প্রযুক্তিরোবট অলিম্পিয়াডের জাতীয় পর্ব সম্পন্ন, ভিয়েনার প্রস্তুতি শুরু
রোবট অলিম্পিয়াডের জাতীয় পর্ব সম্পন্ন, ভিয়েনার প্রস্তুতি শুরু
অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অনুষ্ঠেয় ২৮তম আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াডের জন্য বাংলাদেশের জাতীয় পর্ব শেষ হয়েছে। দুই দিনব্যাপী প্রতিযোগিতায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে বিভিন্ন পদক জিতেছে।
অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অনুষ্ঠেয় ২৮তম আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের লক্ষ্যে ঢাকায় রোবট অলিম্পিয়াডের জাতীয় পর্ব শেষ হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ও আজ শনিবার রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি) ক্যাম্পাসে দুই দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন) এই আয়োজন করে।
পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী এই জাতীয় পর্বে অংশ নেয়। মোট ৩টি স্বর্ণ, ৭টি রৌপ্য এবং ১০টি ব্রোঞ্জ পদক দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তিনজন শিক্ষার্থী কারিগরি পদক অর্জন করেছে।
ফিজিক্যাল কম্পিউটিং শ্রেণির জুনিয়র গ্রুপে সানিডেল স্কুলের ওয়াদি বিনতে হাবিব ও ওয়ারিদ বিন হাবিব রৌপ্যপদক পেয়েছে। একই গ্রুপে মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের জুবাইদাহ জাফরিন ব্রোঞ্জপদক অর্জন করেছে। সিনিয়র গ্রুপে ওয়াইডব্লিউসিএ উচ্চমাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের নুসাইবা তাজরিন স্বর্ণপদক পেয়েছে।
ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের মুয়াজ ইবনে বাশার এই গ্রুপে রৌপ্যপদক অর্জন করে। মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নাফিয়া বাসার, ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের মোহাম্মদ জারিফ বিন সালেক এবং ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের সস্মিত বণিক ব্রোঞ্জপদক লাভ করেছে। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের রাইয়ানা রুফাইদা ও ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের মো. আয়ান রহমান কারিগরি পদক পেয়েছে।
ক্রিয়েটিভ শ্রেণির জুনিয়র গ্রুপে এমেরাল্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের মুহতাসিম মাহির, মো. আবদুল্লাহীল আলীম ও মুনাওয়ার হিসান ব্রোঞ্জপদক অর্জন করেছে। সিনিয়র গ্রুপে উইলিয়াম কেরি একাডেমির জাইমা যাহিন রৌপ্যপদক লাভ করে। মিশন চ্যালেঞ্জ শ্রেণির সিনিয়র গ্রুপে ওয়াইডব্লিউসিএ উচ্চমাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের নুসাইবা তাজরিন কারিগরি পদক পেয়েছে।
রোবোটিকস কুইজ শ্রেণির জুনিয়র গ্রুপে জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজের মুহতাদী মাহরুস স্বর্ণপদক অর্জন করেছে। সেন্ট যোসেফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের মো. তৌফিক হাসান এবং আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের আজমান রসুল রৌপ্যপদক লাভ করেছে। আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুলের ফাতিন হাসনাত ব্রোঞ্জপদক অর্জন করে।
সিনিয়র গ্রুপে সেন্ট যোসেফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের মো. মাহিদ জামান স্বর্ণপদক পেয়েছে। রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের মো. আজফার হক রৌপ্যপদক অর্জন করেছে। মাইলস্টোন কলেজ, দক্ষিণখানের আকরামুল ইসলাম ও গ্লেনরিচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের আরিব জামান ব্রোঞ্জপদক লাভ করেছে।
ফিজিক্যাল কম্পিউটিং বিভাগে স্বর্ণপদকজয়ী নুসাইবা তাজরিন তার অনুভূতি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আজ পুরস্কার অর্জনটা আমার জন্য অপ্রত্যাশিত ছিল। জাতীয় দলে সুযোগ পেলে আন্তর্জাতিক পর্বে ভালো ফল করার আশা রাখি।”
কক্সবাজারের রামু থেকে ছয় সদস্যের দুটি দল নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে এসেছিলেন রামু ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আব্দুর রহিম। তিনি বলেন, “আমাদের স্কুলের শিক্ষার্থীরা অনেক দিন ধরে এই প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। আজ পুরস্কার পেলে আরও ভালো লাগত, কিন্তু পুরস্কার না পেলেও তারা অনেক কিছু শিখেছে, অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। এটা আগামী দিনে তাদের বেশ কাজে দেবে।”
আজ সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য মোহাম্মদ আহমেদ ভূঁইয়া, আইসিটি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) সাদিয়া শারমিন এবং একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অ্যানালগ লেআউট ডিজাইন ডিপার্টমেন্টের পরিচালক মুন সাদিয়া। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিডিওএসএনের সভাপতি মুনির হাসান এবং আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াডের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক লাফিফা জামাল।
মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা তার বক্তব্যে বলেন, “আজ এই আয়োজনে থাকতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। আয়োজকেরা এত বছর ধরে অসাধারণ কাজ করছে। এ জন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। আগামী দিনগুলোয় আমরা আইসিটি বিভাগ থেকে সারা দেশে এটি ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য কাজ করব।”
জাতীয় পর্বের বিজয়ীদের নিয়ে আগামী ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক দল নির্বাচনী ক্যাম্প আয়োজন করা হবে। ওই ক্যাম্পের ভিত্তিতে গঠিত জাতীয় দল ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অনুষ্ঠেয় ২৮তম আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।
ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক এই জাতীয় পর্বের হোস্ট ছিল। একটি স্বনামধন্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এই আয়োজনের গোল্ড স্পনসর হিসেবে ছিল। অন্যান্য পৃষ্ঠপোষকদের মধ্যে একটি আইটি প্রতিষ্ঠান সিলভার স্পনসর হিসেবে কাজ করেছে। কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ব্রোঞ্জ স্পনসর হিসেবে এই আয়োজনের সাথে যুক্ত ছিল। বাংলাদেশ দলের পৃষ্ঠপোষকতায় রয়েছে আইসিটি বিভাগ।
মতামত (0)