আন্তর্জাতিক

কানাডার প্রতি ট্রাম্পের 'অঙ্গরাজ্যের সুবিধা' চাওয়ার অভিযোগ, বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে গেল

কানাডার প্রতি ট্রাম্পের 'অঙ্গরাজ্যের সুবিধা' চাওয়ার অভিযোগ, বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে গেল
কানাডার প্রতি ট্রাম্পের 'অঙ্গরাজ্যের সুবিধা' চাওয়ার অভিযোগ, বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে গেল
যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, কানাডা অঙ্গরাজ্য না হয়েও রাষ্ট্রের সুবিধা নিতে চাইছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন যে, কানাডা ‘(যুক্তরাষ্ট্রের) অঙ্গরাজ্য না হয়েও রাষ্ট্রের সুবিধাগুলো ভোগ করতে চাইছে।’ শনিবার স্থানীয় সময় গভীর রাতে দুই দেশের মধ্যকার এই বাণিজ্য আলোচনা কোনো ফলাফল ছাড়াই ভেঙে যায়। এই ঘটনা দুই দেশের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্কে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও বলেছেন, বহু বছর ধরে মার্কিন কৃষকদের কাছ থেকে 'বিপুল পরিমাণ শুল্ক' নেওয়া হয়েছে। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তিনি বারবার কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের '৫১তম অঙ্গরাজ্য' বানানোর কথা বলে আসছেন, যা কানাডার রাজনীতিবিদ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করেছে।

অন্যদিকে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি নতুন মার্কিন শুল্ককে 'ভুল হিসাব' বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেছেন, এই শুল্কের উদ্দেশ্য 'কানাডিয়ানদের ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং বিভক্ত করা'। কার্নি নিশ্চিত করেছেন যে, আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি ট্রাম্পের শুল্কের জবাবে 'ডলার-ফর-ডলার' সমপরিমাণ পাল্টা শুল্ক আরোপ করবেন।

এই পাল্টা শুল্কের মধ্যে ইস্পাত, দুগ্ধজাত পণ্য, গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি এবং ইলেকট্রনিক্স পণ্যের ওপর শুল্ক অন্তর্ভুক্ত থাকবে। কার্নি উল্লেখ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা এখন একটি 'বাণিজ্য যুদ্ধে' রয়েছে। তিনি শনিবার বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র অনেক বেশি চেয়েছিল এবং বিনিময়ে তারা খুব কম দেওয়ার প্রস্তাব করেছিল।’

কার্নি আরও বলেন, ‘তারা যা প্রস্তাব করেছে, আমরা তা গ্রহণ করতে পারি না এবং তারা যা চেয়েছে, আমরা তা দেব না।’ তিনি জানান, কানাডা নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য অনিচ্ছাসত্ত্বেও পাল্টা ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং এর বিস্তারিত আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্রকাশ করা হবে।

এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, ‘কানাডিয়ানরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধে জড়িয়ে বোকামি করেছে এবং তারা মনে করছে যে আসলে জিততে পারবে।’ সপ্তাহের শুরুতে উভয় দেশই একটি চুক্তি নিয়ে আশাবাদী ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে পরিবর্তন আনার অভিযোগ তোলার পর আলোচনা ভেস্তে যায়।

নতুন ৫০ শতাংশ মার্কিন শুল্ক কানাডার বিভিন্ন পণ্যের ওপর কার্যকর হবে। এর পাশাপাশি কানাডার ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, গাড়ি ও কাঠের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আগে থেকেই আরোপ করা শুল্ক বহাল থাকবে। নতুন শুল্কের আওতা তুলনামূলকভাবে সীমিত, যা প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের কানাডিয়ান আমদানির ওপর প্রযোজ্য হবে।

এই পরিমাণ কানাডার মোট আমদানির প্রায় পাঁচ শতাংশ। এর মধ্যে মদ, দুগ্ধজাত পণ্য, সিমেন্ট, পোশাক এবং হকি সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কানাডার রক্ষণশীল বিরোধী দলসহ অন্যান্য ফেডারেল রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা এবং কয়েকটি প্রদেশের নেতারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

অন্য দেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কর আরোপ, অর্থাৎ শুল্ক, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বাণিজ্য নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ট্রাম্পের যুক্তি, এটি যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদনশিল্পকে শক্তিশালী করবে এবং দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। তবে সমালোচকদের মতে, শুল্কের ফলে মার্কিন ভোক্তাদের ব্যয় বেড়েছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি ব্যাহত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার ঘটনাটি এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা একাধিক দফা আলোচনা ও টানাপড়েনের পর ঘটেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এই উত্তেজনা আরও তীব্র হয়ে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্র একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল, যার মধ্যে চুক্তি না হলে আরও শুল্ক আরোপ করা হতো।

একই সময়ে, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র মেক্সিকোকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যমান উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ইউএসএমসিএর বাধ্যতামূলক পর্যালোচনায়ও অংশ নিচ্ছিল। ১৯৯৪ সালের নর্থ আমেরিকান ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্টের পরিবর্তে ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। এটি কানাডা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং মেক্সিকোর মধ্যে বার্ষিক ১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলারমূল্যের ত্রিপক্ষীয় বাণিজ্যের ভিত্তি স্থাপন করে।

এর আগে গ্রীষ্মে কানাডা ও মেক্সিকো আনুষ্ঠানিকভাবে ইউএসএমসিএ আরও ১৬ বছরের জন্য নবায়নের অনুরোধ জানিয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমান শর্তে এটি নবায়ন করতে অস্বীকৃতি জানায়।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...