আন্তর্জাতিক

মক্কার কাছে হুথি ড্রোন ভূপাতিত, সৌদি জোটের দাবি

মক্কার কাছে হুথি ড্রোন ভূপাতিত, সৌদি জোটের দাবি
মক্কার কাছে হুথি ড্রোন ভূপাতিত, সৌদি জোটের দাবি
সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট গতকাল (মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর) মক্কার কাছে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর একটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে। জোট এটিকে মক্কাকে লক্ষ্য করে হুথিদের দ্বিতীয় হামলার চেষ্টা বলে উল্লেখ করেছে, তবে হুথি কর্মকর্তারা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানিয়েছে, গতকাল (মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর) ইয়েমেনের সশস্ত্র হুথি গোষ্ঠীর ছোড়া একটি ড্রোন পবিত্র নগরী মক্কার কাছে ভূপাতিত করা হয়েছে। সৌদির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ড্রোনটি ধ্বংস করে। সৌদি জোটের দাবি, মক্কাকে লক্ষ্য করে এটি হুথিদের দ্বিতীয় হামলার চেষ্টা ছিল।

জোটের একজন মুখপাত্র আজ (বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি এক বিবৃতিতে জানান, ২০১৭ সালের জুলাইয়ে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পর এটি ছিল মক্কাকে লক্ষ্য করে হুথিদের দ্বিতীয় প্রচেষ্টা। তিনি বলেন, মক্কা ইসলাম ধর্মের অন্যতম পবিত্র স্থানগুলোর কেন্দ্রবিন্দু এবং বার্ষিক হজ পালনের মূল কেন্দ্র; তাই এর নিরাপত্তা একটি 'রেড লাইন' বা অলঙ্ঘনীয় বিষয়।

তবে হুথি কর্মকর্তারা মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। হুথি রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-ফারাহ এই অভিযোগকে "সম্পূর্ণ মিথ্যা" বলে অভিহিত করেন। হুথি-পরিচালিত সাবা বার্তা সংস্থায় প্রকাশিত মন্তব্যে তিনি এই কথা জানান।

এই ঘটনা ইরান-ঘনিষ্ঠ হুথি যোদ্ধাদের ধারাবাহিক হামলার মধ্যেই ঘটল, যা সৌদি আরবকে এই যুদ্ধে আরও গভীরভাবে জড়িয়ে ফেলেছে। গতকাল সৌদি আরব মক্কার জন্য নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছিল।

গত এক সপ্তাহে হুথিরা সৌদি আরবের ওপর বেশ কয়েকটি বড় ধরনের হামলার ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে গত সোমবার একটি বিমান ঘাঁটিতে চালানো হামলাও অন্তর্ভুক্ত, যা তারা ইয়েমেনে চালানো বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবে দাবি করেছে। জোটের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই হামলায় ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন।

গত শুক্রবার সৌদি আরবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ—আরব মরুভূমির ওপর দিয়ে যাওয়া 'ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন'—অচল করে দেওয়া হয়। সৌদি আরব এই হামলার জন্য ইরাক-ভিত্তিক ইরান-পন্থী একটি গোষ্ঠীকে দায়ী করেছে। প্রায় সাত মাস ধরে চলা যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় এই ১,২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইনটি দেশটির প্রধান রপ্তানি পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হুথিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের কিছু অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এই এলাকাটি বাব আল-মান্দেব প্রণালীর ওপর অবস্থিত, যা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌ-চলাচলের পথ। এর ফলে হরমুজ প্রণালী থেকে ঘুরিয়ে আনা সৌদি আরবের তেল রপ্তানি কার্যক্রম হুমকির মুখে পড়েছে।

শুক্রবার হামলার পর পাইপলাইনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ব্যবসায়ীদের মতে, এটি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ৪ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। কবে নাগাদ এর কার্যক্রম পুনরায় শুরু হতে পারে, সে বিষয়ে সৌদি আরব কিছু জানায়নি।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট গতকাল (মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছেন যে, কয়েক দিনের মধ্যেই পাইপলাইন দিয়ে অপরিশোধিত তেল প্রবাহিত হওয়া শুরু হবে। হুথিদের এসব হামলা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

২০১৫ সাল থেকে সৌদি আরব হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত একটি জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুদ্ধবিরতির ফলে সংঘাত অনেকটাই স্তিমিত হয়ে এসেছিল, কিন্তু এই মাসে হুথিরা ইয়েমেন সরকারের মিত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে নতুন করে অগ্রসর হলে সংঘাত আবার তীব্র হয়ে ওঠে। সামরিক সহায়তা চেয়ে গত সপ্তাহে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করেছিলেন; তবে এখন পর্যন্ত সেই সহায়তা কেবল গোয়েন্দা তথ্যের আদান-প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...