সারাদেশ

আত্মহত্যা প্রতিরোধে মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় অগ্রাধিকারের আহ্বান

আত্মহত্যা প্রতিরোধে মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় অগ্রাধিকারের আহ্বান
আত্মহত্যা প্রতিরোধে মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় অগ্রাধিকারের আহ্বান
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা আত্মহত্যা প্রতিরোধে মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে অগ্রাধিকার দিতে এবং আত্মহত্যাপ্রবণ ব্যক্তির প্রতি সহানুভূতি ও সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার অডিটোরিয়ামে ‘চেইঞ্জিং দ্য ন্যারেটিভ অন সুইসাইড’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে এই সেমিনারটির আয়োজন করে ব্রাইটার টুমোরো ফাউন্ডেশন (বিটিএফ) নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা আত্মহত্যা প্রতিরোধে মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন। একই সাথে তাঁরা আত্মহত্যামূলক আচরণকে জনস্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানান।

সেমিনারের আলোচকেরা উল্লেখ করেন, পরিবারের কোনো সদস্য, বন্ধু, সহপাঠী বা সহকর্মীর মধ্যে যদি আত্মহত্যার প্রবণতা বা লক্ষণ দেখা যায়, তবে তাঁর প্রতি তাৎক্ষণিক সাড়া দেওয়া উচিত। এ সময় সহানুভূতি দেখানো জরুরি। পাশাপাশি তাঁর অব্যক্ত কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনে মানসিক যন্ত্রণা প্রশমনে সহায়তা করতে হবে। সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজে বের করার পাশাপাশি কাউন্সেলিং ও মানসিক স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞদের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন। আত্মহত্যা প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন আরও জোরদার করার আহ্বানও জানান সেমিনারের বক্তারা।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. ফারজানা রহমান সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য তুলে ধরে জানান, প্রতিবছর বিশ্বে সাত লাখের বেশি মানুষ আত্মহত্যায় মারা যান। বিশ্বজুড়ে সংঘটিত আত্মহত্যার প্রায় ৭৭ শতাংশই ঘটে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে। ডা. ফারজানা রহমান আরও জোর দিয়ে বলেন, সর্বোচ্চ মানের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া মানুষের মৌলিক অধিকার। আত্মহত্যামূলক আচরণকে জনস্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে অগ্রাধিকার দিতে হবে। পাশাপাশি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় মনোযোগ নিশ্চিত করাও অত্যন্ত জরুরি।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ব্রাইটার টুমোরো ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জয়শ্রী জামান গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রচলিত ধারণা পরিবর্তনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। এর অর্থ হলো এমন বহুমাত্রিক নীতির পক্ষে কথা বলা, যা মানসিক স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেয়। তিনি আরও বলেন, এই নীতিগুলো চিকিৎসার সুযোগ বাড়াতে এবং প্রয়োজনে সহায়তা প্রদানে ভূমিকা রাখবে।

জয়শ্রী জামান আরও উল্লেখ করেন, যাঁরা কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের প্রতি সহানুভূতি ও করুণা জাগিয়ে তোলা দরকার। তিনি আত্মহত্যার চিন্তা ও অনুভূতিকে প্রচণ্ড যন্ত্রণা ও কষ্টের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করেন। আত্মহত্যাপ্রবণ ব্যক্তির প্রতি সহানুভূতি, তাঁর কথা শোনা এবং প্রয়োজনীয় সমর্থন দেওয়া অপরিহার্য বলে তিনি জানান। ব্রাইটার টুমোরো ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আরও বলেন, অধিকাংশ মানুষ জানেন না বা বিশ্বাস করেন না যে আত্মহত্যা প্রতিরোধ করা যায়।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, প্রচলিত মিথ এবং অসংখ্য মিথ্যা ও ভুল তথ্যের ভিড়ে প্রকৃত সত্য প্রায়শই চাপা পড়ে যায়। কেউ আত্মহত্যা করতে চাইলে নানাভাবে সংকেত দেন। এ সময় যদি তাৎক্ষণিক তাঁর প্রতি সাড়া দেওয়া যায়, তাহলে তা প্রতিরোধ করা সম্ভব।

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের অধ্যাপক (অব.) কাজী লুতফুন নেসা। যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক কবিতা দিলাওয়ারও তাঁর মতামত তুলে ধরেন। বিনির্মাণ সংগঠনের সভাপতি নিলুফার বিলকিস এবং ইনারহুইল ক্লাব অব ওয়েসিস ঢাকা ডিস্ট্রিক্ট-৩৪৫-এর প্রেসিডেন্ট সাদিয়া জিনাতও সেমিনারে বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পর্বও ছিল। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার উপপ্রধান বার্তা সম্পাদক কবি জুনান নাশিত স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন। ব্রাইটার টুমোরো ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা, লেখক, গবেষক ও সংস্কৃতিকর্মী এমিলি জামানও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। নৃত্য পরিবেশন করেন সৈয়দা তাসফিয়া জাহান সাবা। ইনারহুইল ক্লাব অব লবেলিয়া ঢাকা ডিস্ট্রিক্ট-৩৪৫-এর ফাতিমা হাসনাত অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...