পরিবেশ

লামায় অবৈধ বালি উত্তোলনে পরিবেশ ও জনজীবন ঝুঁকিতে

লামায় অবৈধ বালি উত্তোলনে পরিবেশ ও জনজীবন ঝুঁকিতে
লামায় অবৈধ বালি উত্তোলনে পরিবেশ ও জনজীবন ঝুঁকিতে
হুমকিতে পরিবেশ, ঝুঁকিতে জনজীবন | দৈনিক পূর্বকোণদৈনিক পূর্বকোণ হুমকিতে পরিবেশ, ঝুঁকিতে জনজীবন | দৈনিক পূর্বকোণ শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬ কুরআন-হাদিসে মৌমাছি ও মধু পানের গুরুত্ব হুমকিতে পরিবেশ, ঝুঁকিতে জনজীবন মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, লামা ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ | ১২:৫৮ অপরাহ্ণ বান্দরবানের লামা উপজেলার মাতা

বান্দরবানের লামা উপজেলায় মাতামুহুরী নদী, পাহাড়ি ঝিরি, খাল ও ফসলের মাঠ থেকে অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রভাবশালীরা দিন-রাতে অবাধে বালি তোলায় পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। শ্যালো মেশিন ব্যবহার করে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে এই কার্যক্রম চলছে।

লামা পৌরসভার মাতামুহুরী নদী, সরই ইউনিয়নের পলু, হরি, সরই, ডলু খাল এবং ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের হারগাজা, পুকুরিয়া খোলা, বগাইছড়ি, লাইল্যারমারপাড়া, উত্তর মালুম্যা, বড় ছনখোলা, চাককাটা, পেতাইন্যাছড়া ও কমিউনিটি সেন্টারসহ ২৫টিরও বেশি স্থান থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন ও পাচার চলছে। সরই ইউনিয়নের আমতলী, ধূইল্যাপাড়া, সালাম মেম্বারপাড়া, কিল্লারছড়া, বাগডেপা ও পুলাং এলাকায়ও বালি উত্তোলন হচ্ছে।

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা ও স্থানীয় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ বালি উত্তোলনে জড়িত। ক্ষমতার পরিবর্তনের সাথে সাথে সিন্ডিকেট ও ব্যক্তির পরিবর্তন হলেও বালি উত্তোলন বন্ধ হয়নি।

বালি উত্তোলনের ফলে নদী ও খালগুলো তাদের প্রকৃত রূপ, পানি ও স্রোত হারাচ্ছে। বসতবাড়ি, ফসলি জমি, সড়ক ও ব্রিজ বিলীন হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে খালগুলোতে পানি শুকিয়ে যায় এবং ফসলি জমিতে ভাঙন দেখা দেয়।

স্থানীয় প্রশাসন মাঝেমধ্যে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জরিমানা করে থাকে, তবে স্থানীয়রা এটিকে যথেষ্ট মনে করেন না। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা না থাকার অভিযোগ তুলেছেন। বালি উত্তোলন ও পরিবহণে জড়িতরা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় এলাকার লোকজন তাদের বাধা দিতে সাহস পাচ্ছে না।

বালিমহাল আইন অনুসারে, বিপণনের উদ্দেশ্যে কোনো উন্মুক্ত স্থান, ছড়া, খাল বা নদীর তলদেশ থেকে বালি উত্তোলন করা নিষিদ্ধ। এ ছাড়া সেতু, কালভার্ট, ড্যাম, ব্যারাজ, বাঁধ, সড়ক, মহাসড়ক, বন, রেললাইন, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা অথবা আবাসিক এলাকা থেকে বালি উত্তোলন করা যাবে না। তবে সরই ইউনিয়নের দুমছাবিল, ছালাম মেম্বার পাড়া, ডলুছড়ি বাজার, পুলাংপাড়া, বাগডেপা, ধূইল্যাপাড়া, কেয়াবন্যা, হাসনাভিটা, ডলুছড়ি বাজার পাড়া, ঝটকি বনিয়া পাড়া, আমতলী মুসলিমপাড়া ও কিল্লাখোলাসহ বিভিন্ন সড়ক সংলগ্ন স্থানে এই আইন উপেক্ষা করে অবাধে বালি উত্তোলন চলছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শ্যালো মেশিনের চালক জানান, তারা চুক্তিতে বালি উত্তোলন করছেন এবং এর জন্য প্রশাসনের কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। স্থানীয় গৃহবধূ নুরজাহান বেগম বলেন, খাল থেকে বালি তোলার কারণে পানি কমার পাশাপাশি ফসলি জমিতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বালি পরিবহনের কারণে কেয়াজুপাড়া-সুয়ালক-লোহাগাড়া, ডলুছড়ি-পুলংপাড়া, লামা-কেয়াজুপাড়া ও কিল্লাখোলা-পুটিবিলা সড়কের প্রায় স্থানের দু’পাশ দেবে গেছে।

তিনি আরও জানান, দ্রুত বালি পরিবহনের গাড়ি চলাচল বন্ধ করা না হলে অচিরেই সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। উত্তোলিত বালি বড় বড় ট্রাকে করে লোহাগাড়া ও সাতকানিয়ায় বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হয়। গ্রামীণ সড়ক ও ব্যক্তি মালিকানাধীন আবাদি জমি রক্ষায় স্থানীয়রা অবৈধ বালি উত্তোলন বন্ধ ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...