দিনের ক্লান্তি নিয়ে রাতে বিছানায় শুয়েও অনেকের ঘুম আসে না। পায়ে অস্বস্তিকর অনুভূতি এর কারণ হতে পারে, যা পা নাড়ানোর তীব্র ইচ্ছার জন্ম দেয়। এই অস্বস্তি কমাতে পা নাড়ালে বা হাঁটলে কিছুটা আরাম পাওয়া যায়, কিন্তু স্থির হলেই একই অনুভূতি ফিরে আসে। দীর্ঘ সময় ধরে অনেকে এই সমস্যায় ভোগেন।
এটি একটি স্বীকৃত স্নায়বিক রোগ, যার নাম রেস্টলেস লেগ সিনড্রোম বা আরএলএস। এই রোগ গুরুতর না হলেও এটি ঘুম, কর্মক্ষমতা, মানসিক স্বস্তি এবং সামগ্রিক জীবনমানকে গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে। বিশ্রামে থাকলে বা শুয়ে থাকলে এই সমস্যা বাড়ে। সন্ধ্যা বা রাতে উপসর্গগুলো সবচেয়ে বেশি তীব্র হয়।
অনেক রোগী পায়ে পিঁপড়া হাঁটার মতো অনুভূতি, টান লাগা বা কিলবিল করার মতো অস্বস্তি অনুভব করেন। কেউ কেউ রাতে ঘুমানোর সময় আরাম পেতে পায়ে দড়ি বা কাপড় দিয়ে গিঁট বাঁধেন। পা নাড়ানোর বা নাচের মতো ইচ্ছা এই রোগের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য।
আরএলএস-এর সঠিক কারণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, মস্তিষ্কে আয়রনের স্বল্পতা এবং ডোপামিন নামের রাসায়নিক বার্তাবাহকের কার্যকারিতার পরিবর্তনের সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে। তাই শুধু রক্তশূন্যতা আছে কি না, তা পরীক্ষা করলেই হয় না, অনেক সময় আয়রন প্রোফাইল ও ফেরিটিন পরীক্ষা করাও প্রয়োজন হয়।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি ঘুমের সমস্যা ও পেশির অস্বস্তি বাড়াতে পারে। তাই সবুজ শাকসবজি, ডাল, বাদাম ও বীজজাতীয় খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা উপকারী। আয়রনজনিত রক্তশূন্যতা, গর্ভাবস্থা, দীর্ঘমেয়াদি কিডনির রোগ, পরিবারে একই রোগের ইতিহাস এবং কিছু স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে আরএলএস বেশি দেখা যায়।



মতামত (0)