায় দুই দশকের আইফোন ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ভাঁজযোগ্য পর্দার পাশাপাশি ২ হাজার ডলার বা তার বেশি দামের আইফোন বাজারে আনতে পারে অ্যাপল। টার্নাসের নেতৃত্বে নতুন অধ্যায়ের শুরু শুধু নতুন একটি আইফোন উন্মোচন নয়, বরং অ্যাপলের পণ্য কৌশলে বড় পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগের সিইও টিম কুকের কাছ থেকে দায়িত্ব নেওয়ার দ্বিতীয় সপ্তাহেই এমন গুরুত্বপূর্ণ পণ্য বাজারে আনছেন টার্নাস। প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা এটিকে নতুন সিইওর জন্য বড় পরীক্ষা বলে মনে করছেন।
ভাঁজযোগ্য আইফোন তৈরিতে অ্যাপলের সামনে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো উৎপাদন ব্যয়। বিশ্বজুড়েই সরবরাহ ব্যবস্থায় খরচ বাড়ছে। প্রযুক্তিবিষয়ক প্রতিবেদনগুলো বলছে, বাড়তি ব্যয় সামলাতে আইফোনের দাম বাড়াতে হতে পারে অ্যাপলকে। তা না হলে কোম্পানির উচ্চ মুনাফার মার্জিনে চাপ পড়তে পারে।
অন্যদিকে ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোন দেখতে আকর্ষণীয় হলেও বাজারে এখনো এর ব্যবহার সীমিত। স্যামসাং ও হুয়াওয়ের মতো বড় নির্মাতারা ২০১৯ সালে ফোল্ডেবল ফোন বাজারে আনার পর প্রায় সাত বছর পার হয়েছে। কিন্তু এ ধরনের ফোনটি এখনো মূলধারার স্মার্টফোনে পরিণত হতে পারেনি। বিশ্বের মোট স্মার্টফোন বিক্রির মাত্র প্রায় ২ শতাংশ ফোল্ডেবল ফোন। ২০১৯ সালে স্যামসাং ও হুয়াওয়ের প্রথম পণ্য বাজারে আসার পর এ খাতের প্রবৃদ্ধিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
তবে অ্যাপল মনে করছে, নতুন পণ্য এ পরিস্থিতি বদলাতে পারে। কোম্পানিটি এমন একটি ভাঁজযোগ্য আইফোন তৈরি করতে চাইছে, যা ক্রেতাদের মধ্যে নতুন করে ফোল্ডেবল নিয়ে আগ্রহ তৈরি করবে। অ্যাপলের এ কৌশল অবশ্য নতুন নয়। অনেক সময় কোম্পানিটি প্রতিদ্বন্দ্বীদের নতুন প্রযুক্তি বা পণ্য বাজারে আনার বিষয়টি আগে কয়েক বছর পর্যবেক্ষণ করে। প্রাথমিক পর্যায়ের সমস্যা ও প্রযুক্তিগত ঝুঁকি অন্যরা সামলানোর পর অ্যাপল তুলনামূলক পরিণত পণ্য বাজারে আনে।
কোম্পানি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অ্যাপলের এ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ শুরু হয়েছিল টিম কুক সিইও হওয়ারও আগে। ২০১১ সালের একটি পেটেন্টে ভাঁজ করার ব্যবস্থা বা হিঞ্জ নিয়ে অ্যাপলের কাজের তথ্য পাওয়া যায়। ২০১৮ সালের দিকে কোম্পানিটির প্রকৌশল ও ডিসপ্লে দল ভাঁজযোগ্য প্রযুক্তি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করে। প্রযুক্তিটি তখন আরও ব্যয়বহুল ছিল। কোম্পানির সাবেক ডিসপ্লে প্রকৌশলী রাডু রেইটের মতে, এক দশক আগেও এ ধরনের ফোনের নকশা তৈরি করা সম্ভব ছিল। কিন্তু সেই সময় এমন পর্দা তৈরিতে হাজার হাজার ডলার খরচ হতো এবং বাজারও তখন যথেষ্ট বড় ছিল না।
এদিকে আইফোনের অন্যান্য মডেলের দামও এবার বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকেরা। ফলে ভাঁজযোগ্য আইফোনের পাশাপাশি পুরো আইফোন লাইনআপের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তও বাজারের নজরে থাকবে। সব মিলিয়ে ভাঁজযোগ্য আইফোনের উন্মোচন অ্যাপলের নতুন সিইও জন টার্নাসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। একই সঙ্গে আইফোনের পরবর্তী প্রবৃদ্ধির জন্য অ্যাপলের নতুন নকশা ও বেশি দামের কৌশল কতটা কার্যকর হয় তাও দেখা যাবে।
মতামত (0)