খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় শ্রমিক লীগ নেতা 'হাতকাটা কাশেমকে' পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে আদালত। ২০১৫ সালের ঘটনায় ২০২৪ সালে মামলা হয়।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় শ্রমিক লীগ নেতা মো. আবুল কাশেম পাটোয়ারী ওরফে ‘হাতকাটা কাশেমকে’ পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত মঙ্গলবার এই আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার পুলিশ পরিদর্শক আবদুল হান্নান কাশেমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করেছিলেন।
আদালতে আসামির উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। তদন্ত কর্মকর্তা কাশেমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জামিনের বিরোধিতা করেন এবং আসামিপক্ষের আইনজীবী মনির হোসাইন সুমন রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন জানান।
এর আগে গত ১৭ আগস্ট রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকা থেকে আবুল কাশেম পাটোয়ারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করা হলে জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। সে সময় তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, পরবর্তী সময়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হবে।
২০১৫ সালের ২০ এপ্রিল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি-সমর্থিত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে খালেদা জিয়া কারওয়ান বাজারে যান। ওই সময় বাপেক্স ভবন, পল্লী ভবন, পরিবার পরিকল্পনা অফিস ও কাব্যকস সুপার মার্কেটসংলগ্ন এলাকায় তার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলার পাশাপাশি গাড়িবহর লক্ষ্য করে ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।
হামলায় বহরের প্রায় সব গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং খালেদা জিয়ার গাড়ির কাচও ফেটে যায়। তিনি অক্ষত থাকলেও তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী ও কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছিলেন। এই ঘটনার প্রায় নয় বছর পর ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট তেজগাঁও থানায় একটি নতুন মামলা করা হয়।
বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক বেল্লাল হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ মোট ১১৩ জনকে আসামি করা হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। আবুল কাশেম পাটোয়ারী এজাহারভুক্ত ৪৯ নম্বর আসামি।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়া এবং খালেদা জিয়াকে হত্যার উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তার গাড়িবহরে হামলা চালান। এতে একাধিক গাড়ি ভাঙচুর এবং বিএনপির নেতাকর্মী ও খালেদা জিয়ার নিরাপত্তায় থাকা সিএসএফ সদস্যরা গুরুতর আহত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মামলাটিতে দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৪৭, ১৪৮, ৩২৩, ৩২৫, ৩০৭, ৪২৭ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে তেজগাঁও, গুলশান ও মানিকগঞ্জ সদর থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইন, হত্যাচেষ্টা ও দাঙ্গা-হাঙ্গামাসহ বিভিন্ন অভিযোগে আরও কয়েকটি মামলা রয়েছে। মামলার অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন এবং সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আবুল কাশেমকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান।
মতামত (0)