আন্তর্জাতিক

লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে ফি আদায়ের খবর অস্বীকার হুথিদের

লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে ফি আদায়ের খবর অস্বীকার হুথিদের
লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে ফি আদায়ের খবর অস্বীকার হুথিদের
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের জন্য ফি আদায়ের পরিকল্পনার খবর অস্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, এই নৌপথ দিয়ে চলাচল সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে থাকবে।

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের পরিকল্পনার খবর অস্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, এই নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে থাকবে। হুথি-নিয়ন্ত্রিত হিউম্যানিটারিয়ান অপারেশনস কো-অর্ডিনেশন সেন্টার (এইচওসিসি) এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করে।

এইচওসিসি বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল তদারকির দায়িত্বে রয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, তাদের দেওয়া ‘নিরাপদ যাতায়াত সেবা’ স্বেচ্ছাসেবাভিত্তিক এবং এর জন্য কোনো অর্থ নেওয়া হয় না। বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, কেউ যদি এই পথ দিয়ে চলাচলের জন্য অর্থ দাবি করে, তাহলে সে ইয়েমেন বা এইচওসিসির প্রতিনিধিত্ব করে না।

সংস্থাটি জাহাজ পরিচালনাকারী কোম্পানিগুলোকে অননুমোদিত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থ পরিশোধ না করার আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়া, অননুমোদিত কোনো পক্ষের সঙ্গে তথ্য ভাগাভাগি না করার জন্যও তারা সতর্ক করেছে।

এর আগে আঞ্চলিক সূত্রের বরাত দিয়ে গত সপ্তাহে একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা জানায়, ইরান-সমর্থিত হুথিরা বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ফি আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে। সশস্ত্র গোষ্ঠীটি সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণার এক সপ্তাহ পর এই খবর প্রকাশিত হয়।

সূত্রগুলো জানায়, জুলাই মাসের শুরুতে তেহরানে হুথি প্রতিনিধিদলের সফরের সময় এই প্রস্তাব ইরানি কর্মকর্তাদের সামনে তোলা হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, ফি নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি কর্তৃপক্ষ গঠনে ইরানি উপদেষ্টারা সহায়তা করছেন।

বাব আল-মানদেব প্রণালি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হিসেবে পরিচিত। এই পথ দিয়ে এশিয়া, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে জ্বালানি তেলসহ বিভিন্ন পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করে।

হরমুজ প্রণালিতে বিঘ্ন চলতে থাকায় সৌদি আরব বিকল্প রফতানি পথ হিসেবে ক্রমেই বাব আল-মানদেবের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে। বাব আল-মানদেবে টোল আরোপ করা হলে সৌদি আরব সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

২০২৩ সালে গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই হুথিরা লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে আসছে। গত বছরের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর তারা সাময়িকভাবে এসব হামলা বন্ধ করে।

জাতিসংঘের এক বিশেষজ্ঞ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে হুথিরা জাহাজ এজেন্টদের কাছ থেকে অনানুষ্ঠানিকভাবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ আদায় করে থাকতে পারে। তবে এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ২০২৩ সালের আগের তুলনায় বাব আল-মানদেব দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনো স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসেনি।

নতুন হুমকির জবাবে সৌদি আরব চলতি সপ্তাহে ১৪ দেশের একটি সামুদ্রিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এই জোটের লক্ষ্য হলো বাব আল-মানদেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...