প্রযুক্তি

মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে রাশিয়া-ইরান নিষেধাজ্ঞা বিলের অগ্রগতি, ১০ দেশ শুল্কের আওতায়

মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে রাশিয়া-ইরান নিষেধাজ্ঞা বিলের অগ্রগতি, ১০ দেশ শুল্কের আওতায়
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে রাশিয়া-ইরান নিষেধাজ্ঞা বিলের অগ্রগতি, ১০ দেশ শুল্কের আওতায়
রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস আমদানি করা ভারতসহ দশটি দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দেওয়ার প্রস্তাব সংক্রান্ত একটি বিল মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ পার হয়েছে। বিলটিতে রাশিয়া ও ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার প্রস্তাবও রয়েছে।

রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস আমদানি করা ভারতসহ দশটি দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দেওয়ার প্রস্তাব করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ সংক্রান্ত একটি বিল মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াগত ধাপ পার হয়েছে। বিলটিতে রাশিয়া ও ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার প্রস্তাবও রয়েছে।

‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংকশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ নামের এই বিলটি মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর প্রতিনিধি পরিষদে পরবর্তী ধাপে এগিয়ে নেওয়া হয়। বিলটি ২১৪-২১১ ভোটে পাস হয়। আজ, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর বিলটির চূড়ান্ত ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে গত ৭ আগস্ট মার্কিন সিনেটে বিলটি ৮৬-১১ ভোটে পাস হয়েছিল। সিনেটে পাস হওয়া সংস্করণে রাশিয়ার জ্বালানি খাতসহ দেশটির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত ছিল। এতে রাশিয়ার তেল-গ্যাস বাণিজ্য থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা নেওয়া দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের সুযোগ রাখা হয়।

প্রতিনিধি পরিষদে জমা দেওয়া সংশোধনীতে সম্ভাব্য শুল্কের আওতায় থাকা দশটি দেশের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এই দেশগুলো হলো ভারত, চীন, তুরস্ক, আজারবাইজান, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, কাজাখস্তান ও কিরগিজস্তান।

প্রস্তাবিত আইনে রাশিয়ার নেতৃত্ব, জ্বালানি খাত এবং নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর কাজে সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান ও নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রাশিয়ার তেল পরিবহনে ব্যবহৃত তথাকথিত ‘ছায়া বহর’কেও লক্ষ্য করা হয়েছে।

ডেমোক্র্যাট সদস্য গ্রেগরি মিকস এই বিলটির সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, প্রস্তাবটি পাস হলে প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হবে। সেই ক্ষমতার ওপর পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ নাও থাকতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তি হলো, রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ ইউক্রেনের বিরুদ্ধে দেশটির যুদ্ধ পরিচালনায় সহায়তা করছে। এর ফলে রাশিয়ার জ্বালানি ক্রেতা দেশগুলোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে মস্কোর ওপর চাপ সৃষ্টির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

যদি বিলটি প্রতিনিধি পরিষদে পাস হয়, তবে পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শেষে এটি প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের জন্য যাবে। তবে চূড়ান্তভাবে আইনটি কার্যকর হতে হলে পরবর্তী ধাপগুলোও সম্পন্ন হতে হবে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...