ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালালে কঠোর পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সামরিক হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে।
ইরানের যুদ্ধকালীন সামরিক কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল আলী আবদোল্লাহি এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র পুরো অঞ্চলকে একটি বৃহত্তর যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবেশী দেশগুলোর সম্পদ ও অবকাঠামো নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে এবং ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা জোরদার করছে। তিনি মুসলিম দেশগুলোর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। জেনারেল আবদোল্লাহি সতর্ক করেন যে, কোনো দেশ যদি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্বার্থ রক্ষায় ভূমিকা রাখে, তবে সেই দেশও যুদ্ধের আগুন থেকে রেহাই পাবে না।
এই সতর্কবার্তা এমন এক সময়ে এসেছে যখন মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল খুব শিগগিরই ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, পেট্রোকেমিক্যাল কারখানাসহ গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোতে ব্যাপক হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে। প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও চূড়ান্ত অনুমোদন না দিলেও সম্ভাব্য এই অভিযান দুই সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি গবেষণা সংস্থা জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের সামরিক অভিযানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত কমে এসেছে। সংস্থাটির তথ্যমতে, প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত এক হাজারের নিচে এবং থাড ব্যবস্থার সংখ্যা প্রায় ২৫০-এ নেমে এসেছে।
ইরানের রাষ্ট্র-ঘনিষ্ঠ একটি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে বড় ধরনের পাল্টা হামলার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। এর আগে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালাতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা, এমন হামলা হলে ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোতে পাল্টা আঘাত হানতে পারে এবং এতে বিশ্ববাজারে তেলের বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হতে পারে।
গত কয়েক দিনে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী বৃহস্পতিবার ভোরে ইরানের অন্তত পাঁচটি প্রদেশে হামলা চালায়। ওয়াশিংটনের দাবি, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল আইআরজিসির কমান্ড সেন্টার, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি, উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।



মতামত (0)