সারাদেশকারাবন্দি চিন্ময়ের মায়ের মৃত্যু, প্যারোলে মুক্তির সম্ভাবনা ও পুলিশের সতর্ক অবস্থান
কারাবন্দি চিন্ময়ের মায়ের মৃত্যু, প্যারোলে মুক্তির সম্ভাবনা ও পুলিশের সতর্ক অবস্থান
কারাবন্দি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মা মারা গেছেন। মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নিতে তাঁর প্যারোলে মুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যার প্রেক্ষিতে পুলিশ নিরাপত্তা জোরদার করেছে।
কারাবন্দি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মা সন্ধ্যা রাণী ধর বৃহস্পতিবার সকালে মারা গেছেন। আন্তর্জাতিক শ্রীকৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘের (ইসকন) সাবেক এই সংগঠকের মা চট্টগ্রামের হাটহাজারীর মেখল গ্রামের পুণ্ডরীক ধামে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার জন্য চিন্ময়কে শর্তসাপেক্ষে সাময়িক মুক্তি বা প্যারোল দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
চিন্ময়ের বড় ভাই রঞ্জন কুমার ধর জানান, ৭১ বছর বয়সী সন্ধ্যা রাণী ধর ফুসফুসে সংক্রমণ, নিম্ন রক্তচাপসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন। তিনি চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মায়ের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় বুধবার পরিবারের পক্ষ থেকে চিন্ময়কে প্যারোলে মুক্তি দিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করা হয়েছিল।
তবে অসুস্থতার কারণে প্যারোলে মুক্তির বিধান না থাকায় সেই আবেদনটি নাকচ করা হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, সন্ধ্যা রাণী ধরের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী বুধবার রাতে তাঁর মরদেহ হাটহাজারীর মেখল গ্রামের পুণ্ডরীক ধামে নেওয়া হয়েছিল। কারাবন্দি চিন্ময় এই মন্দিরের সেবায়েত ছিলেন।
পুণ্ডরীক ধামেই বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর মা মারা যান এবং সেখানেই তাঁর সৎকারের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। রঞ্জন কুমার ধর আরও জানান, চিন্ময়ের প্যারোলের আবেদন নিয়ে তারা আবারও জেলা প্রশাসনের কাছে যাচ্ছেন।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক জানান, চিন্ময়ের মায়ের মৃত্যুর খবর তিনি শুনেছেন। তিনি বলেন, প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত দেওয়ার সুযোগ নেই। বিচারাধীন মামলার আসামি হিসেবে কারাবন্দি চিন্ময়ের পরিবারকে আদালতে আবেদন করতে হবে। আদালতের আদেশ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম বিভাগের কারা উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি-প্রিজন্স) মোহাম্মদ ছগির মিয়াও একই কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা আদালত যেভাবে সিদ্ধান্ত দেবেন, কারা কর্তৃপক্ষ সেভাবেই ব্যবস্থা নেবে।
এদিকে চিন্ময়ের প্যারোলে মুক্তির সম্ভাবনা থাকায় পুলিশ নিরাপত্তা জোরদার করেছে। হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ বলেন, চিন্ময়কে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হলে তাঁকে হাটহাজারীতে আনা হতে পারে। এই কারণে পুণ্ডরীক ধামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত রিজার্ভ ফোর্স আনা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) কাজী আমিনুর রশিদ জানান, চিন্ময়ের মায়ের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর পুলিশ কমিশনার সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। আগের মতো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। প্যারোলে মুক্তির অনুমতি মিললে চিন্ময়কে আনা-নেওয়ার রুটেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর পারিবারিক নাম চন্দন কুমার ধর। তাঁর বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায়। তিনি সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত।
জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর চিন্ময়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরদিন তাঁকে চট্টগ্রামের আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এ সময় তাঁর অনুসারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষ হয়।
ওই ঘটনার মধ্যে আদালত-সংলগ্ন পাথরঘাটা বাণ্ডেল রোডে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন। পরে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই মামলায় চিন্ময়কে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন আদালত।
চিন্ময়ের বিরুদ্ধে মোট ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে আইনজীবী হত্যা মামলার বিচার চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে চলছে। বাকি পাঁচটি মামলায় তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন।
মতামত (0)