সারাদেশক্লিনিকে নবজাতকের মৃত্যু ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ
ক্লিনিকে নবজাতকের মৃত্যু ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ
বাঘার জননী ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের পর নবজাতকের মৃত্যু এবং এক সংবাদকর্মীর ভিডিও মুছে ফেলার চেষ্টার ঘটনায় অব্যবস্থাপনা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগ উঠেছে। একটি তদন্ত দল ক্লিনিক পরিদর্শন করেছে।
বাঘার জননী ক্লিনিকে প্রয়োজনীয় নবজাতক পরিচর্যা ইউনিট ও দক্ষ জনবল ছাড়াই ঝুঁকিপূর্ণ অপারেশন পরিচালনা এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগ উঠেছে। ক্লিনিকের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও বিভিন্ন প্রশ্ন দানা বেঁধেছে। একটি সিজারিয়ান অপারেশনের পর নবজাতকের মৃত্যু এবং এক সংবাদকর্মীর ধারণ করা ভিডিও মুছে ফেলার চেষ্টার ঘটনায় এসব অভিযোগ সামনে আসে।
জানা গেছে, গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বাঘার জননী ক্লিনিকে একজন প্রসূতির সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয়। অপারেশনের পর নবজাতকটি মুমূর্ষু অবস্থায় ছিল। দ্রুত নবজাতককে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী শহরে রেফার্ড করা হয়েছিল। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে, চিকিৎসা পাওয়ার আগেই নবজাতকটির মৃত্যু হয়।
রাজশাহী সিভিল সার্জনের নির্দেশে একটি তদন্ত দল গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) জননী ক্লিনিক পরিদর্শন করে। তদন্ত দল জানিয়েছে, তারা সিজারিয়ান অপারেশন, নবজাতকের মৃত্যু এবং ভিডিও মুছে ফেলার চেষ্টার পেছনের কারণ গভীরভাবে খতিয়ে দেখছেন। পরিদর্শনের সময় ক্লিনিকে কোনো চিকিৎসককে পাওয়া যায়নি। সেখানে তিনজন নিজেদের নার্স পরিচয় দিয়েছেন, যাদের সনদের বিষয়ে তদন্তের কাজ এখনো চলমান রয়েছে।
নবজাতককে রাজশাহী শহরে রেফার্ড করার সময় ক্লিনিকের সামনে একজন স্থানীয় সংবাদকর্মী ভিডিও ধারণ করছিলেন। একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে নবজাতককে তোলার সময় এই ভিডিও ধারণ করা হয়। জাতীয় দৈনিক এবং স্থানীয় দৈনিকের ওই সংবাদকর্মীর ভিডিও ধারণের বিষয়টি ক্লিনিকে কর্মরত এক নার্সের মাধ্যমে ডাঃ আকতারুজ্জামান জানতে পারেন।
ঘটনাটি আড়াল করার উদ্দেশ্যে ডাঃ আকতারুজ্জামান ওই সংবাদকর্মীকে ডেকে কথা বলেন। কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি সাংবাদিকের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ভিডিও মুছে ফেলার চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি সাংবাদিক আব্দুল হামিদের সঙ্গে অশালীন আচরণও করেন। সাংবাদিক আব্দুল হামিদ এই ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন।
সিজারিয়ান অপারেশনের পর নবজাতকের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে ডাঃ আকতারুজ্জামান জানান, নবজাতকের গলায় নাড়ি প্যাঁচিয়ে ছিল। এর ফলে সে শ্বাস নিতে পারছিল না। প্রাথমিক পরিচর্যার পর তাকে রেফার্ড করা হয়েছিল। অ্যানেসথেসিয়ার ডাঃ তুহিন হোসেনও ডাঃ আকতারুজ্জামানের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন।
এই ঘটনা নিয়ে অনলাইন পোর্টালে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর নবজাতকের বাবা সাদ্দাম হোসেন সাহিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মন্তব্য করেন। তিনি লেখেন, “ওরা আমার ছেলেকে মেরে ফেলেছে। আমি ওদের বিচার চাই।” তবে পরদিন তাকে ক্লিনিকে ডেকে নিয়ে আসা হলে তিনি তার আগের অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেন এবং বলেন যে তার কোনো অভিযোগ নেই।
জনসাধারণ জননী ক্লিনিকের লাইসেন্স, ডাক্তার, নার্স, যন্ত্রপাতি এবং চিকিৎসা পদ্ধতি সরেজমিনে যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। স্থানীয়রা ক্লিনিকের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের জিজ্ঞাসা, ক্লিনিকে স্থায়ী চিকিৎসক ও সিনিয়র নার্স, নবজাতকের নিবিড় পরিচর্যার জন্য আলাদা ওয়ার্ড, ওটি ও অপারেশনের সরঞ্জাম, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, অগ্নি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সহ জরুরি রোগী পরিবহনের জন্য ক্লিনিকের নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস আছে কিনা।
এছাড়াও, মুমূর্ষু নবজাতককে রেফার্ডের সময় সংবাদকর্মীর স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে ভিডিও মুছে ফেলার চেষ্টা করার কারণ কী, তা নিয়েও স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এই ক্লিনিকে পূর্বেও অপারেশন পরবর্তী মৃত্যু এবং জটিলতার ঘটনা ঘটেছে। এই বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর অনেক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মন্তব্য করে এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল জনস্বার্থে স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আসাদুজ্জামান আশাদ বলেছেন, তদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মতামত (0)