আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার হুমকিতে ইরানের পাল্টা জবাব, মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে উত্তেজনা

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার হুমকিতে ইরানের পাল্টা জবাব, মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে উত্তেজনা
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার হুমকিতে ইরানের পাল্টা জবাব, মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে উত্তেজনা
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালালে তেহরান কঠোর পাল্টা জবাব দেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা তীব্র হয়েছে।

ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালালে কঠোর পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সামরিক হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে।

ইরানের যুদ্ধকালীন সামরিক কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল আলী আবদোল্লাহি এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র পুরো অঞ্চলকে একটি বৃহত্তর যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবেশী দেশগুলোর সম্পদ ও অবকাঠামো নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে এবং ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা জোরদার করছে। তিনি মুসলিম দেশগুলোর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। জেনারেল আবদোল্লাহি সতর্ক করেন যে, কোনো দেশ যদি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্বার্থ রক্ষায় ভূমিকা রাখে, তবে সেই দেশও যুদ্ধের আগুন থেকে রেহাই পাবে না।

এই সতর্কবার্তা এমন এক সময়ে এসেছে যখন মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল খুব শিগগিরই ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, পেট্রোকেমিক্যাল কারখানাসহ গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোতে ব্যাপক হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে। প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও চূড়ান্ত অনুমোদন না দিলেও সম্ভাব্য এই অভিযান দুই সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি গবেষণা সংস্থা জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের সামরিক অভিযানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত কমে এসেছে। সংস্থাটির তথ্যমতে, প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত এক হাজারের নিচে এবং থাড ব্যবস্থার সংখ্যা প্রায় ২৫০-এ নেমে এসেছে।

ইরানের রাষ্ট্র-ঘনিষ্ঠ একটি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে বড় ধরনের পাল্টা হামলার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। এর আগে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালাতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা, এমন হামলা হলে ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোতে পাল্টা আঘাত হানতে পারে এবং এতে বিশ্ববাজারে তেলের বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হতে পারে।

গত কয়েক দিনে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী বৃহস্পতিবার ভোরে ইরানের অন্তত পাঁচটি প্রদেশে হামলা চালায়। ওয়াশিংটনের দাবি, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল আইআরজিসির কমান্ড সেন্টার, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি, উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

এই হামলায় কয়েকজন সেনাসদস্যের পাশাপাশি বেসামরিক লোকজনও নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দক্ষিণের কেশম দ্বীপে নিজ বাড়িতে নিহত দুই বছরের একটি শিশুও রয়েছে। অন্যদিকে শনিবার কুয়েত জানিয়েছে, দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা একাধিক ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এতে কিছু সরকারি স্থাপনা ও বেসামরিক যানবাহনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ওমান উপকূলের কাছে দুটি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে, যার মধ্যে একটি জাহাজের ইঞ্জিন কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে পশ্চিমা সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ইরান দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে আইআরজিসির অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না। তারা আরও কয়েকটি জাহাজকে ফিরে যেতে বাধ্য করেছে বলেও তেহরান জানিয়েছে।

ইরাকেও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির কুর্দি অঞ্চলের দুটি সশস্ত্র গোষ্ঠী জানিয়েছে, শুক্রবার তারা হামলার শিকার হয়েছে। পাশাপাশি এরবিলের একটি তেল শোধনাগারে অগ্নিকাণ্ডের খবরও প্রকাশিত হয়েছে। দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানও অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় অবকাঠামো ধ্বংস এবং হিজবুল্লাহর স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে ইসরায়েল।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলেও কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করছে না ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনার প্রস্তাব পাঠায়নি। তবে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা চলছে।

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, সামরিক অর্জনকে স্থায়ী করতে রাজনৈতিক সমাধানও প্রয়োজন। তিনি বলেন, "আমরা বিজয় অর্জন করেছি। এখন সেই বিজয়কে স্থায়ীভাবে নিশ্চিত করতে হবে।" অন্যদিকে রাজধানী তেহরানে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্মরণে প্রতিশোধের বার্তা সম্বলিত ব্যানার ও প্রচারণা চালানো হচ্ছে। দেশটির রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যমগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত রাখার আহ্বান জানাচ্ছে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...