স্বাস্থ্য

অস্বাস্থ্যকর খাবারের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজন ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং

অস্বাস্থ্যকর খাবারের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজন ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং
অস্বাস্থ্যকর খাবারের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজন ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং
অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও চর্বিযুক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এ অবস্থায় ভোক্তাদের স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য নির্বাচনে সহায়তার জন্য ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং (FOPL) চালুর দাবি উঠেছে।

অতিরিক্ত চিনি, লবণ (সোডিয়াম), স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং ট্রান্স-ফ্যাটযুক্ত অতি প্রক্রিয়াজাত খাবার উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও ক্যানসারসহ নানা অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। একটি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশই এসব অসংক্রামক রোগের কারণে ঘটে।

গত বছর পরিচালিত একটি ক্রস-সেকশনাল জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, দেশের প্রায় ৯৭ শতাংশ মানুষ সপ্তাহে অন্তত একবার প্যাকেটজাত খাদ্য গ্রহণ করেন। তবে প্যাকেটের পেছনে থাকা জটিল পুষ্টি তথ্য অধিকাংশ ভোক্তার পক্ষে বোঝা কঠিন। অনেক ক্ষেত্রে লবণ, চিনি, স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ট্রান্স-ফ্যাটের সঠিক পরিমাণও প্যাকেটে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ থাকে না। এর ফলে ভোক্তারা তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা ছাড়াই খাদ্য নির্বাচন করে থাকেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্যাকেটজাত খাদ্যের সম্মুখভাগে সহজবোধ্য সতর্কতামূলক লেবেল বা ‘ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং (এফওপিএল)’ চালু করা জরুরি। এই ব্যবস্থা সাধারণ মানুষকে প্যাকেটের সামনের সহজ প্রতীক দেখে দ্রুত স্বাস্থ্যকর খাবার বাছাই করতে সাহায্য করে, কারণ তারা পেছনের জটিল পুষ্টির হিসাব বোঝেন না। এই নিয়ম চালুর ফলে খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পণ্যে চিনি ও লবণের পরিমাণ কমিয়ে আরও স্বাস্থ্যকর করতে বাধ্য হবে।

একটি নেতৃস্থানীয় কার্ডিয়াক হাসপাতাল ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অধ্যাপক সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, এফওপিএল চালু করা হলে খাদ্যজনিত অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব। পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ মোকাবিলায় সবার জন্য নিরবচ্ছিন্ন ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করাও জরুরি। এই পদক্ষেপ অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড বা অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার থেকে তরুণ প্রজন্মকে দূরে রাখতেও সহায়ক হবে বলে তিনি মনে করেন।

বাধ্যতামূলক এফওপিএল চালু হলে পণ্যের সম্মুখভাগে ‘অতিরিক্ত’ সতর্কবার্তা দেখে ভোক্তারা সহজেই বুঝতে পারবেন কোন খাদ্যে ক্ষতিকর উপাদান বেশি রয়েছে। এতে সচেতনভাবে স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য বেছে নেওয়া সহজ হবে। একই সঙ্গে উৎপাদকেরাও পণ্যের গুণগত মান উন্নত করতে উৎসাহিত হবেন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

একটি জনস্বাস্থ্য স্কুলের অ্যাসোসিয়েট সায়েন্টিস্ট আবু আহমেদ শামীম উল্লেখ করেন, অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে এফওপিএল একটি বিজ্ঞানসম্মত উপায়। এটি ভোক্তাকে সহজেই অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের স্বাস্থ্যঝুঁকি বুঝতে সাহায্য করবে।

একটি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য বিষয়ক উদ্যোগের বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড, মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস বলেন, অসংক্রামক রোগে মৃত্যু এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনা সংক্রান্ত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এফওপিএল প্রবিধানমালা দ্রুত চূড়ান্তকরণ ও বাস্তবায়ন জরুরি।

জাতীয় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের একজন সদস্য, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব জানান, এ বিষয়ে খসড়া প্রবিধানমালাটি বর্তমানে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সকল প্রক্রিয়া শেষে এটি দ্রুতই চূড়ান্ত হবে।

বিশ্বে ইতিমধ্যে ৪৪টি দেশ এফওপিএল চালু করেছে, যার মধ্যে ১০টি দেশে এটি বাধ্যতামূলক। এসব দেশে ভোক্তাদের খাদ্য নির্বাচনে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ কমেছে বলে তথ্য রয়েছে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...