স্বাস্থ্য

মাথার ত্বকে কণা ঝরে পড়া কি শুধু খুশকি নাকি বিল্ডআপ

মাথার ত্বকে কণা ঝরে পড়া কি শুধু খুশকি নাকি বিল্ডআপ
মাথার ত্বকে কণা ঝরে পড়া কি শুধু খুশকি নাকি বিল্ডআপ
মাথার ত্বক থেকে সাদা বা হলদে কণা ঝরে পড়া সবসময় খুশকি নয়, এটি স্ক্যাল্প বিল্ডআপও হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা এর কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার জানিয়েছেন।

মাথার ত্বক থেকে সাদা বা হলদে কণা ঝরে পড়া সবসময় খুশকি নাও হতে পারে। অনেক সময় এটি ‘স্ক্যাল্প বিল্ডআপ’ এর কারণে ঘটে থাকে। রাজধানীর ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ ও কন্টিনেন্টাল হাসপাতালের একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ও সহকারী অধ্যাপক এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, স্ক্যাল্প বিল্ডআপ হলো মাথার ত্বকে অতিরিক্ত কিছু জমা হওয়া। এটি কোনো রোগ নয়, তবে এটি একটি অস্বস্তিকর সমস্যা। এই সমস্যাটির সমাধান না করা হলে বেশ কিছু জটিলতা দেখা দিতে পারে।

মাথার ত্বকের স্বাভাবিক নিঃসরণ সিবাম কিছুটা তেলতেলে হয়। নিয়মিত মাথার ত্বক পরিষ্কার না করলে এই সিবাম জমে থাকতে পারে। এছাড়া ঘাম এবং মাথার ত্বকের মৃতকোষও জমে বিল্ডআপ তৈরি করতে পারে।

অনেক সময় চুলের যত্ন বা সাজের জন্য ব্যবহৃত উপকরণের অংশবিশেষও মাথার ত্বকে জমা হয়। চুল সাজানোর স্প্রে বা জেল জাতীয় পণ্য এর উদাহরণ। এই জমাট বাঁধা অংশ থেকেই স্ক্যাল্প বিল্ডআপ তৈরি হয়।

স্ক্যাল্প বিল্ডআপের কিছু সাধারণ উপসর্গ রয়েছে। মাথার ত্বকে চিটচিটে কিছু জমা হওয়া একটি প্রধান লক্ষণ। এছাড়াও মাথার ত্বক থেকে সাদাটে, ধূসর বা হলদে কণা বা চামড়ার মতো অংশ ঝরে পড়তে পারে। মাথার ত্বকে চুলকানিও অনুভব হতে পারে।

তবে, এসব উপসর্গ দেখা দিলেই সেটিকে স্ক্যাল্প বিল্ডআপ ধরে নেওয়া উচিত নয়। অন্য কারণেও এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে, মাথার ত্বকের নির্দিষ্ট জায়গায় সমস্যা থাকলে বা মোটা আঁশের মতো কিছু ঝরে পড়লে অন্য কারণ থাকতে পারে।

স্ক্যাল্প বিল্ডআপ রোগ না হলেও এর সমাধান করা জরুরি। সমস্যাটি প্রকট আকার ধারণ করলে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে মাথার ত্বকে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। একপর্যায়ে কিছু চুল পড়ে যেতেও দেখা যায়।

তাই স্ক্যাল্প বিল্ডআপের উপসর্গ দেখা দিলে মাথার ত্বকের পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে যত্নশীল হতে হবে। নিয়মিত মাথার ত্বক পরিষ্কার করা প্রয়োজন। নিজের মাথার ত্বক ও চুলের ধরন বুঝে শ্যাম্পু ব্যবহার করা উচিত।

ক্ল্যারিফাইং শ্যাম্পু, যা ডিপ-ক্লিনজিং বা গভীর পরিচ্ছন্নতাকারী হিসেবে পরিচিত, এক্ষেত্রে বেশ কার্যকর হতে পারে। তেল ব্যবহারে কিছুদিন বিরতি দেওয়া ভালো। একান্তই তেলের প্রয়োজন হলে চিটচিটে নয় এমন তেল বেছে নেওয়া যেতে পারে।

জেল বা স্প্রে-জাতীয় উপকরণের ব্যবহার কমিয়ে আনা উচিত। মাথা ঘেমে গেলে তা মুছে নিতে হবে এবং বাড়ি ফিরে গোসল করা ভালো। যারা লম্বা সময় মাথা ঢেকে রাখেন, তাদের সুবিধাজনক স্থানে গিয়ে মাথার ত্বকে ও চুলে বাতাস দেওয়া দরকার।

তারা ছোট একটি ফ্যান সঙ্গে রাখতে পারেন এবং কাজের বিরতিতে ওয়াশরুমে গিয়ে কিছু সময়ের জন্য ফ্যানটি ব্যবহার করতে পারেন। মাথার ত্বকে কন্ডিশনার ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা উচিত। কন্ডিশনার শুধুমাত্র চুলে ব্যবহার করতে হয়।

মাথার ত্বকে জমা হওয়া বাড়তি অংশ নখ দিয়ে ঘষে তোলার বা টেনে তোলার চেষ্টা করা উচিত নয়। একটানা লম্বা সময় মাথার ত্বক ঢেকে রাখা যাবে না, কারণ তাতে ঘাম সহজে জমা হয়। সারা রাত মাথায় তেল রাখা থেকেও বিরত থাকতে হবে।

কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। মাথার ত্বকে ব্যথা বা প্রচণ্ড চুলকানি হলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া প্রয়োজন। মাথার ত্বক লালচে হয়ে গেলে বা নির্দিষ্ট কোনো অংশ থেকে চুল পড়ে যেতে থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বেশ কিছুদিন ধরে করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়গুলো মেনে চলার পরও যদি সমস্যাটি দৃশ্যমানভাবে কমতে শুরু না করে, তাহলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সেবোরিক ডার্মাটাইটিস, খুশকি বা সোরিয়াসিসের মতো রোগেও এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তাই ছোটখাটো ব্যাপার ভেবে বিষয়টিকে অবহেলা না করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...